img

বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্রদল কর্মী’ নিহত

প্রকাশিত :  ০৫:৪৭, ২০ এপ্রিল ২০২৫

বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ছাত্রদল কর্মী’ নিহত

রাজধানীর বনানীতে বেসরকারি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের সংঘর্ষের মধ্যে ছুরিকাঘাতে এক ছাত্র নিহত হয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থীর নাম জাহিদুল ইসলাম পারভেজ। তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র। ২৩ বছর বয়সী এ শিক্ষার্থীর বাড়ি ময়মনসিংহে।

নিহত শিক্ষার্থী প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের কর্মী বলে দাবি করেছেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল সরোয়ার জানান, ইংরেজি বিভাগ ও টেক্সটাইল বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, একটি দোকানে বান্ধবীদের নিয়ে সিঙ্গারা খাওয়াকে কেন্দ্র করে কথাকাটাকাটির সূত্র ধরে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ বহিরাগতদের নিয়ে এসে ফের হামলা চালায়। তখন ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন পারভেজ। তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের মামাতো ভাই বনানী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করছেন বলে জানিয়েছেন ওসি রাসেল। তিনি বলেন, আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের সামনে বসার যায়গাকে কেন্দ্র করে সমস্যা সৃষ্টি হওয়াতে বহিরাগত সন্ত্রাসী দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ তাদের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পারভেজ হত্যার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। পোস্টে পারভেজের একটি ছবিও প্রকাশ করা হয়।


শিক্ষা এর আরও খবর

img

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ চূড়ান্ত, অনুমোদনের অপেক্ষায়

প্রকাশিত :  ১১:৫৮, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশের চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পর্যায়ের সব প্রক্রিয়া শেষ করে আজ রোববার খসড়াটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা অধিদপ্তর। মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ পর্যায়ের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত খসড়া আজ রবিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। দ্রুততম সময়ে অধ্যাদেশটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন হবে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ চূড়ান্তকরণের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগকে সম্পৃক্ত মন্ত্রণালয়/বিভাগ এর মতামত সংগ্রহ, ওয়েবসাইটে প্রকাশের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মতামত গ্রহণ, শিক্ষক-শিক্ষাথী-সুশীল সমাজের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠান, বিশেষজ্ঞদের অভিমত গ্রহণ এর মত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করতে হয়েছে।

অধ্যাদেশ এর খসড়া চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সকলের যৌক্তিক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে এবং উদ্বেগসমূহকে বিবেচনায় নিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী কাঠোমা নির্ধারণ করাই ছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এর মূল লক্ষ্য। সকলের ধৈর্যশীল সহযোগিতা এবং গঠনমূলক ভূমিকার কারণেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় জটিল এ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সময়ে সময়ে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ধারাবাহিক অগ্রগতির তথ্য সর্বসাধারণকে অবহিত করেছে।

টেকসই ও বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মৌলিক ও উপরিকাঠামোগত সংস্কারের কাজগুলো সুশৃঙ্খলভাবে ধাপে ধাপে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে হয়। যে কোন পর্যায়ে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা পুরো উদ্যোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা খালিদ মাহমুদ স্বাক্ষরিত ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় অধ্যাদেশটি যেহেতু এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে, সেহেতু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয় বা স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয় এমন কোনো কর্মসূচি বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আহ্বান করা যাচ্ছে। যেকোনো আবেগপ্রসূত বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি দীর্ঘদিনের এই অর্জন ও শ্রমকে নসাৎ করে দিতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে, দীর্ঘদিনের ধৈর্য্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার এই ধারা অব্যাহত রেখে আমরা অতি দ্রুত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা নিশ্চিত করতে পারব, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।