img

অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে ক্রোমে এআই মডেল 'জেমিনি ন্যানো'

প্রকাশিত :  ০৮:৪৮, ১২ মে ২০২৫

অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে ক্রোমে এআই মডেল 'জেমিনি ন্যানো'

অনলাইন প্রতারণা দমন করতে আরও একধাপ এগিয়ে গেল গুগল। প্রতিষ্ঠানটি তাদের জনপ্রিয় ব্রাউজার ক্রোমের ডেস্কটপ সংস্করণে যুক্ত করেছে নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ভাষা মডেল ‘জেমিনি ন্যানো’।

গুগলের ভাষ্য, এই নতুন এআই প্রযুক্তি প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট দ্রুত ও কার্যকরভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। ফলে আগে কখনো না দেখা নতুন ধরনের স্ক্যামও সহজেই ধরা পড়বে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভবিষ্যতে অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণেও এ প্রযুক্তি চালু করা হবে।

জেমিনি ন্যানোর একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি জটিল ও বিভ্রান্তিকর ওয়েব কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে প্রতারণার কৌশল বুঝে ব্যবস্থা নিতে পারে। এর ফলে শুধু পরিচিত প্রতারণা নয়, বরং উদ্ভাবনী কৌশলে গড়া নতুন স্ক্যামও রোধ করা সম্ভব হবে।

গুগলের তথ্যমতে, ইতোমধ্যে জেমিনি ন্যানোর সাহায্যে ‘ভুয়া প্রযুক্তি সহায়তা’ বিষয়ক প্রতারণা শনাক্ত ও রোধ করা হচ্ছে। শিগগিরই ব্যবহারকারীদের সতর্ক করতে এআইভিত্তিক অ্যালার্ট চালু করা হবে। যখন ক্রোমের অন-ডিভাইস মেশিন লার্নিং মডেল কোনো সন্দেহজনক নোটিফিকেশন শনাক্ত করবে, তখন ব্যবহারকারীর পর্দায় একটি সতর্কবার্তা ভেসে উঠবে। ব্যবহারকারী চাইলে সেই সাইট থেকে ভবিষ্যতে কোনো নোটিফিকেশন না পেতে আনসাবস্ক্রাইব করতে পারবেন। তবে কেউ যদি মনে করেন যে সতর্কবার্তা ভুলভাবে দেখানো হয়েছে, তাহলে তিনি আবারও সেই সাইটের নোটিফিকেশন চালু করতে পারবেন।

এআই ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণা দমন গুগলের জন্য নতুন কিছু নয়। প্রতিদিন গুগল সার্চে বিপুল পরিমাণ স্ক্যাম ফলাফল ফিল্টার করে সরিয়ে দেওয়া হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে। গুগলের দাবি, এআই প্রযুক্তি দিয়ে ওয়েবের বিশাল তথ্যভান্ডার বিশ্লেষণ করে প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা আগেভাগেই চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, সম্প্রতি ওয়েবসাইটে বিমান সংস্থার গ্রাহকসেবার নাম ব্যবহার করে প্রতারণার ঘটনা বাড়ছে। তবে জেমিনি ন্যানোর মতো উন্নত এআই ব্যবহারে এ ধরনের প্রতারণা ৮০ শতাংশ কমিয়ে আনা গেছে। পাশাপাশি স্ক্যাম সাইট শনাক্তের হার ২০ গুণ বেড়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

গাজায় ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস

প্রকাশিত :  ০৬:১২, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩৩, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এক ধরনের ভয়াবহ শ্বাসতন্ত্রের ভাইরাস। এতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ভেঙে পড়েছে অঞ্চলটির নাজুক স্বাস্থ্যব্যবস্থা। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

গাজা সিটির আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের মেডিকেল পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া জানান, শিশু, বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা নজিরবিহীন এক স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মধ্যে আছি।’

স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ভাইরাসটি ফ্লু বা করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। অপুষ্টি, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ এবং টিকাদানের অভাবের কারণে সব বয়সী মানুষের মধ্যে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে।

রোগীদের মধ্যে দীর্ঘদিন জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে। শীত, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ ও তাঁবুতে গাদাগাদি করে থাকা বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

এদিকে গাজার হাসপাতালগুলোতে তীব্র ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট চলছে। অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানসারের ওষুধ, কিডনি ডায়ালাইসিস ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসাসামগ্রী প্রায় নেই বললেই চলে। মানসিক স্বাস্থ্যসেবাও চরম সংকটে রয়েছে।

আবু সালমিয়া অভিযোগ করেন, ইসরায়েল গাজায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। তার দাবি, জীবনরক্ষাকারী সামগ্রী আটকে দেওয়া হলেও অপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ ও পরীক্ষাগার সামগ্রী গাজায় প্রবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে, যা গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও দুর্বল করে তুলছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর