img

খালেদা জিয়াকে বরণে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য বিএনপি

প্রকাশিত :  ১০:৩৩, ০৭ জানুয়ারী ২০২৫

খালেদা জিয়াকে বরণে প্রস্তুত যুক্তরাজ্য বিএনপি

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য লন্ডন আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উজ্জীবনা বিরাজ করছে যুক্তরাজ্য বিএনপিতে। প্রিয় নেত্রীকে দেখার জন্য দলের নেতাকর্মীরা উন্মুখ হয়ে আছে। নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। 

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কাতার আমিরের পক্ষ থেকে পাঠানো অত্যাধুনিক আইসিইউ সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা করবেন বিএনপি নেত্রী।

এর মধ্যদিয়ে ৭ বছর পর বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হচ্ছে ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের। 

যদিও খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা জনিত কারণে আগের বছরের মতো এবছর নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মতো কর্মসূচি থাকছে না। তাছাড়া পুরো বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

যুক্তরাজ্য বিএনপি সভাপতি ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এমএ মালেক বলেন, চেয়ারপারসনের আগমণকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে বিমানবন্দর, হাসপাতাল বা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় ভিড় করতে না পারেন সেজন্য যুক্তরাজ্য বিএনপির পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

স্বৈরাচার হাসিনা সরকার বেগম খালেদা জিয়াকে কারাগারে আটক রেখে চিকিৎসা না দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ।

খালেদা জিয়ার সফরকে কেন্দ্র করে আজ লন্ডন সময় বিকেল ৩টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা) এক প্রস্তুতি সভা যেকেছে যুক্তরাজ্য বিএনপি। 

সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী এয়ার এম্ব্যুলেন্সটি ৮ জানুয়ারি সকাল ১০টায় যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে তিনি ভিআইপি প্রটোকল পাবেন। সেখানে তাকে রিসিভ করবেন বড় ছেলে তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। যাত্রা পথে তিনি কাতারে এক ঘণ্টা বিরতি নেবেন।

জানা গেছে, সেখান থেকে তাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে লন্ডনের সবচেয়ে পুরানো বিশেষায়িত হাসপাতাল লন্ডন ক্লিনিকে। সেখানে ডা. প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলবে। চিকিৎসার সামগ্রিক সমন্বয় করবেন তার পুত্রবধূ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জোবায়দা রহমান এবং অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের মেডিকেল টিম। 

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকও লন্ডনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সবকিছু নির্ভর করছে তার স্বাস্থ্যের অবস্থার উপর। প্রয়োজন হলে তাকে যুক্তরাষ্ট্রেও নেয়া হতে পারে।

এর আগে ২০১৭ সালের ১৬ জুলাই খালেদা জিয়া লন্ডন গিয়েছিলেন। হাসিনা সরকারের একাধিক মামলার পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ওই বছরের ১৮ অক্টোবর দেশে ফেরেন তিনি। ওই সময় তিনি যুক্তরাজ্যের ডা. হ্যাডলি ব্যারির চিকিৎসা গ্রহণ করেন। 

প্রসঙ্গত, ৭৯ বছর বয়সী সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন। 

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১২:১৮, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

শাহেদ রাহমান সভাপতি ও আব্দুল বাছির সেক্রেটারি

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা মিরর নিউজ ও ঢাকা পোস্টের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন লন্ডন বিচিত্রার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও ব্রিজ বাংলা২৪ এর সাব-এডিটর আব্দুল বাছির।

রবিরার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে পূর্বলন্ডনে অনুষ্ঠিত ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির বর্তমান সভাপতি, জগন্নাথপুর টাইমস এর সম্পাদক, অধ্যাপক সাজিদুর রহমান এর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী ইকরা বাংলা টিভির উপস্থাপক মিজানুর রহমান মীরুর পরিচালনায় এজিএম ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়।

নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাবেক স্পিকার আহবার হোসেন, সাংবাদিক মোসলেহ উদ্দিন ও সাবেক স্পিকার খালিস উদ্দিন আহমেদ। ইউকেবিআরইউ সদস্যদের উপস্থিতিতে নির্বাচন ২০২৬ ভোট গ্রহণ সুষ্টুভাবে সম্পন্ন হয়। ভোট গ্রহণ শেষে সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে ভোট গনণা করে বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন কমিশনের সদস্য বৃন্দ।

বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে আনন্দঘন পরিবেশে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নির্বাচন ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ উপলক্ষ্যে গ্রেইট ব্রিটেনের পূর্ব লন্ডনের একটি হলে সাংবাদিক ও সুধীসমাজের ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি প্রবাসীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছিল।

