img

আলো দেখা যাচ্ছে—চোখে নয়, মনে! ঘোর অন্ধকারের পরেই তো ভোর নামে...

প্রকাশিত :  ১৩:৪৮, ০৮ জুলাই ২০২৫

আলো দেখা যাচ্ছে—চোখে নয়, মনে! ঘোর অন্ধকারের পরেই তো ভোর নামে...

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরেই যেন এক ধরনের অচলাবস্থায় আটকে ছিল—একজন অসুস্থ রোগীর মতো নিস্তেজ ও ক্লান্ত। কোথাও গতি নেই, কোথাও উত্তেজনা নেই। বিনিয়োগকারীদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ, মনে সংশয়, আর টাকায় নেই সেই পুরোনো সাহস। তবে সময় কখনোই স্থির থাকে না। আজকের সূচকে যে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেল, তা নিঃসন্দেহে আশার আলোর ক্ষীণ একটি রেখা—একটি ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উত্থান, যেটিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

আমরা প্রায়শই ভুলে যাই—উন্নতির পথ কখনোই সরল হয় না। কখনো চড়াই, কখনো খাড়া ঢাল, কখনো বা তীব্র ধাক্কা থাকে সেই পথে। পুঁজিবাজারও ঠিক তেমনই। আজকের এই সামান্য ঊর্ধ্বমুখী গতি, যদিও অনেকটাই স্বল্প মূলধনী শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল, তবুও এটিই হতে পারে সম্ভাব্য জাগরণের এক সূচনা। তবে এখনই উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার সময় নয়। বরং এখন সময়—আরও বেশি সতর্ক, আরও বেশি প্রস্তুত হওয়ার।

হতাশ হবেন না—কারণ সংকটই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেয়।

যারা পুঁজিবাজার থেকে প্রকৃত মুনাফা অর্জন করেছেন, তাঁদের বেশিরভাগই সেটা করেছেন বাজারের মন্দাবস্থায়। তারা হতাশ হয়ে বিক্রি করেননি, বরং বিচক্ষণতার সঙ্গে বিনিয়োগ করেছেন। কারণ, সেটাই ছিল ‘সঠিক সময়, সঠিক সিদ্ধান্ত’-এর মুহূর্ত। তাই আপনার জন্য এখনই সেই সময়—ভয়ের আবরণ সরিয়ে সাহসিকতার খাতায় নিজের নাম লেখানোর।

মনে রাখবেন, কম দামে ভালো শেয়ার কেনা মানেই ভবিষ্যতে উচ্চ মুনাফার সম্ভাবনা। আজ যে স্বল্প মূলধনী শেয়ারে লেনদেন বেড়েছে, তা একদিকে যেমন বাজারের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, তেমনি নতুন বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার চেষ্টাও প্রকাশ করে। অনেকেই আবার বাজারে ভরসা রেখে ধীরে ধীরে ফিরছেন। এটাই হতে পারে বাজারের প্রাণ ফিরে পাওয়ার সূচনা।

যে থেমে যায়, সে পিছিয়ে পড়ে। যে এগিয়ে চলে, সে-ই গড়ে ইতিহাস।

বাজার যখন স্থবির থাকে, তখনই ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মিত হয়। এই সময় যদি আপনি হতাশ হয়ে বসে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষমাণ সুযোগ অন্য কেউ নিয়ে নিতে পারে। তাই এখনই উপযুক্ত সময়—নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ, জ্ঞানকে কাজে লাগানো এবং ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার।

বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা কখনোই বাজারের চূড়ায় প্রবেশ করেননি—তাঁরা বিনিয়োগ শুরু করেছেন বাজারের সবচেয়ে নিচে, যখন সবার মধ্যে ভয় আর অনিশ্চয়তা কাজ করেছে। আর তারাই পরিণামে হয়েছেন সফল।

ভয় নয়, প্রয়োজন বিশ্লেষণ আর প্রতিজ্ঞার।

আজ কিছু খাতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে—বিশেষ করে বীমা, ব্যাংক, ওষুধ ও প্রকৌশল খাতে। যারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছেন কোথায় রয়েছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। যারা ধৈর্য ধরে এগোবেন, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের জন্য এখনই সময় একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ পোর্টফোলিও গড়ে তোলার।

সাহস ছাড়া বড় কিছু অর্জন সম্ভব নয়।

পুঁজিবাজারে ওঠানামা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। দেশের অর্থনীতি, মুদ্রানীতি কিংবা বৈশ্বিক বাজার—সবকিছুর প্রভাব পড়ে এখানে। কিন্তু আপনি যদি প্রতিটি সংকটকে শিক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখেন, তাহলে এই বাজারই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় আয়ের মাধ্যম।

আজকের অনিশ্চয়তা—হতে পারে আগামীর অর্জনের ভিত্তি।

আপনার বিনিয়োগ যেন অলস পড়ে না থাকে। একে ভাবুন একজন সৈনিকের মতো, যে সঠিক কৌশলে, সঠিক সময় মাঠে নামলে যুদ্ধে জয়লাভ করে। আপনার পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং সময়জ্ঞানই তাকে সফল করে তুলবে।

সূচক উঠছে বা নামছে—এটাই মুখ্য নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত। বাজার পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই যদি আপনি নিজের কৌশল ঠিক করেন, তবে আপনি সামনে আসা সুযোগগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবেন।

ভয় নয়—সচেতনতা ও সাহসিকতাই হোক আপনার মূলমন্ত্র।

আজ থেকেই শুরু করুন নিজের প্রস্তুতি। নিজের ভেতরের বিনিয়োগকারীকে জাগিয়ে তুলুন। মনে রাখবেন—সময়ের আগেই হার মেনে নিলে সময় আপনার জন্য যা এনেছিল, তা আপনি আর কখনোই পাবেন না।

ঘোর অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, নতুন ভোর আসবেই।

শুধু প্রশ্ন হলো—আপনি কি সেই ভোরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত?

শুভ বিনিয়োগ। সাহস নিয়ে এগিয়ে চলুন। ভবিষ্যৎ আপনাকেই ডাকছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

একনেক সভায় ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকার ২৫ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত :  ১৩:০৭, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংশোধনীসহ ২৫টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ, বৈদেশিক ঋণের ৩২ হাজার ৯৮ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে  সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।

\r\n

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো—হেলথ অ্যান্ড নিউট্রিশন সার্ভিস ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড সিস্টেম স্ট্রেংদেনিং প্রজেক্ট, আড়িয়ার খাঁ বিল এলাকার জীবনমান উন্নয়ন, চট্টগ্রামসহ পারকিতে পর্যটন কেন্দ্রের সুবিধা বৃদ্ধি এবং কুমিল্লা জেলার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এছাড়া শরিয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলায় পদ্মা নদীর ভাঙন রোধ করা, তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙন থেকে বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা রক্ষা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় পদ্মা নদীর তীর সংরক্ষণ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় মহানন্দা নদী ড্রেজিং ও রাবারড্যাম নির্মাণ, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার নদীগুলোর টেকসই ব্যবস্থাপনা, স্মলহোল্ডার এগ্রিকারচারাল কস্টিটিটিভনেস প্রজেক্ট এবং আশুগঞ্জ-পলাশ সবুজ প্রকল্প। 
\r\nআরও আছে- নীলফামারীতে বাংলাদেশ-চায়না ১ হাজার শয্যার হাসপাতাল তৈরি, বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশুদের বিকল্প শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, সিলেট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন, সিলেটে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন, দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত যুবকদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দোহাজারী হয়ে রামু থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন তৈরি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় নির্মাণ এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ফাঁড়ি, ক্যাম্প, নৌপুলিশ কেন্দ্রের উন্নয়ন প্রকল্প। এছাড়া স্যানিটেশনে নারী উদ্যোক্তা, চট্টগ্রাম হযরত শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ের উন্নয়ন, চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, মুন্সিগঞ্জের সড়ক বিভাগের চারটি সড়কের উন্রয়ন এবং রাঙ্গামাটি-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
\r\nপরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, আমরা চিঠি দিচ্ছি যাতে আগামী জুন বা ডিসেম্বর মাসে যেসব প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে সেগুলো আবশ্যিকভাবে শেষ করতে হবে। না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন থেকে চলমান প্রকল্পগুলো প্রতি তিন মাস পার পর মূল্যায়ন করা হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে স্থানীয় লোকদের যুক্ত করা হবে। 
\r\nতিনি জানান, নীলফামারিতে তৈরি হচ্ছে চীনের অনুদানে অনেক বড় একটি হাসপাতাল। জেলাটি অবহেলিত হওয়ায় নীলফামারিকে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে হাসপাতালটি হলে আশপাশের দেশ থেকেও মানুষ চিকিৎসা নিতে আসবে।
\r\nরূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডলারের হিসেবে খুব বেশি ব্যয় বড়েনি। কিন্তু টাকার অংকে দেখলে অনেক বেশি বৃদ্ধি মনে হয়।
\r\nপরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ক্লিন এয়ার প্রকল্প উপস্থাপন করা হলেও সেটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কারণ এ প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ মাপা হবে। এজন্য আমরা ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে প্রকল্প নিতে চাই না। দূষণ মাপার চেয়ে দূষণ কমানোটাই জরুরি। বৈদেশিক ঋণে এমন প্রকল্প নেওয়াটা যৌক্তিক মনে হয়নি। বিশ্বব্যাংক এডিবি আমরা বললেই সুন্দর করে প্রকল্প তৈরি করে দেয়। বৈদেশিক ঋণ নিয়ে ঋণের ফাঁদে পড়তে চাই না। এখন থেকে আমরা সামাজিক খাতে বৈদেশিক ঋণ কম নেওয়া হবে। বরং যেসব প্রকল্প নিলে বিনিয়োগ বেশি হবে সে রকম প্রকল্পে ঋণ নেওয়া হবে।