img

শহীদ মিনারে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের অবস্থান

প্রকাশিত :  ০৯:০৫, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

শহীদ মিনারে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের অবস্থান

পূর্ব ঘোষণা অনুয়ায়ী ৬ দাবিতে শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা।

আজ মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যরা অবস্থান নেন। এই কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিডিআর কল্যাণ পরিষদ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের চাকরিতে পুনর্বহাল এবং কারাবন্দিদের মুক্তিসহ ৬ দফা দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। 

সংগঠনটির সভাপতি ফয়জুল আলম বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডে প্রহসনমূলক মামলায় নিরপরাধ জেলবন্দিদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যায়ভাবে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের সরকারি সব ধরনের ক্ষতিপূরণসহ ৬ দফা অনতিবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। সেজন্য ১১, ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা লাগাতার শহীদ মিনারে অবস্থান করবো। এর মধ্যে সুখবর না এলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

চাকরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের ৬ দফা দাবিগুলো হলো-

১. পিলখানার ভেতরে ও বাইরে ১৮টি বিশেষ আদালত ও অধিনায়কের সামারি কোর্ট গঠন করে যেসব বিডিআর সদস্যকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের চাকরিতে পুনর্বহাল করতে হবে। একইসঙ্গে তাদের ক্ষতিপূরণ ও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

২. এরইমধ্যে হত্যা মামলায় খালাসপ্রাপ্ত এবং সাজা শেষ হওয়া কারাবন্দি বিডিআর সদস্যদের অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এছাড়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিস্ফোরক মামলা বাতিল করতে হবে; 

৩. গঠিত কমিশন স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য প্রজ্ঞাপনে উল্লিখিত ব্যতীত শব্দ এবং কার্যপরিধি ২ এর (ঙ) নং ধারা বাদ দিতে হবে। একইসঙ্গে স্বাধীন তদন্ত রিপোর্ট সাপেক্ষে অন্যায়ভাবে দণ্ডিত নিরপরাধ বিডিআর সদস্যদের মুক্তি দিতে হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঠিক কারণ উদঘাটন, মূল ষড়যন্ত্রকারী, হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে; 

৪. পিলখানায় শহীদ ৫৭ সেনা কর্মকর্তা, ১০ জন বিডিআর সদস্যসহ সর্বমোট ৭৪ জনের হত্যাকারীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে কারাগারে মারা যাওয়া সব বিডিআর সদস্যের মৃত্যুর সঠিক কারণ উন্মোচন করতে হবে। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকলে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে; 

৫. স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ধারণকারী বিডিআর নাম ফিরিয়ে আনতে হবে;

৬. পিলখানার হত্যাকাণ্ডে সব শহীদের স্মরণে জাতীয় দিবস ঘোষণা করতে হবে। একইসঙ্গে শহীদদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

img

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন : ডা. জাহিদ

প্রকাশিত :  ১৪:০২, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:১৩, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আপাতত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে রেখেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তবে চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন এবং রেসপন্স (সাড়া) করছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

ডা. জাহিদ বলেন, আমরা আশ্বস্ত করতে চাই খালেদা জিয়াকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তিনি আগের মতোই সেটি গ্রহণ করতে পারছেন এবং তিনি সত্যিকার অর্থে রেসপন্স করছেন। তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন যেন সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করা যায়। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা যেন তিনি (খালেদা জিয়া) পেতে পারেন, সেজন্য চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খুবই আশাবাদী, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও আশাবাদী যে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনে তাকে যে কোনো সময় দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, অনেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন। কিন্তু আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করতে চাই যেন, খালেদা জিয়ার মতো এমন একজন নেত্রীর বিষয়ে আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করি। আমরা বলতে চাই তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন এবং সংকটাপন্ন মানুষের জন্য যেটি প্রয়োজন তেমন সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা তিনি পাচ্ছেন।

এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একটি সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে জার্মানভিত্তিক একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার আসার কথা ছিল কিন্তু সেটি আসছে না। অর্থাৎ বেগম জিয়া আপাতত লন্ডন যাচ্ছেন না।

গত ১৪ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন। এদিকে বেগম জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান গত শুক্রবার দেশে এসেছেন। নিয়ম করে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন শাশুড়ির। অন্যদিকে লন্ডন থেকেও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

নভেম্বরের ২৩ তারিখে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সবশেষ কিডনি, হৃদরোগ এবং নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে তার চিকিৎসায় দেশি, বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড। অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডের অন্যতম সদস্য ডা. জুবাইদা রহমান।


জাতীয় এর আরও খবর