উল্লেখ্য ৫ জুলাই ২০১৭ খ্রিস্টাব্দে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটি প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই প্রথম বারের মতো সরাসরি ভোটের মাধ্যমে ইসিকমিটি গঠন প্রথা শুরু হলো।

ইসিকমিটি ২০২৬ নির্বাচনে বিজয়ী হলেন যারা-বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলা মিরর নিউজ ও ঢাকা পোস্টের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি, সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান। জেনারেল সেক্রেটারী পদে লন্ডন বিচিত্রার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও ব্রিজ বাংলা২৪ এর সাব-এডিটর আব্দুল বাছির।

সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে বিজয়ী বাংলা গার্ডিয়ানের কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার এস কে এম আশরাফুল হুদা, (তার প্রাপ্ত ভোট ৪৯ )।

ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ভাটির কণ্ঠের সম্পাদক ও সুনামগন্জ বার্তার রিপোর্টার ইমদাদুন খানম (তার প্রাপ্ত ভোট ৩০ ) ও বিশ্বাংলা নিউজে২৪ এর চেয়ার সাহেদা রহমান (তার প্রাপ্ত ভোট ২৬)।

এসিসটেন্ট সেক্রেটারী পদে ৩ জন প্রার্থীর মধ্যে ২ জন নির্বাচিত হয়েছেন এনআরবি ইউকে চ্যানেলের এডিটর ও হবিগন্জ এক্সপ্রেসের সম্পাদক  এ রহমান অলি (প্রাপ্ত ভোট ৫৪) ও রেড টাইমস এর আসমা মতিন, (প্রাপ্ত ৩৯)।

অর্গানাইজিং এন্ড ট্রেনিং সেক্রেটারী পদে বিজয়ী হয়েছেন —

বাংলা ভিউ এর রিপোর্টার জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি (প্রাপ্ত ভোট ৩১) তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন-

লন্ডন বাংলা পোস্টের সম্পাদক ও ভয়েস অব টাওয়ার হ্যামলেটসের রিপোর্টার মিসবাউল হক (প্রাপ্ত ভোট ২৪)।

অন্যান্য পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ট্রেজারার পদে জগন্নাথপুর টাইমস বার্তা সম্পাদক ও ইউকে বাংলা গার্ডিয়ানের নির্বাহী সম্পাদক মির্জা আবুল কাসেম, এসিসটেন্ট ট্রেজারার আনোয়ারুল হক শাহিন, মিডিয়া এন্ড আইটি সেক্রেটারী ডায়াল সিলেটের সম্পাদক ও প্রকাশক সুহেল আহমদ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও ফ্যাসিলেটিজ পদে  বাংলা সংলাপের রিপোর্টার ইমরান তালুকদার, ইসি মেম্বার নির্বাচিত হন ৩ জন – সত্যবাণীর কন্টিবিউটিং এডিটর ডক্টর আনসার আহমদ উল্লাহ, জে টাইমস টিভির অধ্যাপক মো. সাজিদুর রহমান ও ইকরাবাংলা টিভির উপস্থাপক মিজানুর রহমান মীরু।

উল্লেখ্য ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের ইসি কমিটির এই নির্বাচন ১৫টি পদের বিপরীতে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন ২১ জন সদস্য।

রবিবার বিকেলে আনন্দঘন পরিবেশে ইলেকশন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত সভাপতি ও বাংলা মিরর নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা পোস্টের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি, অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান বলেন- প্রগতিশীল চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী সাংবাদিকদের ঐক্য, অপ-সাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও প্রকৃত সাংবাদিকদের নিয়ে সকলের প্রচেষ্ঠায় বস্তুনিষ্ঠ সংবাদপ্রেরণের লক্ষ্যে গ্রেটব্রিটেনে সুন্দর, শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণে সাধ্যমত অগ্রণী ভূমিকা পালন করবো।

তিনি আরো বলেন, সংবাদপত্রে যারা কাজ করেন প্রিয় সংবাদকর্মী ভাই-বোনেরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং হচ্ছেন। এটি বিশ্বব্যাপী হচ্ছে, যা অবশ্যই নিন্দনীয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে যে সাংবাদিকরা নির্যাতিত হচ্ছেন তার তীব্র নিন্দা জানাই।

সংবাদপত্র যে প্রকৃত পক্ষে ‘ফোর্থ স্টেট’ এ ধারণাটিও মূলত শতাব্দী পুরনো। এটি নতুন নয়। চলমান জীবনে সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিহার্য। সংবাদপত্র পৃথিবীকে মানুষের মুঠোর মধ্যে দিয়েছে। স্বাধীনতা-স্বার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ, মানবাধিকার উন্নয়নে ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণে, গণতন্ত্রকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাংবাদিক এবং সংবাদপত্রের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

কমিউনিটি এর আরও খবর