img

সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে চালু হচ্ছে কার্গো ফ্লাইট

প্রকাশিত :  ০৬:১৪, ১২ মার্চ ২০২৫

সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে চালু হচ্ছে কার্গো ফ্লাইট

সিলেট ও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে কার্গো ফ্লাইট। এর ফলে পূরণ হতে চলেছে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ দিনের দাবি। এতে কমে আসবে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহণ খরচ ও সময়।

জানা যায়, সাধারণত আকাশপথে কার্গো পরিবহনে ব্যবসায়ীদের দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পণ্য ঢাকায় নিয়ে আসতে হতো। এমনকি চট্টগ্রাম বা সিলেট অঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থাকার পরও ব্যবসায়ীরা আকাশপথে পণ্য পরিবহনে ঢাকার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। তবে সেই নির্ভরতা এবার দূর হতে চলেছে। সিলেট ও চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো শুরু হলে সুফল পাবেন দক্ষিণ এবং পূর্বাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা।

বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (বেবিচক) কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত পণ্য রপ্তানির সুবিধার কথা চিন্তা করে ঢাকার হযরত শাহজালালের পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইটের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এ সেবা শুরু করা হবে। সেবা প্রদানে বিমানবন্দর দুটি সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

বেবিচক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর ক্যাটাগরি ১ এ উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের (আইকাও) একটি প্রতিনিধি দল পরিদর্শন করে এ ঘোষণা দেন। বিমানবন্দরে কার্গো ফ্লাইটে পণ্য তোলা–নামা ও তল্লাশির ক্ষেত্রে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। 

এ দুটি বিমানবন্দর দিয়ে ফ্লাইট চালু হলে পণ্য সরাসরি ইউরোপে যাবে। এতে একদিকে যেমন ভোগান্তি কমবে, সেই সঙ্গে বাড়তি অর্থ খরচের হাত থেকেও রক্ষা পাবে। পাশাপাশি দ্রুত পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইট পরিচালনায় বেবিচকের প্রস্তুতির বিষয়টি ভালো উদ্যোগ (ইতিবাচক) হিসেবে দেখছে কার্গো ব্যবসায়ীরা। সম্প্রতি এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একটি সভা করেন। সভায় কার্গো রপ্তানির  জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়।

এ ব্যাপারে খাতুনগঞ্জের ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগির আহমদ জানান, সিলেটের সঙ্গে চট্টগ্রামের বেশ কিছু পণ্যের আদান প্রদান হয়। খাতুনগঞ্জে সিলেটের অনেক পণ্য আসে। এখন যদি সরাসরি ফ্লাইট চালু হয় তা হলে এখানকার ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দু’টি বিভাগেরই অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে ব্যবসায়ীদের। 

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশন সাব কমিটির চেয়ারম্যান হিজকিল গুলজার বলেন, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইটে সরাসরি পণ্য পরিবহন বিষয়ে দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের সেই দাবি এখন পূরণ হতে চলছে। এ দু’টি বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো ফ্লাইটে পণ্য পরিবহন হলে নানা ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাবেন ব্যবসায়ীরা। 

সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, শাহজালালে পর্যাপ্ত সুবিধা না পাওয়ায় দেশে ৮টি কার্গো এয়ারলাইন্সের কার্যক্রম থাকলেও রপ্তানিকারকরা কার্গোর বড় একটি অংশ সড়ক পথে পার্শ্ববর্তী দেশের বিমানবন্দরগুলোয় পাঠান প্রসেসিং ও শিপমেন্টের জন্য। অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে কার্গো রপ্তানি ফিও বেশি। এসময় তারা ফি কমানোরও দাবি জানান।  

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া  বলেন, দ্রুত কার্গো পণ্য রপ্তানিতে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ভোগান্তির কথা মাথায় রেখে চট্টগ্রামের শাহ আমানত ও সিলেটের ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এরইমধ্যে ফ্লাইট পরিচালনা ও পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বিষয়ক সব কিছুই প্রস্তুত রয়েছে।  

তিনি বলেন, আশা করছি চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে শুরু করা হবে কার্গো ফ্লাইট। 

img

শ্রীমঙ্গলে ইতিহাসের নতুন দিগন্ত: দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের ব্যতিক্রমী পূজা

প্রকাশিত :  ০৪:২১, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: চায়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল এবার সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী ধর্মীয়–সাংস্কৃতিক আয়োজনের। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ গোসাইবাড়ি রোড সংলগ্ন লালবাগ যুব কিশোর সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের পূজা—যা এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম। একই পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন রূপ এবং মূল প্রতিমাসহ মোট ১৭টি মূর্তি নির্মাণ করে পূজা করা হয়েছে।

এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শিল্প ও দর্শনের এক জীবন্ত প্রদর্শনী। প্রতিটি রূপে দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও ব্যঞ্জনায়। কোথাও তিনি জ্ঞানের আলোকবর্তিকা, কোথাও অজ্ঞতা বিনাশী শক্তি, আবার কোথাও সৃজনশীলতা, সংগীত ও মানবিক চেতনার প্রতীক।

গৌরী রূপে দেবী সরস্বতী জ্ঞান, মেধা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে মানবচেতনাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেছেন। মানবী রূপে তিনি মানবজাতির কল্যাণ ও প্রজ্ঞাবৃদ্ধির বার্তা বহন করেন। মানসী রূপে মন, চেতনা ও বিবেক আলোকিত করেন, আর মহাকালী ও কালী রূপে অজ্ঞতা ও অসত্য ধ্বংসের শক্তিকে প্রতিফলিত করেন।

বজ্রশৃঙ্খলা রূপে দেবী অজ্ঞতার শৃঙ্খল ভেঙে জ্ঞানকে অপরাজেয় শক্তিতে রূপ দেন। কুলি শাঙ্কুশা রূপে বিদ্যা, বুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা দেন। মহামানব, প্রজ্ঞপ্তী ও চকেশ্বরী রূপে সত্য–অসত্যের পার্থক্য অনুধাবন, নৈতিকতা ও শক্তির সমন্বয়ের দর্শন ফুটে ওঠে।

পুরুষ দত্তা ভারতীয়, বৈরাট্যা, মোহিনী ও গান্ধারী রূপে ভাষা, বাগ্মী শক্তি, সৃজনশীলতা ও সংগীতকলার বিকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছেন দেবী সরস্বতী। সর্বশেষ আচ্ছুপ্তা রূপে তিনি মায়া ও অজ্ঞতা দূর করে মানবচেতনাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন।

নিপুণ কারুকাজ, রঙের নান্দনিক ব্যবহার এবং প্রতিটি প্রতিমার ভাবনাগত গভীরতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি মূর্তি যেন আলাদা আলাদা গল্প বলে—মানুষের মন, বিবেক ও বুদ্ধির গভীরে আলো জ্বালানোর গল্প।
লালবাগ যুব কিশোর সংঘের সভাপতি কৌশিক দত্ত ও উপদেষ্টা প্রান্ত মিশ্র জানান, “এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের এমন পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের লক্ষ্য ছিল দেবী সরস্বতীকে কেবল বিদ্যার দেবী হিসেবে নয়, বরং মানবচেতনার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা।”
সকাল থেকেই পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, এই ব্যতিক্রমী আয়োজন কতটা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে সাধারণ মানুষের।

শ্রীমঙ্গলের এই অনন্য উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞান, শিল্প ও মানবিক চেতনার এক স্মরণীয় মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর