img

নিজেই প্রতিরোধ করুন ক্যান্সার

প্রকাশিত :  ০৬:১০, ১১ জানুয়ারী ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:১৫, ১১ জানুয়ারী ২০২৫

নিজেই প্রতিরোধ করুন ক্যান্সার

সবাই এতকাল ‘ক্যান্সার’ শব্দটি শুনেই হাল ছেড়ে দিতেন। ভাবতেন, ক্যান্সার হলে রক্ষা তো আর নেই-ই, এটি ঠেকানোর কোনো উপায়ও বুঝি নেই। কিন্তু নানা গবেষণা আর একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে-আছে, ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় আছে বৈকি। সহজ কিছু জীবনাচার অনুসরণ করে ক্যান্সার-ঝুঁকি কমাতে পারেন আপনিও।

আর নয় ধূমপান 

ধূমপান শুধু যে ফুসফুসের ক্যান্সারের অন্যতম কারণ তা নয়, এটি খাদ্যনালী স্বরযন্ত্র মুখ-গহ্বর গলা কিডনি মূত্রথলি অগ্ন্যাশয় পাকস্থলী এমনকি জরায়ুমুখের ক্যান্সার-ঝুঁকিও বাড়ায়। আমেরিকান ক্যান্সার-বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ডেল ও রিচার্ড পেটোর মতে, মানবদেহে যত ধরনের ক্যান্সার হতে পারে তার ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রেই ধূমপান ও তামাকের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে।

তাই আর দেরি নয়, ক্যান্সার প্রতিরোধের প্রথম ধাপ হিসেবে আজই ধূমপান ছাড়ুন। কোনো ধরনের তামাকের প্রতি আসক্তি থাকলে আজই  বেরিয়ে আসুন এ প্রাণঘাতী অভ্যাস থেকে। কারণ, ধূমপানের মাধ্যমে নিজের শরীরটাকেই শুধু যে বিষময় করে তুলছেন তা নয় বরং আপনার সিগারেটের ধোঁয়া আপনার প্রিয়জন ও পরিবারের সদস্যদের ক্যান্সার-ঝুঁকিও একই হারে বাড়াচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পরোক্ষ ধূমপান সারা বিশ্বে প্রতিবছর অসংখ্য ক্যান্সারজনিত অকালমৃত্যুর কারণ।

ওজন থাকুক নিয়ন্ত্রণে

মেদস্থূল আছেন যারা, সচেতন হোন এখনই। অতিরিক্ত ওজন নীরবে আপনার খাদ্যনালী গলব্লাডার লিভার অন্ত্র লসিকাগ্রন্থি ও ব্লাড ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে চলেছে। এ-ছাড়াও মেনোপজের পর বাড়তি ও অতিরিক্ত ওজন জরায়ু ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, মেদস্থূলতা প্রায়ই দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা পরবর্তীতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

চাই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

ঠিক কোন ধরনের খাবার ক্যান্সার প্রতিরোধ করে-এর উত্তরে বিজ্ঞানীরা দিয়েছেন সেই চিরাচরিত সহজ উত্তরটিই। তাহলো, সবরকম ফলমূল ও শাক-সব্জির সমন্বয়ে একটি প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রচুর পরিমাণ আঁশ-জাতীয় খাবার থাকুক আপনার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। প্রক্রিয়াজাত শস্যদানার বদলে পূর্ণ শস্যদানা খান।

এড়িয়ে চলুন লাল মাংস (গরু মহিষ খাসি ভেড়া)। প্রক্রিয়াজাত মাংস তো একেবারেই নয়। আর অতিরিক্ত লবণ ও চিনিযুক্ত খাবার থাকুক শত হস্ত দূরে। এমন খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সার প্রতিরোধে রাখবে নিশ্চিত ভূমিকা।

রান্না করুন অল্প আঁচে

সবসময় কম আঁচে খাবার রান্না করুন। কারণ, উচ্চ আমিষযুক্ত খাবার যেমন মাছ মাংস ইত্যাদি অতিরিক্ত তাপে রান্না করলে খাবারে দুটি রাসায়নিক উপাদান (এইচসিএ ও পিএএইচ) সৃষ্টি হয় এবং মনে করা হচ্ছে যে, এগুলো ক্যান্সারের কারণ। গবেষকরা বলেন, এর পাশাপাশি যারা অতিরিক্ত ভাজা-পোড়া ও বার-বি-কিউ করা মাংস এবং এ জাতীয় খাবারে অভ্যস্ত তারা অগ্ন্যাশয়, কোলোরেক্টাল ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকিতে থাকেন।

এলকোহল সমাধান নয়

পরিমিত এলকোহল হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়-এ আশায় (নাকি অজুহাতে?) অনেকেই দিব্যি এলকোহল পান চালিয়ে যান বটে; কিন্তু চিকিৎসকদের বক্তব্যটা এবার তাদের প্রতি সরাসরিই-‘সঠিক জীবনযাপন পদ্ধতি ও সুস্থ খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করেই যখন আপনি হৃদরোগের ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন, এলকোহলের কোনো প্রয়োজন সেখানে আদৌ নেই। ‘উপরন্তু, এলকোহল খাদ্যনালী মুখগহ্বর গলা স্বরযন্ত্র লিভার ও স্তন ক্যান্সার এবং উচ্চ কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বাড়ায়।

ব্যায়াম হোক নিত্যদিনের করণীয়

ব্যায়াম ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। কারণ, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন-দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা সুস্থ জীবনাচারী। এ-ছাড়াও নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের হরমোন প্রবাহ, কোষবৃদ্ধির হার, ইনসুলিন সংবেদনশীলতা থাকে স্বাভাবিক। সেইসাথে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা থাকে সংহত ও অটুট।

শুধু তা-ই নয়, ক্যান্সার রোগীদের বিশেষত অন্ত্রের ক্যান্সারে ভুগছেন যারা, নিয়মিত ব্যায়ামে তাদের নিরাময় প্রক্রিয়া ও ভালো থাকার হারও তুলনামূলক সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। এ-ছাড়াও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে ব্যায়ামের ভূমিকা নিয়ে যতগুলো গবেষণা পরিচালিত হয়েছে তার প্রায় সবকটিতেই ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ফুসফুস, প্রোস্টেট ও জরায়ুর ক্যান্সার প্রতিরোধের বেলায়ও এটি সত্য।

তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবমুক্ত থাকুন, যতটা সম্ভব

দেহাভ্যন্তরে কোনো টিউমার সন্দেহে কিংবা অন্যান্য রোগের বেলায়ও এখন ব্যাপকভাবে করা হচ্ছে সিটি স্ক্যান। কিন্তু চিকিৎসক ও রোগী-সবারই জানা জরুরি যে, একবার সিটি স্ক্যান করতে গিয়েই আপনাকে বেশ ভালোরকম তেজস্ক্রিয়তার সম্মুখীন হতে হয়, যা আপনার ক্যান্সার-ঝুঁকি বাড়ায়। গবেষকরা বলেন, রোগ নির্ণয়ের জন্যে সম্ভব হলে তেজস্ক্রিয়তামুক্ত পদ্ধতি যেমন : আল্ট্রাসনোগ্রাম, এমআরআই  এসব পদ্ধতি বেছে নেয়াই নিরাপদ। পারতপক্ষে এড়িয়ে চলুন সিটি স্ক্যানের মতো পদ্ধতিগুলো। আর যদি তা করতেই হয়, তবে এর সম্ভাব্য ক্ষতির চেয়ে লাভের বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তারপর করুন।

আর, আপনার সেলফোনটিও কিন্তু আপনার মধ্যে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব বাড়ায়। অতএব, এক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব সচেতনতা জরুরি। সূত্র : হেলথ এন্ড নিউট্রিশন।

img

ঘুম ৮ ঘণ্টা হলেও কেন সকালে ক্লান্ত লাগে?

প্রকাশিত :  ১১:৪৭, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

প্রতিদিনই ৮ ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন আপনি হয়তো । আলো নিভিয়ে, বিছানায় শুয়ে, সারা রাত ঘুমিয়েও সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখছেন— শরীর ভারী, মন খারাপ, আর দিনটা শুরু হওয়ার আগেই ক্লান্ত লাগছে। যদি এই অভিজ্ঞতা আপনার হয়ে থাকে তবে এতে আপনি একা নন। বর্তমান সময়ে অনেকেই এই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এর কারণ ঘুমের পরিমাণ নয় ঘুমের মানটাই আসল বিষয়।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে বলা হয়ে থাকে প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের পুনরুদ্ধারের জন্য অপরিহার্য। কিন্তু ঘুমবিজ্ঞান ও শিশু স্নায়ুবিজ্ঞানে ২০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞ ড. ক্রিস্টোফার জে. অ্যালেন বলেছেন— তোমার আরও বেশি সময় ঘুমের দরকার নেই বরং ভালো ঘুমের দরকার।

তিনি বলেন, অনেকেই ৮ ঘণ্টা ঘুমালেও সকালে ক্লান্ত বোধ করেন। এর কারণ হলো ঘুমের মান খারাপ হওয়া— অর্থাৎ ঘুমের চক্র (light sleep, deep sleep, REM) ঠিকভাবে সম্পন্ন না হওয়া।

নিন্মলিখিত কারণগুলোর জন্যও ঘুমের মান খারাপ হতে পারে:

১. নিদ্রাহীনতা/ঘুম-শ্বাস সমস্যা — গোপন শ্বাসবদ্ধতা (Sleep Apnea), শ্বাসের অনিয়ম, বা ঘুমে হঠাৎ শ্বাস থেমে যাওয়া ঘুমের মান নষ্ট করে।

২. স্ক্রীন টাইম বেশি — ঘুমের আগে মোবাইল/ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার ঘুমের গুণমান খারাপ করতে পারে। 

৩. অনিয়মিত ঘুমচক্র — রাত এবং দিন মিলিয়ে ঘুমের সময়ের অনিয়ম থাকলে ঘুম ঠিকমতো কাজ করে না।

ভালো ঘুম মানে এমন ঘুম যা গভীর, অবিচ্ছিন্ন এবং পুনরুদ্ধারমূলক (restorative)। এই সময় শরীর কোষ পুনর্গঠন করে, স্মৃতি স্থায়ী হয়, হরমোন ভারসাম্য ঠিক হয় এবং মস্তিষ্ক টক্সিন পরিষ্কার করে। তাই সময় যতই হোক— যদি এই ধাপগুলো সম্পূর্ণ না হয় আপনি সকালে ক্লান্তই থাকবেন।

ঘুমের মান ভালো রাখার ৭টি বৈজ্ঞানিক উপায়:

১. একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় মেনে ঘুমালে আবার একই সময়ে উঠলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি (circadian rhythm) স্থিতিশীল থাকে।

২. স্ক্রীন টাইম কমানো: ফোন বা ল্যাপটপের নীল আলো melatonin হরমোনের নিঃসরণ কমায় যা ঘুম বিলম্বিত করে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন বা ল্যাপটপের ব্যাবহার বন্ধ করুন। 

৩. ঘর ঠান্ডা, অন্ধকার ও নিরব রাখুন: আদর্শ ঘুমের তাপমাত্রা প্রায় ১৮–২০°C। হালকা পর্দা ও আরামদায়ক বিছানা সহায়ক ভালো ঘুমের সহায়ক।

৪. ক্যাফেইন সীমিত করুন: বিকেল বা রাতে চা–কফি এড়িয়ে চলুন। ক্যাফেইন ঘুম ভাঙার প্রধান কারণ।

৫. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন: ব্যায়াম ঘুমের মান উন্নত করে তবে ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে শেষ করুন।

৬. মানসিক প্রশান্তি আনুন: ঘুমের আগে হালকা বই পড়া, ধ্যান বা গভীর শ্বাস নেওয়া মস্তিষ্ককে শান্ত করে। এতে ঘুম ভালো হয়। 

ভালো ঘুম মানে কেবল দীর্ঘ সময় নয়—এটা এমন এক মানসম্মত বিশ্রাম, যা আপনাকে সকালে শক্তি, মনোযোগ ও ভালো মানসিক অবস্থা দেয়। তাই আজ থেকেই বেশি নয়, ভালো ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সূত্র: এনডিটিভি