img

বিএনপি কেন এত জনপ্রিয়? গণমানুষের দল হয়ে ওঠার রহস্য

প্রকাশিত :  ০৫:৪৩, ১৫ মার্চ ২০২৫

বিএনপি কেন এত জনপ্রিয়? গণমানুষের দল হয়ে ওঠার রহস্য

জাভেদ হাসান স্বাধীন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দেশের অন্যতম বৃহৎ ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বিএনপি, যা জনগণের হৃদয়ে গভীরভাবে স্থান করে নেয়। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, তা আজও বিদ্যমান। কিন্তু বিএনপি কেন এত জনপ্রিয়? সাধারণ মানুষ এই দলটিকে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে দেখে কেন? চলুন, বিএনপির জনপ্রিয়তার রহস্য অন্বেষণ করি।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা

বিএনপির মূল আদর্শ হলো বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, যা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সংস্কৃতিকে অগ্রাধিকার দেয়। জাতীয়তাবাদের এই চেতনা দেশের সাধারণ মানুষকে সহজেই আকৃষ্ট করেছে। শহীদ জিয়াউর রহমান যখন দলটি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন থেকেই এটি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। ফলে দলটি জন্মলগ্ন থেকেই ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পায়।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা

১৯৭৫ সালে দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা চালু হলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। কিন্তু ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর শহীদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এই কারণেই জনগণের বিশাল একটি অংশ বিএনপিকে গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে দেখে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির এই অবদান দলটির প্রতি জনসমর্থন ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

কৃষক ও শ্রমিকবান্ধব নীতি

বিএনপি সবসময় কৃষক, শ্রমিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে কৃষকদের জন্য সারের দাম কমানো হয়, খাল খননের মাধ্যমে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয় এবং কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটে। এ কারণে দেশের কৃষক-শ্রমিকরা আজও বিএনপিকে নিজেদের দল হিসেবে মনে করে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা

বিএনপির শাসনামলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের প্রসারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিশেষ করে ১৯৯১-১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ব্যক্তিখাতের বিকাশ, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং টেলিযোগাযোগ খাতের আধুনিকায়ন দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়। বিএনপির এই অর্থনৈতিক নীতিগুলো দলটির জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সহায়ক হয়েছে।

ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান

বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী মুসলিম এবং তারা ধর্মীয় মূল্যবোধকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়। বিএনপি সবসময় ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসার ঘটিয়েছে এবং ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেছে। এর ফলে ধর্মপ্রাণ জনগণের মধ্যে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী সংগঠন

বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তৃণমূল পর্যায়ে সুসংগঠিত কাঠামো। দলের নেতা-কর্মীরা সবসময় জনগণের পাশে থেকেছেন এবং তাদের সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। জনগণের সঙ্গে এই নিবিড় সংযোগ বিএনপিকে একটি গণমানুষের দলে পরিণত করেছে।

সংকটকালে জনগণের পাশে থাকা

বন্যা, ঘূর্ণিঝড় কিংবা অন্যান্য সংকটকালে বিএনপি সবসময় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সাধারণ মানুষের দুঃসময়ে পাশে থাকার এই মানবিক মানসিকতা দলটির প্রতি জনগণের আস্থা বাড়িয়েছে। বিপর্যয়ের সময় বিএনপির কার্যক্রম দলটির প্রতি জনসমর্থন ধরে রাখতে সহায়তা করেছে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন

বর্তমানে বিএনপি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে দলটির এই সংগ্রাম সাধারণ মানুষের মধ্যে দলটির প্রতি আরও সহানুভূতি তৈরি করেছে।

তরুণদের আকৃষ্ট করার নীতি

তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে বিএনপির নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ যুবসমাজকে দলটির প্রতি আকৃষ্ট করেছে। পরিবর্তনের প্রত্যাশী তরুণরা বিএনপির নীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করে দেখছে।

উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি

বিএনপির শাসনামলে বিদ্যুৎ, সড়ক ও যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অগ্রগতি জনগণের জীবনমান উন্নত করেছে। ১৯৯১ সালে প্রথম বেসরকারি টিভি চ্যানেল চালুর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও নিশ্চিত হয়, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

