img

শেয়ারবাজারে ফিরছে আস্থা: বীমা ও টেক্সটাইল খাতের উত্থানে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ডিএসই!

প্রকাশিত :  ১১:৫০, ০২ জুলাই ২০২৫

শেয়ারবাজারে ফিরছে আস্থা: বীমা ও টেক্সটাইল খাতের উত্থানে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে ডিএসই!

দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও পুঁজিবাজার আজ একটি ব্যতিক্রমী বার্তা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের ধীরগতি ও বিনিয়োগকারীদের হতাশা কাটিয়ে আজকের বাজার পরিস্থিতি যেন আশাব্যঞ্জক এক পরিবর্তনের সূচনা করেছে। দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক DSEX ২৬.৯৪ পয়েন্ট বা ০.৫৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৮৬৫.৩৩ পয়েন্টে, যা বিনিয়োগকারীদের মনোবলে নতুন করে আশা সঞ্চার করেছে।

বাজারের অন্যান্য সূচকেও দেখা গেছে ইতিবাচক গতি। DSES ও DS30 সূচক সামান্য হলেও ঊর্ধ্বমুখী ছিল, যা বাজারে আস্থার প্রতিফলন বলে ধরে নেওয়া যায়।

বাজার চিত্র ও লেনদেন বিশ্লেষণ

আজকের দিনের লেনদেনের পরিমাণ ও অংশগ্রহণের দিক থেকে বাজার ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে চাঙা। দিনভর মোট ১,৫৮,৪৬৬টি লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে এবং মোট লেনদেনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৭৯.৫২ কোটি টাকা। এ সময়ে ২০.৯৩ কোটি ইউনিট শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা গত কয়েক কার্যদিবসের তুলনায় বাজারে স্পষ্ট উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

শেয়ারদরের দিক থেকেও বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। ২৭৫টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে ৬৮টি কমেছে, এবং ৪৯টি অপরিবর্তিত ছিল। এ পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, বাজারে আজ ক্রেতাদের আধিপত্য ছিল এবং বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরছে।

সেক্টরভিত্তিক অগ্রগতি

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে বীমা খাতে। একাধিক বীমা কোম্পানির শেয়ারে মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে একটি সুস্পষ্ট ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে আস্থা ফিরে আসার পেছনে এ খাতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পারফর্মার খাত হিসেবে উঠে এসেছে টেক্সটাইল। রপ্তানি খাতে স্থিতিশীলতা এবং পোশাক খাতে নতুন অর্ডার প্রাপ্তির সম্ভাবনার গুঞ্জন বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

এ ছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধ-রসায়ন, ব্যাংক, মিউচুয়াল ফান্ড এবং নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতেও আজ চাঙাভাব লক্ষ্য করা গেছে। কিছু খাদ্য ও জ্বালানি খাতের শেয়ারেও আজ উল্লেখযোগ্য লেনদেন হয়েছে, যা বাজারের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।

শীর্ষ পারফর্মিং শেয়ার

BEACHHATCH (Food & Allied): ২.৬৯% দরবৃদ্ধি, লেনদেন ২০.১৪ কোটি টাকা

AGNSYSL (IT): ১.১১% দরবৃদ্ধি, লেনদেন ১৬.০৩ কোটি টাকা

SEMLICF (Mutual Fund): ৪.৮৫% দরবৃদ্ধি

এই শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ প্রমাণ করে যে, বাজারে ধীরে ধীরে তথ্যভিত্তিক বিনিয়োগ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কারিগরি বিশ্লেষণ

দিনের শুরুতে কিছুটা বিক্রয়চাপ থাকলেও দুপুরের পর বাজার ঘুরে দাঁড়ায়। বিশেষ করে দুপুর ২টার পর DSEX সূচকে একটি বুলিশ (উর্ধ্বমুখী) মুভমেন্ট দেখা যায়, যা প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণে ‘ব্রেকআউট’ মুহূর্ত হিসেবে ধরা যায়। এটি বাজারে আশাবাদী বিনিয়োগকারীদের মনোভাব আরও শক্তিশালী করেছে।

বাজারে আস্থা কি ফিরছে?

