img

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা, মধু ও পরাগরেণু নিয়ে গবেষণায় বৈপ্লবিক সাফল্য

প্রকাশিত :  ১৮:৪৬, ০১ জুন ২০২৫

বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা, মধু ও পরাগরেণু নিয়ে গবেষণায় বৈপ্লবিক সাফল্য

বিশেষ প্রতিনিধি: সন্তান না হওয়া বা ইনফার্টিলিটি সমস্যার চিকিৎসায় বাংলাদেশে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে নিরলস ভূমিকা পালন করায় বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. মোশতাক আহমেদ ও ডা. ফারহানা আনাম-কে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কারে ভূষিত করেছে ‘শিক্ষা অনির্বাণ বাংলাদেশ’।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০০৩ সাল থেকে এই চিকিৎসক দম্পতি দেশে বন্ধ্যত্ব চিকিৎসায় পথিকৃতের ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁদের হাত ধরেই বাংলাদেশে প্রথম ইকসি ( intracytoplasmic sperm injection) শিশুর জন্ম হয়, যার বয়স বর্তমানে ২১ বছর। এরপর তাঁরা শত শত দম্পতির মুখে হাসি ফুটিয়েছেন এবং দেশের শীর্ষ ইনফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে ‘শিক্ষা অনির্বাণ বাংলাদেশ’-এর পরিচালক ড. মুহাম্মদ আতাহার উদ্দিন বলেন— “ডা. মোশতাক আহমেদ ও ডা. ফারহানা আনামের মতো গবেষক ও চিকিৎসকরা আমাদের জাতীয় সম্পদ। তাঁদের উদ্যমেই বাংলাদেশে বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা আজ একটি প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসা শাখায় পরিণত হয়েছে।”

পরাগরেণু ও মধুর পুষ্টিগুণ নিয়ে ব্যতিক্রমী গবেষণা

ইনফার্টিলিটি চিকিৎসার পাশাপাশি এই দুই গবেষক মধু ও পরাগরেণুর পুষ্টিগুণ এবং তা মানবদেহে হজমযোগ্য কিনা—তা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যতিক্রমধর্মী গবেষণা পরিচালনা করেছেন। মূল প্রশ্ন ছিল, মৌমাছির হজমপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া পরাগরেণু মানুষের দেহে হজম হয় কিনা এবং পুষ্টিগুণ বজায় থাকে কি না।

২০২১ সালের মার্চে দিনাজপুরের একটি মৌচাষ খামার (ডক্টর হানি) থেকে সংগ্রহ করা কাঁচা লিচু ফুলের মধু থেকে পরাগরেণু আলাদা করে pH ≈ 2 মাত্রার সাইট্রিক অ্যাসিডে পরীক্ষা চালানো হয়। গবেষণায় আরও দেখা যায়, সরাসরি প্রকৃতি থেকে সংগৃহীত কাঁচা পরাগরেণুকে pH ≈ 2 মাত্রার সাইট্রিক অ্যাসিডে ভিজিয়ে রাখলেও অধিকাংশ পরাগরেণু ভাঙেনি, যা প্রমাণ করে এর বাইরের আবরণ কতটা শক্ত। এ থেকে বোঝা যায়, মানবদেহে এমন পরাগ সরাসরি খেলে তা হজমযোগ্য নয়।

বিপরীতে, মৌমাছির হজমপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া পরাগ মৌচাকের মধুর সঙ্গে আধা-ভাঙা অবস্থায় থাকে, ফলে তা মানবদেহে সহজেই হজম হয় এবং পুষ্টিগুণ সহজে শোষণযোগ্য হয়।

এই গবেষণা প্রমাণ করে, মৌচাকের মধুতে থাকা পরাগরেণু মৌমাছির হজমপ্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যেই আংশিক ভেঙে যায়, যা মানুষ সহজেই হজম করতে পারে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে সক্ষম হয়।

পরাগরেণুতে রয়েছে প্রায় ২২.৭% প্রোটিন, ১০.৪% অ্যামিনো অ্যাসিড, পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন ভিটামিন, মিনারেল, ফ্যাট ও ফ্ল্যাভোনয়েড—যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ক্যানসার প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবদেহে সেলুলোজ ভাঙার উপযুক্ত এনজাইম না থাকলেও, মৌমাছির হজমতন্ত্রে থাকা bifidobacterium ও coryneform জাতীয় উপকারী ব্যাকটেরিয়া এই কঠিন প্রাচীর ভাঙতে সক্ষম, ফলে মধুর পরাগ মানবদেহে অধিক হজমযোগ্য হয়।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষত আমেরিকায় বিক্রি হওয়া অধিকাংশ মধু থেকে পরাগরেণু ফিল্টার করে বাদ দেওয়া হয়, যাতে মধু জমে না বা স্ফটিকায়িত না হয়। কিন্তু এতে করে মধুর প্রকৃত পুষ্টিগুণ অনেকটাই হারিয়ে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে গবেষকদের সুপারিশ—পরাগরেণু সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক মৌচাকের মধুই সর্বোত্তম পুষ্টিগুণ নিশ্চিত করে, যা ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক ইনফার্টিলিটি চিকিৎসায়ও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

ডা. মোশতাক আহমেদ ও ডা. ফারহানা আনামের এই গবেষণা শুধু মধুর পুষ্টিগুণ নয়, বরং প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের সম্ভাবনা আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে। তাঁদের এই গবেষণা ইতোমধ্যেই দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে এবং ইনফার্টিলিটি চিকিৎসায় এক নতুন প্রাকৃতিক দিগন্তের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

ইতালির সঙ্গে চুক্তি

img

ইউরোফাইটার টাইফুন যুদ্ধবিমান কিনবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৫:২৩, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৩৭, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যুক্ত হতে যাচ্ছে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান। এর নাম 'ইউরোফাইটার টাইফুন'। এই বিমান কেনার জন্য ইতালির লিওনার্দো এসপিএ কোম্পানির সঙ্গে একটি 'লেটার অফ ইনটেন্ট' বা প্রাথমিক সম্মতিপত্র সই করেছে বাংলাদেশ। বিমান বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার পথে এটি একটি বড় পদক্ষেপ।

আজ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার বিমান বাহিনী সদর দপ্তরে এই চুক্তি সই হয়। বিমান বাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান। বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ দুই দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ভবিষ্যতে ইউরোফাইটার টাইফুন বিমানগুলো দেশে আসবে। এগুলো বিমান বাহিনীর মূল বহরে বা 'ফ্রন্টলাইন ফ্লিট'-এ যুক্ত হবে। এই বিমানগুলো নতুন প্রজন্মের এবং বহু ধরণের কাজ করতে সক্ষম।

দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক করার কাজ চলছে। এই 'মাল্টিরোল' বা বহুমুখী ক্ষমতার যুদ্ধবিমান কেনা সেই পরিকল্পনারই অংশ।

এর আগে গত এপ্রিলে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছিল। ১১ সদস্যের ওই কমিটির প্রধান ছিলেন বিমান বাহিনী প্রধান। তখন চীনের তৈরি ২০টি জে-১০ যুদ্ধবিমান কেনার আলোচনা চলছিল। ওই প্রকল্পের বাজেট ধরা হয়েছিল ২.২ বিলিয়ন ডলার।

'ওয়ারপাওয়ারবাংলাদেশ ডট কম'-এর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর হাতে ২১২টি আকাশযান রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি যুদ্ধবিমান।