img

এবার সূর্য পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে মানুষ!

প্রকাশিত :  ০৯:৪৬, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪

এবার সূর্য পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে মানুষ!

সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে পৃথিবী থেকে রওনা হয় নাসার মহাকাশযান পার্কার সোলার প্রোব। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এবার নতুন এক দিগন্তে পৌঁছতে যাচ্ছে মানবজাতি। এখন থেকে বহু বছর আগে চাঁদমামার বাড়িতে পা রাখলেও সূয্যিমামা এখনো অধরা মানুষের কাছে। সৌরজগতের নানা রহস্য উন্মোচনে মত্ত মানুষ এবার লক্ষ্য নিয়েছে সূর্য অভিযানের, আর এ জন্য চলছিল নিরলস গবেষণা। অবশেষে সূর্যের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার একটি মহাকাশযান।

বলা হচ্ছে, নাসার তৈরি ‘পার্কার সোলার প্রোব’ মহাকাশযানকে সূর্যের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানোর মিশনে পাঠানো হয়েছে। এটি সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল, যাকে ‘করোনা’ বলা হয়, সেখানে প্রবেশ করবে। এই অভিযানের মাধ্যমে সূর্যের কার্যকলাপ এবং সৌরজগতের অজানা তথ্য উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা।

এই মিশনে পার্কার সোলার প্রোবকে চরম উচ্চ তাপমাত্রা এবং ভয়াবহ বিকিরণের মুখোমুখি হতে হবে। মহাকাশযানটির চারপাশে দেওয়া হয়েছে বিশেষ কার্বন যৌগের আবরণ, যা ১,৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম। তবে অভিযান চলাকালে কয়েক দিন ধরে এটি পৃথিবীর নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ২৭ ডিসেম্বরের দিকে বিজ্ঞানীরা এর থেকে সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এটি টিকে আছে কি না, তা ওই সংকেতের মাধ্যমেই জানা যাবে।

২০১৮ সালে উৎক্ষেপিত পার্কার সোলার প্রোবের আগে ২১ বার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করেছে। এবার এটি সূর্যের পৃষ্ঠ থেকে মাত্র ৩৮ লাখ মাইল দূরত্বে গিয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছে। ঘণ্টায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মাইল গতিতে চলতে সক্ষম মহাকাশযানটি এখন পর্যন্ত তৈরি করা মানবসৃষ্ট যে কোনো বস্তুর তুলনায় দ্রুতগামী।

বিজ্ঞানীদের মতে, এ অভিযান সূর্যের বাইরের বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে বহু অজানা তথ্য সরবরাহ করবে। বিশেষ করে করোনার তাপমাত্রা কেন এত বেশি, সে রহস্য উন্মোচিত হতে পারে। এ ছাড়া সৌর বায়ু, যা চার্জযুক্ত কণারপ্রবাহ হিসেবে নির্গত হয় এবং পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ায় মেরুজ্যোতির সৃষ্টি করে, তা আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।

সূর্যের গোপন রহস্য উদ্ঘাটনে পার্কার সোলার প্রোবের এই মিশন বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ তথ্য মহাকাশ আবহাওয়া, সৌরবায়ুর প্রভাব এবং পৃথিবীর বৈদ্যুতিক ও যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ওয়েলসের ফিফথ স্টার ল্যাবসের মহাকাশ গবেষক জেনিফার মিলার্ড জানান, ‘সূর্য ও এর কার্যকলাপ বুঝতে পারা পৃথিবীর যোগাযোগব্যবস্থা এবং দৈনন্দিন জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

গাজায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস

প্রকাশিত :  ০৬:১২, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩৩, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এক ধরনের ভয়াবহ শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস। এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ভেঙে পড়েছে অঞ্চলটির নাজুক স্বাস্থ্যব্যবস্থা। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

গাজা সিটির আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের মেডিকেল পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানান, শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নজিরবিহীন এক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মধ্যে আছি।’

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ভাইরাসটি ফ্লু বা করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অপুষ্টি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং টিকাদানের অভাবের কারণে সব বয়সী মানুষের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে।

রোগীদের মধ্যে দীর্ঘদিন জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে। শীত, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও তাঁবুতে গাদাগাদি করে থাকা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

এদিকে গাজার হাসপাতালগুলোতে তীব্র ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট চলছে। অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানসারের ওষুধ, কিডনি ডায়ালাইসিস ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসাসামগ্রী প্রায় নেই বললেই চলে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও চরম সংকটে রয়েছে।

আবু সালমিয়া অভিযোগ করেন, ইসরায়েল গাজায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তার দাবি, জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী আটকে দেওয়া হলেও অপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও পরীক্ষাগার সামগ্রী গাজায় প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর