img

বাংলাদেশে এইচএমপিভিতে আক্রান্ত নারীর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৫:৩৬, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২৩, ১৬ জানুয়ারী ২০২৫

বাংলাদেশে এইচএমপিভিতে আক্রান্ত নারীর মৃত্যু

বাংলাদেশে হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাসে (এইচএমপিভি) আক্রান্ত সানজিদা আক্তার (৩০) মারা গেছেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরিফুল বাশার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

গত ১২ জানুয়ারি এই নারীর এইচএমপিভিতে আক্রান্ত হওয়ার খবর আসে। জানা যাচ্ছিল ওই নারীর বিদেশ সফরের কোনো ইতিহাস ছিল না। তখন জানা যায় ওই নারীর গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের ভৈরব এলাকায়। 

১২ জানুয়ারি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ওই নারী এইচএমপিভিতে আক্রান্তের পাশাপাশি ক্লেবসিয়েলা নিউমোনিয়াতেও আক্রান্ত ছিলেন। 

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন তখন জানিয়েছিলেন এইচএমপিভি নামক ভাইরাসটিতে প্রতিবছরই দু-চারজন আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় দেশে। এটি নতুন কোনো ভাইরাস নয়। এটা শুধু চীনেই নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই পাওয়া যাচ্ছে। বাংলাদেশেও এই ভাইরাসের উপস্থিতি আরও আগে থেকেই আমরা পেয়েছি। কাজেই এটা নতুন কোনো ভাইরাস নয়। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে এইচএমপিভির চিকিৎসার জন্য কোনো নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল থেরাপি নেই এবং এইচএমপিভি প্রতিরোধ করার জন্য কোনো ভ্যাকসিন নেই। তাই রোগের উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।

এ ভাইরাস নিয়ে ভয়ের কিছু নেই বলা হলেও পার্শ্ববর্তী একাধিক দেশে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ায় এ নিয়ে সতর্কতাও জারি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। 

১২ জানুয়ারি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়— চীনসহ উপমহাদেশের বিভিন্ন দেশে এইচএমপিভি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব এবং ভাইরাসের তীব্রতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশু এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগের সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। সেই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন হাঁপানি বা ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনাবি ডিজিজ, গর্ভবর্তী নারী এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উচ্চ ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। 

পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও এই রোগের সংক্রমণ দেখা যায়। সম্প্রতি চীন ও অন্যান্য দেশে এর প্রার্দুভাব দেখা দেওয়ায় বাংলাদেশ এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা আবশ্যক। যার জন্য সব স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র এবং পয়েন্টস অব এন্ট্রিগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি জোরদার করা প্রয়োজন। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে এই ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে নিম্নে বর্ণিত নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ করা হলো। 

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে পূর্ব এশিয়ার দেশ চীনে প্রথম এর সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপর জাপানে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এখন এইচএমপিভির প্রাদুর্ভাব মালয়েশিয়া ও ভারতেও ছড়িয়ে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) বলছে, ২০০১ সালে বিশ্বে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হয়ত আরো অনেক যুগ আগে থেকেই এই ভাইরাসের অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে। কেউ কেউ বলছেন, ১৯৫৮ সাল থেকেই রোগটা আছে বলেও যোগসূত্র পাওয়া যায়।

সিডিসি বলছে, এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে যে কোনো বয়সী মানুষের ব্রংকাইটিস বা নিউমোনিয়ার মত অসুখ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এটি শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাদের ইমিউন সিস্টেম দুর্বল তাদের মধ্যেই বেশি দেখা গেছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

ইতালির সঙ্গে চুক্তি

img

ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৫:২৩, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৩৭, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। এর নাম 'ইউরোফাইটার টাইফুন'। এই বিমান কেনার জন্য ইতালির লিওনার্দো এসপিএ কোম্পানির সঙ্গে একটি 'লেটার অফ ইনটেন্ট' বা প্রাথমিক সম্মতিপত্র সই করেছে বাংলাদেশ। বিমান বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এই চুক্তি সই হয়। বিমান বাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে ইউরোফাইটার টাইফুন বিমানগুলো দেশে আসবে। এগুলো বিমান বাহিনীর মূল বহরে বা 'ফ্রন্টলাইন ফ্লিট'-এ যুক্ত হবে। এই বিমানগুলো নতুন প্রজন্মের এবং বহু ধরণের কাজ করতে সক্ষম।

দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করার কাজ চলছে। এই 'মাল্টিরোল' বা বহুমুখী ক্ষমতার যুদ্ধবিমান কেনা সেই পরিকল্পনারই অংশ।

এর আগে গত এপ্রিলে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছিল। ১১ সদস্যের ওই কমিটির প্রধান ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান। তখন চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চলছিল। ওই প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছিল ২.২ বিলিয়ন ডলার।

'ওয়ারপাওয়ারবাংলাদেশ ডট কম'-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হাতে ২১২টি আকাশযান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি যুদ্ধবিমান।