বিএনপির জনপ্রিয়তার রহস্য

বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়; এটি বাংলাদেশের গণমানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা—এসব বিষয়ের প্রতি দলটির প্রতিশ্রুতি আজও জনগণের মনে গেঁথে আছে। সংকটের সময় জনগণের পাশে থাকা, তরুণদের অনুপ্রাণিত করা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংগ্রাম—এই সবকিছুই বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে। দেশের সাধারণ জনগণের অবিচল সমর্থনই বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল শক্তি।


জাভেদ হাসান স্বাধীন: প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট; নির্বাহী সম্পাদক অর্থনীতি ডটকম

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

জঙ্গল সলিমপুরে কম্বাইন অপারেশন হবে: প্রেস সচিব

প্রকাশিত :  ১১:৫০, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

সন্ত্রাসীদের হামলায় জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাবের উপসহকারী পরিচালক আবদুল মোতালেব নিহত হয়েছেন। এই ঘটনাকে অত্যন্ত জঘন্য বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

তিনি বলেন, সেখানে সব বাহিনী একত্রিত হয়ে কম্বাইন অপারেশন চালাবে।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান তিনি। 

প্রেস সচিব বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে যে কাজটা হয়েছে, খুবই জঘন্য। এটার আমরা নিন্দা জানাই। পরবর্তীকালে এ জায়গায় আরও জোরদারভাবে অভিযান চালানো হবে। সব বাহিনী একত্রিত হয়ে কম্বাইন একটা অপারেশন হবে। যারা যারা এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন, প্রত্যেককে অ্যারেস্ট করা হবে। এখানে যে যত পাওয়ারফুল লোকই হন না কেন, যারা এটায় ইন্ধন জুগিয়েছেন, আর যারা যুক্ত ছিলেন প্রত্যেককে গ্রেফতার করা হবে। ওখানে আশেপাশে লুট হওয়া যত অস্ত্র আছে, সেগুলো কম্বিং অপারেশনের মাধ্যমেটা উদ্ধারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

নির্বাচনের অনিশ্চয়তা নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনও রকমের আনসার্টেনটি নেই, ইনশাআল্লাহ। নির্বাচন খুব ভালো হবে, ফ্রি ফেয়ার পিসফুল ফেস্টিভ হবে। বাংলাদেশের মানুষ সবাই ভোটকেন্দ্রে আসবেন। আমরা আশা করছি, এটা রেকর্ড টার্ন আউট হবে— এটা আমরা আশা করছি। আমরা মনে করি, পরিস্থিতি যথেষ্ট ভালো। দুই-একটা আইসোলেটেড ঘটনা ঘটছে। বাট নির্বাচন খুব ভালো। আজকের পরে আর মাত্র ২২ দিন আছে। সেটার জন্য যথেষ্ট প্রিপারেশন হচ্ছে। সিসিটিভির বিষয়টা আজকে আমরা আপনাদেরকে পুরো আপডেট দিলাম। তারপরে বডি-ওন ক্যামেরার বিষয়েই হচ্ছে। কালকে আমাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, ৯ লাখ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। তো আমরা আশাবাদী খুব ভালো ইলেকশন হবে। আর পলিটিক্যাল পার্টিগুলো অনেক কনস্ট্রাক্টিভ ডায়লগ করছেন। অনেক ধরনের কথাবার্তা বলছেন। যেগুলো নির্বাচনের জন্য ইতিবাচক।

প্রেস সচিব বলেন, ‘কিন্তু তারপর আমরা দেখছি— দুই-একজন ফেসবুকে বা ইউটিউবে এসে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছেন। আমরা তাদের অতীত জানি। তারা কী পরিমাণ দালালি করেছেন, এটা আমাদের খুব ভালোমতো জানা আছে। আমরা এটাতে অবাক হচ্ছি না। এনিওয়ান, এভরিওয়ান ইজ ফ্রি টু স্পিক, তারাও কথা বলছেন। কিন্তু আমরা আবারও আপনাকে বলছি, নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি হবে, একদিন আগেও না একদিন পরেও না এবং খুব সুন্দরভাবে হবে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর