img

তাইজুল-মিরাজের স্পিন তাণ্ডবে দাপুটে জয় বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৩:৩২, ৩০ এপ্রিল ২০২৫

তাইজুল-মিরাজের স্পিন তাণ্ডবে দাপুটে জয় বাংলাদেশের

চট্টগ্রামে যেন মেহেদী হাসান মিরাজ নামের জাদুকরের শো! ব্যাটে সেঞ্চুরি, বল হাতে ফাইফার এই অলরাউন্ড নৈপুণ্যে তিন দিনেই জিম্বাবুয়েকে ইনিংস ও ১০৬ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে সিরিজে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা (১-১)। একই সঙ্গে ঘরের মাঠে টানা ৬ টেস্টে হারের বৃত্ত ভেঙে বিজয়ের হাসি হাসল টাইগাররা।

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত টেস্টে টস জিতে ব্যাট করে জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংসে করে ২২৭ রান। জবাবে বাংলাদেশ দুই সেঞ্চুরির সুবাদে গড়ে ৪৪৪ রানের পাহাড়। এরপর ২১৭ রানে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১১ রানেই গুটিয়ে যায় সফরকারীরা।

বড় লিড মাথায় নিয়ে ব্যাট করতে নেমে চাপেই যেন শেষ জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডার! বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ইনিংস ওপেন করেন তাইজুল ইসলাম। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট পাওয়া এই বাঁহাতি স্পিনারেই নতুন বলে ভরসা রাখেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদানও দিয়েছেন তাইজুল।

ইনিংসের ৭ম ওভারেই বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দেন তাইজুল। এই স্পিনারের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ডিফেন্স করার চেষ্টা করেন ব্রায়ান বেনেট। তবে আউট সাইড এজে বল চলে যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সাদমান ইসলাম সহজেই তালুবন্দি করেন। ৬ রান করে এই ওপেনার ফেরায় ৮ রানেই ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।

দুই বল পরই রোডেশিয়ান শিবিরে আবারো আঘাত হানেন তাইজুল। এবার তার শিকার নিক ওয়েলচ। এই টপঅর্ডার ব্যাটারকে রীতিমতো বোকা বানিয়েছেন তাইজুল। বাইরে দিয়ে বের হয়ে যাবে ভেবে বল ছেড়ে দিয়েছিলেন, তবে আঘাত হানে তার প্যাডে। এতে লেগ বিফোরের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ, তাতে সিদ্ধান্ত বদলে যায়। ২ বল খেলে ডাক খেয়েছেন ওয়েলচ।

১১তম ওভারে প্রথমবার আক্রমণে এসেই উইকেটের দেখা পেয়েছেন নাঈম ইসলাম। এই অফ স্পিনারের টার্ন পড়তে পারেননি শন উইলিয়ামস। আউট সাইড এজে বল চলে যায় দ্বিতীয় স্লিপে। সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা সাদমান এবারও দুর্দান্ত ক্যাচ নেন। ১৭ বল খেলে ৭ রানের বেশি করতে পারেননি এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। উইলিয়ামস দ্রুত ফেরায় ২২ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

এরপর ক্রেগ আরভিন ও বেন কারান মিলে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন। বড় হতে যাওয়া সেই জুটি ভেঙেছেন মিরাজ। আরভিনকে ৩০তম ওভারের প্রথম বলে এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে বোল্ড করেন মিরাজ। একই ওভারের শেষ বলে ওয়েসলি মাদেভারেকেও সাজঘরে ফিরিয়েছেন এই অফ স্পিনার।

নিজের পরের ওভারে ফিরেও উইকেট পেয়েছেন মিরাজ। তাফাদা সিগা এনামুল বিজয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বল হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন মিরাজ। এরপর ওয়েলিংটন মাসাকাদজা এবং বেন কারানকে ফিরিয়ে ইনিংসে ফাইফার পূরণ করেন মিরাজ। তাতে তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ফাইফারের কৃতিত্ব দেখান এই অলরাউন্ডার।

শেষ দিকেলে বোলিংয়ে ফিরে জিম্বাবুয়ের লেজ ছাঁটাইয়ে যোগ দেন তাইজুলও। ৪৩তম ওভারে রিচার্ড এনগারাভাকে ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার। শেষ ব্যাটার হিসেবে রান আউট হয়েছে মাসাকেসা।

সবমিলিয়ে ম্যাচে ৯ উইকেট শিকার করেছেন তাইজুল। আরেক স্পিনার মিরাজে পেয়েছেন ৫ উইকেট। এ ছাড়া নাঈম হাসান পেয়েছেন ৩ উইকেট।

খেলাধূলা এর আরও খবর

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্তকরণ

img

স্কটল্যান্ডের সাথে যোগাযোগই করেনি আইসিসি!

প্রকাশিত :  ০৬:০৫, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে। এই অবস্থায় বাংলাদেশ সরে দাঁড়ালে বিকল্প হিসেবে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা জোরালো হলেও আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেনি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

ঘটনার সূত্রপাত বিশ্বকাপে ভারতের মুম্বাই ও কলকাতায় ম্যাচ খেলতে নিরাপত্তা–শঙ্কা দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানানোর পর। তারা ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া কিংবা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব দেয়। তবে আইসিসি দুটো প্রস্তাবই কার্যত নাকচ করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এর মধ্যেই জল্পনা তৈরি হয়—বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে বিশ্বকাপে তাদের জায়গায় সুযোগ পাবে স্কটল্যান্ড, যারা র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বকাপের বাইরে থাকা দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে। কিন্তু বিবিসির তথ্যানুযায়ী, আইসিসি এখনো স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করেনি; আর ক্রিকেট স্কটল্যান্ডও বিসিবির চলমান পরিস্থিতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে নিজ থেকে যোগাযোগ করতে চায়নি।

স্কটল্যান্ড গত বছর ইউরোপীয় বাছাইপর্বে চতুর্থ হয়ে বিশ্বকাপের জায়গা অল্পের জন্য হারায়—নেদারল্যান্ডস ও ইতালি সরাসরি কোটা পায়। বর্তমানে স্কটিশ দল নামিবিয়া ও ওমানের বিপক্ষে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তুতিতে আছে।

স্কটল্যান্ডের সাথে যোগাযোগই করেনি আইসিসি! 

আইসিসি কীভাবে বিকল্প দল বাছবে—এ নিয়েও স্পষ্টতা নেই। ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ে রাজনৈতিক কারণে সরে গেলে ‘পরবর্তী সেরা দল’ হিসেবে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সাল থেকে বিশ্বকাপ ২০ দলের হওয়ায় আঞ্চলিক বাছাইপর্বের মাধ্যমে যোগ্যতা নির্ধারিত হচ্ছে।

ফলে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে—স্কটল্যান্ড আদৌ ডাক পাবে কি না। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই ইস্যু এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত সংকটে পরিণত হয়েছে।


খেলাধূলা এর আরও খবর