গত কয়েক মাস ধরে দেশের শেয়ারবাজার নানা চ্যালেঞ্জে জর্জরিত ছিল—তারল্য সংকট, মুনাফাভিত্তিক বিক্রি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস ইত্যাদি। তবে আজকের বাজারচিত্র এ ধারার ব্যতিক্রম। ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে স্বল্পমেয়াদে একটি পজিটিভ ট্রেন্ড গঠিত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা

বাজারে আশাব্যঞ্জক গতি ফিরলেও সামনে রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ:

দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কতটা বজায় থাকবে?

রিজার্ভ সংকট ও ডলার ক্রাইসিস মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ কতটা গ্রহণ করা হবে?

নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর তৎপরতা কতটা টেকসই হবে?

এসব প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের বাজার প্রবণতাকে বহুলাংশে নির্ধারণ করবে।

ভবিষ্যৎ নির্দেশনা ও পরামর্শ

বিনিয়োগকারীদের প্রতি: ১. গুজব ও হাইপ থেকে বিরত থেকে তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

 ২. মৌলভিত্তিক কোম্পানিতে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করুন।

 ৩. সেক্টর রোটেশন বিবেচনায় রেখে স্ট্র্যাটেজিক পোর্টফোলিও তৈরি করুন।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতি: ১. বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করা জরুরি।

 ২. IPO ব্যবস্থাপনা ও ট্রেডিং সিস্টেমে সময়োপযোগী সংস্কার আনতে হবে।

 ৩. দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে করনীতি ও ডিভিডেন্ড পলিসি সহজীকরণ প্রয়োজন।

আজকের শেয়ারবাজারের চিত্র আমাদের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস টেনে আনার মতো। বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা, শীর্ষ খাতগুলোর উত্থান এবং সূচকের ঊর্ধ্বমুখী গতি বাজারে ধীরে ধীরে আস্থা ফেরার একটি বার্তা দিচ্ছে।

তবে এই ধারা ধরে রাখতে হলে বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সরকারের আর্থিক নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত ও দায়িত্বশীল ভূমিকাই হবে প্রধান চাবিকাঠি। কারণ, শেয়ারবাজার কেবল মুনাফার প্ল্যাটফর্ম নয়—এটি একটি জাতির অর্থনৈতিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

পরিকল্পিত অংশগ্রহণ, সময়োপযোগী নীতিমালা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ পরিবেশই পারে পুঁজিবাজারকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম স্তম্ভে পরিণত করতে। 

img

ন্যাশনালসহ চার ব্যাংকে এবার পর্যবেক্ষক বসালো বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১৪:২৮, ০৯ মার্চ ২০২৬

ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালকেরা সেই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা করছেন। তবে এতে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক এবার এমন চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসালো। মূলত এসব ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় পর্যবেক্ষক বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বেসরকারি খাতের ব্যাংক চারটি হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নিয়োগ দিয়ে এই সব ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পদমর্যাদার চার কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি ও নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন। ফলে একই ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও পর্যবেক্ষক বসিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী বার্তা দিতে চায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসানোর বিষয়ে অনেক আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন গভর্নর সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আপাতত চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- ন্যাশনাল ব্যাংকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-১২ এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরীকে। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ.এন.এম. মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ-১ এর পরিচালক একেএম কামরুজ্জামানকে। পর্যবেক্ষকরা বৈঠকে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মতামত তুলে ধরবেন।

এর আগে, ঋণ জালিয়াতি, নিয়োগ-পদোন্নতিতে স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোট ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই তালিকায় এই চার ব্যাংকও ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকের পরিচালনায় যুক্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পলাতক।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা করতো জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক পরিচালনা করত এইচ বি এম ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপ। আইএফআইসি ব্যাংক পরিচালনা করতো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করতেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ।

অর্থনীতি এর আরও খবর