img

শেয়ারবাজারে নিঃস্ব মানুষের আর্তনাদ: ন্যায্য অধিকার চাই, করুণা নয়!

প্রকাশিত :  ১৬:২৫, ১২ মে ২০২৫

শেয়ারবাজারে নিঃস্ব মানুষের আর্তনাদ: ন্যায্য অধিকার চাই, করুণা নয়!

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার কোনো সাধারণ লেনদেনের জায়গা নয়। এটি লক্ষাধিক সাধারণ মানুষের স্বপ্ন, শ্রম, সঞ্চয় ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তার প্রতীক। এই বাজারে কেউ খেলতে আসে না; তারা আসে স্বপ্ন নিয়ে—সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে, বার্ধক্যের জীবন সুরক্ষিত করতে, নিজেদের সীমিত আয়ের মধ্যেও আস্থা গড়ার আশায়।  

কিন্তু আজ সেই স্বপ্ন ও আস্থা ধূলিসাৎ। শেয়ারবাজার এক বিভীষিকাময় মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন হাজারো বিনিয়োগকারী তাদের পুঁজি হারাচ্ছে, জীবনযাত্রার ভিত্তি ভেঙে পড়ছে, মাথার উপরের ছাদ উধাও হয়ে যাচ্ছে—আর রাষ্ট্র নীরব দর্শকের ভূমিকায়।  

আমরা কী চেয়েছিলাম?

আমরা চেয়েছিলাম একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার—যেখানে তথ্যভিত্তিক, নিয়মতান্ত্রিক ও নৈতিকভাবে শেয়ার লেনদেন হবে। আমরা চেয়েছিলাম সরকার আমাদের পক্ষে থাকবে—কারসাজিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে, লুটেরাদের প্রতিহত করবে।  

কিন্তু আমরা পেয়েছি ধোঁকা, মিথ্যা আশ্বাস আর নৈরাজ্য। যে সংস্থাগুলোর দায়িত্ব ছিল বাজার নিয়ন্ত্রণ করা, তারা হয় নীরব থেকেছে, নয়তো কার্যত নিষ্ক্রিয়। তারা আমাদের আশ্রয় হয়নি, বরং অনেকক্ষেত্রে বোঝাই হয়ে দাঁড়িয়েছে।  

বারবার প্রতারণা, বারবার নিঃস্ব হওয়া!

২০০৯ সালের ধসের ক্ষত আজও শুকায়নি। তখনও আমরা চিৎকার করেছিলাম: \"আমরা খেলতে আসিনি, আমরা জীবন গড়তে এসেছি!\" সরকার আশ্বাস দিয়েছিল—\"আর হবে না, নতুন নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গঠন করা হবে।\"অথচ ২০২৪-২৫ সালে এসেও আমরা সেই একই পরিস্থিতিতে—আরও বেশি ক্ষতবিক্ষত, আরও বেশি নিঃস্ব।  

কে দায়ী? 

- ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে তারল্য সরবরাহ না করে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।  

- প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা অসাধুভাবে কারসাজি করেছে।  

- নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।  

- অনেক কোম্পানি মুনাফা লুকিয়ে মিথ্যা EPS দেখিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়েছে।  

এটি শুধু অর্থনৈতিক অপরাধই নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ।  

একজন বিনিয়োগকারীর করুণ গল্প:

রফিকুল ইসলাম, একজন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক। জীবনের শেষ সঞ্চয় ১২ লাখ টাকা তিনটি শেয়ারে বিনিয়োগ করেছিলেন। আজ তার পোর্টফোলিওর মূল্য মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, \"আমার স্ত্রী ক্যান্সারে আক্রান্ত। ওষুধ কিনতে পারি না। বেঁচে থাকাটাই এখন শাস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।\"

এমন হাজারো গল্প—কেউ সন্তানকে স্কুল থেকে তুলেছেন, কেউ মা-বাবার চিকিৎসা বন্ধ করেছেন, কেউবা আত্মহত্যার কথা ভাবছেন।  

আমাদের ন্যায্য দাবি: 

আমরা ভিক্ষা চাই না, করুণা চাই না। চাই ন্যায্য অধিকার ও নৈতিক দায়বদ্ধতা। আমাদের দাবিগুলো যুক্তিসংগত ও বাস্তবসম্মত:  

 ১. শেয়ারবাজার পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা (Market Rescue Plan) অবিলম্বে ঘোষণা করতে হবে।  

 ২. প্রধান উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন টাস্কফোর্স গঠন করে বাজার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।  

 ৩. রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে বাজারে ৫ হাজার কোটি টাকার তারল্য ইনজেকশন দিতে হবে।  

 ৪. কারসাজিতে জড়িত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।  

B৫. ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য পুনর্বাসন প্যাকেজ প্রদান করতে হবে।  

 ৬. প্রতিটি কোম্পানির আয়-ব্যয়ের নিরপেক্ষ অডিট বাধ্যতামূলক করতে হবে।  

নতুন নেতৃত্ব, নতুন আশা:

বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদ। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর নৈতিক নেতৃত্বে এই বাজার পুনরুজ্জীবিত হতে পারে। আমরা তাঁর কাছে আবেদন করছি: \"আপনিই আমাদের শেষ ভরসা। আমাদের দিকে ফিরে তাকান!\"

আমাদের আকুতি:

শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা রাস্তায় নামে না, কারণ তারা গালাগালি শুনতে চায় না। তারা নিঃস্ব হয়েছে, চোখে জল নিয়ে ঘরে ফিরেছে। তারা প্রতিবাদ করে না, ভাঙচুর করে না—তাই হয়তো রাষ্ট্র তাদের পাত্তা দেয় না।  

কিন্তু মনে রাখবেন, যখন রাষ্ট্র তার সৎ নাগরিকদের কান্না উপেক্ষা করে, তখন তার পতন শুধু অর্থনীতিতে নয়—নৈতিকতায়ও ঘটে।

আজ আমরা শুধু লিখছি। কাল যদি আমরা আর না থাকি, তাহলে দোষ আমাদের নয়। আমরা শুধু সম্মানজনক জীবনের অধিকার চেয়েছিলাম। রাষ্ট্র যদি তা দিতে ব্যর্থ হয়, ইতিহাস তাকে ক্ষমা করবে না।  

শেয়ারবাজার বাঁচান। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে দিন। আমাদের স্বপ্ন রক্ষা করুন।

img

বাসায় ফিরলেন অর্থ উপদেষ্টা, কাল জারি হতে পারে সচিবালয় ভাতার প্রজ্ঞাপন

প্রকাশিত :  ১৭:১০, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

৬ ঘণ্টারও বেশি সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে অবরুদ্ধ করে রাখার পর পুলিশি সহায়তায় মুক্ত হয়ে তার বাসভবনে ফিরেছেন। আজ বুধবার রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে একদল পুলিশ সদস্যের সহায়তায় উপদেষ্টা তার দপ্তর ত্যাগ করেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয় ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। আন্দোলনের মুখে আজ বুধবার অর্থ উপদেষ্টা এমন আশ্বাস দিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

অর্থ উপদেষ্টার কাছে সচিবালয়ে কর্মরত সব কর্মচারী দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মচারীদের সমান ঝুঁকি ভাতা দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হচ্ছিল না। দুদকের কর্মচারীদের ঝুঁকি ভাতা তাদের মূল বেতনের ৩০ শতাংশ।

ভাতার এই দাবি আদায়ে আজ বেলা আড়াই থেকে রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত অর্থ উপদেষ্টাকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন সচিবালয়ের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। প্রায় সাত ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর অর্থ উপদেষ্টা সচিবালয় থেকে পুলিশি সহায়তায় বের হয়েছেন বলে জানা গেছে।

সচিবালয়ের ভেতরে অর্থ বিভাগের জন্য ১৮ তলা ভবন রয়েছে। এ ভবনের চারতলায় অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়। আজ বেলা দুইটার দিকে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অর্থ উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে গিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। তার আগে আজ সকালে ঢাকার আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে জাতীয় ভ্যাট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা। সেখান থেকে তখনো তিনি কার্যালয়ে ফেরেননি। তবে ফেরার পর খবর পেয়ে আবার তার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন কর্মচারীরা। এ সময় কর্মচারীরা হ্যান্ডমাইকে ভাতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

কর্মচারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সচিবেরা রাতে যতক্ষণ অফিসে থাকেন, ততক্ষণ তাদেরও অফিস করতে হয়। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত বেতন কাঠামোর বাইরে নানা ধরনের ভাতা পেলেও সচিবালয়ের কর্মচারীদের তা দেওয়া হয় না।

আন্দোলনকারীদের একজন আজ সন্ধ্যায় জানিয়েছিলেন, দীর্ঘদিন থেকেই তাদের ক্ষোভ রয়েছে। রেশনের দাবিতে এর আগেও তারা অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করেছিলেন। তখন তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, রেশনের দিকটি বিবেচনা করবেন। কিন্তু তিনি কথা রাখেননি।

এ ছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা চালুর আশ্বাস দিয়েও পরে তা কার্যকর করেনি সরকার। নতুন বেতন কমিশনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। অর্থ উপদেষ্টা এরই মধ্যে কয়েকবার বলেছেন, বেতন কমিশন বাস্তবায়ন করবে নির্বাচিত সরকার। 

এর আগে গত ২২ জুন সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতেও অর্থ বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন কর্মচারীরা।

সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মো. নুরুজ্জামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অর্থ উপদেষ্টা কথা দিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা তিনটার মধ্যে দুদক কর্মচারীদের সমান ঝুঁকি ভাতা হিসেবে আমাদের জন্য ৩০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করবেন। কথা বলার সময় অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং অর্থ বিভাগের বিভিন্ন উইংয়ের অতিরিক্ত সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।