img

চশমা ছাড়াই বাচ্চাদের দৃষ্টি সমস্যা সমাধানে আসছে এল আই ড্রপ

প্রকাশিত :  ১৩:২২, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:২৫, ২৬ এপ্রিল ২০২৫

চশমা ছাড়াই বাচ্চাদের দৃষ্টি সমস্যা সমাধানে আসছে এল আই ড্রপ

দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হচ্ছে মানেই চিকিৎকের কাছে যাও। তারপর পাওয়ার দেখে চশমা দেওয়া হবে। এই ঝামেলা থেকে রেহাই দিতেই নতুন আই ড্রপ আসছে দেশের বাজারে। 

মূলত মায়োপিয়ার চিকিৎসায় এই আই ড্রপের ব্যবহার হবে। মায়োপিয়া মানেই হল দূরের দৃষ্টি ঝাপসা হতে থাকা। দেশে মায়োপিয়া আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। ক্রমাগত মোবাইল বা ট্যাবে চোখ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা টিভি দেখা, কম আলোয় মোবাইল স্ক্রল করার কারণেই দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে শিশু ও কমবয়সিরা।

নতুন ফর্মুলায় আই ড্রপটি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্মাতা সংস্থা এনটড ফার্মাসিউটিক্যালস। তাদের দাবি, এই ড্রপটি চোখে দিলে মায়োপিয়ার ঝুঁকি কমবে। যে শিশুর দূরের দৃশ্য দেখতে সমস্যা হচ্ছে, স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা পড়তে পারছে না অথবা চোখে যন্ত্রণা, চোখ দিয়ে পানি পড়ার সমস্যা হচ্ছে, তারা এই আই ড্রপটি ব্যবহার করতে পারে। 

তবে মায়োপিয়া যদি ধরা পড়ে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শেই আই ড্রপটি নিতে হবে। কেন্দ্রীয় ড্রাগ নিয়ামক সংস্থা আই ড্রপটির ব্যবহারে ছাড়পত্র দিয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সেটি দেশের বাজারে চলে আসবে বলে জানা গেছে।

আই ড্রপটি ছোটদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে। ৬ থেকে ১২ বছরের শিশুদের দেওয়া যাবে। এনটড ফার্মাসিউটিক্যালস জানিয়েছে, ওষুধটি তিন পর্যায়ের ট্রায়ালের পরে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখনো অবধি কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে দেখা যায়নি।

কিছুদিন আগেই ‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেক সংখ্যক মানুষ মায়োপিয়ায় আক্রান্ত হবেন। বিশেষ করে শিশুরা এই অসুখে বেশি ভুগবে। মায়োপিয়ায় আক্রান্ত রোগী কাছের জিনিস দেখতে পারলেও দূরের জিনিস দেখতে তাদের সমস্যা হয়। মায়োপিয়ার অন্যতম বড় কারণ হল সূর্যের আলোয় কম সময় কাটানো। 

গবেষকেরা জানাচ্ছেন, প্রাকৃতিক আলোর চেয়ে কৃত্রিম আলোতেই বেশি অভ্যস্ত এখনকার প্রজন্ম। শিশুদের ক্ষেত্রে সূর্যের আলোয় বেশিক্ষণ থাকলে রেটিনায় ডোপামিন নামক যৌগের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই যৌগ দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে এবং মায়োপিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে। কিন্তু অন্ধকারে যদি মোবাইল বা ট্যাব দেখার অভ্যাস থাকে, তাহলে বিদ্যুতিন ডিভাইস থেকে বেরোনো নীল আলো রেটিনার দফারফা করে দেয়। তখন কেবল দৃষ্টিজনিত সমস্যা নয়, চোখে যন্ত্রণা, চোখ লাল হয়ে ওঠা, পানি পড়া, মাথাযন্ত্রণা, এমনকি মাইগ্রেনও ভোগাতে পারে।

নতুন আই ড্রপটি চোখ খারাপ হওয়া থেকে বাঁচাবে। তবে পাশাপাশি শিশুদের চোখের যত্ন নিতে ও ‘স্ক্রিন টাইম’ বেঁধে দেওয়ারও পরামর্শ দিচ্ছেন গবেষকেরা।


img

ঘরোয়া উপায়ে ত্বক উজ্জ্বল করবেন যেভাবে

প্রকাশিত :  ০৯:৩৫, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্যয়বহুল স্কিনকেয়ার পণ্যের ভিড়ে অনেকেই এখনো ঘরোয়া উপাদানেই ত্বকের যত্ন নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আমাদের ঘরে ঘরেই পাওয়া যায় এমন কিছু উপকরণ—যেমন বেসন, দই, মধু, শসা ও গোলাপজল—শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সৌন্দর্যচর্চার অংশ হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। আধুনিক স্কিনকেয়ার বিশেষজ্ঞরাও এসব প্রাকৃতিক উপাদানের উপকারিতা স্বীকার করেন। 

গোলাপজল

ত্বক সতেজ রাখতে সবচেয়ে সহজ কিন্তু কার্যকর উপায় হলো গোলাপজল ব্যবহার। মুখে স্প্রে করলেই ত্বকে এনে দেয় তাৎক্ষণিক সতেজতা আর মনোরম সুবাস। বিশেষজ্ঞরা রাতে মুখ ধোয়ার পর তুলায় গোলাপজল লাগানোর পরামর্শ দেন, যা রোমকূপ টাইট করার পাশাপাশি আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।  

শুষ্ক ত্বকের জন্য দই-মধুর মাস্ক

দই ত্বককে শীতল রাখে, আর মধু কাজ করে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে। এক টেবিল চামচ দইয়ের সঙ্গে আধা চা চামচ মধু মিশিয়ে ১৫ মিনিট মুখে লাগালে ত্বক হয় নরম, উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত। সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করলে শুষ্কতা অনেকটাই কমে যায়। 

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য বেসন-লেবুর প্যাক

এক টেবিল চামচ বেসনের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও সামান্য পানি মিশিয়ে তৈরি করুন পেস্ট। এটি অতিরিক্ত তেল কমাতে এবং ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে কম লেবু ব্যবহারের পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। প্রয়োজনে আগে প্যাচ টেস্ট করাও জরুরি।  

শসা

গৃহস্থের রান্নাঘরে সহজেই মিলে এমন শসা ত্বক ঠান্ডা রাখতে দারুণ কার্যকর। চোখ ও মুখে শসার স্লাইস রাখলে ফোলাভাব কমে এবং ডার্ক সার্কেল হালকা হয়। গরমের দিনে অনেকে টোনার হিসেবেও শসার রস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। 

অ্যালোভেরা জেল

প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে অ্যালোভেরা খুবই জনপ্রিয়। বাসায় গাছ থাকলে সরাসরি পাতার জেল মুখে লাগানো যায়। এটি ত্বক ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি ব্রণ ও লালচেভাব কমাতেও সাহায্য করে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, যতই ক্রিম বা প্যাক ব্যবহার করা হোক, প্রকৃত ত্বক সতেজতার মূল চাবিকাঠি হলো শরীরের ভেতরের সুস্থতা। পর্যাপ্ত পানি পান, ভালো ঘুম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখার ওপরই নির্ভর করে ত্বকের প্রকৃত স্বাস্থ্য। ঘরোয়া উপায়গুলো এসব ফল আরও বাড়িয়ে ত্বককে দেয় প্রাকৃতিক ও নিরাপদ যত্ন।