img

ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা এখনও সক্রিয়, ঐক্যবদ্ধতাই বিএনপির শক্তি: সালাউদ্দিন টুকু

প্রকাশিত :  ১৮:০০, ১০ মার্চ ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৯, ১০ মার্চ ২০২৫

ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা এখনও সক্রিয়, ঐক্যবদ্ধতাই বিএনপির শক্তি: সালাউদ্দিন টুকু

টাঙ্গাইলে শহীদ শামছুল হকের স্মরণ সভায় দেশে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার অব্যাহত উপস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিএনপি নেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু । গত শনিবার এক আলোচনায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, "স্বৈরাচারের পতন হলেও ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা বাংলাদেশে এখনও সক্রিয় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জনগণ ও দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"  

সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, "ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচনে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো শক্তিই আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।" তিনি দলের নেতাকর্মীদের প্রতি সকল প্রকার ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় দৃঢ়ভাবে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।  

স্মরণ সভায় টুকু বিএনপির গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, "দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও সংহতির লড়াইয়ে বিএনপি সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজও অব্যাহত রয়েছে।" তিনি জোর দিয়ে যোগ করেন, "আমাদের নেতৃত্ব ও নীতির প্রতি আস্থা রেখেই জনগণ বারবার বিএনপিকে ক্ষমতায় দেখতে চেয়েছেন।"  

টুকুর এই বক্তব্যে বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ, গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার এবং নেতৃত্বের প্রতি দলের অবিচল সমর্থনের প্রতিফলন ঘটেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দলীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে টুকুর এই ভাষণ গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে।  

শামছুল হকের স্মরণ সভায় স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ শতাধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও জনসংযোগ কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনায় বসেন টুকু।  

সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর এই সতর্কবার্তা ও আহ্বান বিএনপির অভ্যন্তরে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে দলের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপের ইঙ্গিতবাহী এই বক্তব্য আগামী দিনের রূপরেখা প্রণয়নে কী ভূমিকা রাখে, তা এখন সময়ই বলবে।

img

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন : ডা. জাহিদ

প্রকাশিত :  ১৪:০২, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:১৩, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আপাতত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে রেখেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তবে চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন এবং রেসপন্স (সাড়া) করছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

ডা. জাহিদ বলেন, আমরা আশ্বস্ত করতে চাই খালেদা জিয়াকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তিনি আগের মতোই সেটি গ্রহণ করতে পারছেন এবং তিনি সত্যিকার অর্থে রেসপন্স করছেন। তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন যেন সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করা যায়। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা যেন তিনি (খালেদা জিয়া) পেতে পারেন, সেজন্য চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খুবই আশাবাদী, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও আশাবাদী যে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনে তাকে যে কোনো সময় দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, অনেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন। কিন্তু আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করতে চাই যেন, খালেদা জিয়ার মতো এমন একজন নেত্রীর বিষয়ে আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করি। আমরা বলতে চাই তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন এবং সংকটাপন্ন মানুষের জন্য যেটি প্রয়োজন তেমন সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা তিনি পাচ্ছেন।

এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একটি সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে জার্মানভিত্তিক একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার আসার কথা ছিল কিন্তু সেটি আসছে না। অর্থাৎ বেগম জিয়া আপাতত লন্ডন যাচ্ছেন না।

গত ১৪ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন। এদিকে বেগম জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান গত শুক্রবার দেশে এসেছেন। নিয়ম করে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন শাশুড়ির। অন্যদিকে লন্ডন থেকেও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

নভেম্বরের ২৩ তারিখে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সবশেষ কিডনি, হৃদরোগ এবং নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে তার চিকিৎসায় দেশি, বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড। অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডের অন্যতম সদস্য ডা. জুবাইদা রহমান।


জাতীয় এর আরও খবর