img

শ্রীমঙ্গলে সবুজ ফণিমনসা সাপ উদ্ধার

প্রকাশিত :  ০৯:২৭, ০৯ জুলাই ২০২৫

শ্রীমঙ্গলে সবুজ ফণিমনসা সাপ উদ্ধার

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরে নতুন বাজারের কলার আড়ৎ থেকে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন একটি সবুজ পরিমাণ সাহা উদ্ধার করেছে।

মঙ্গলবার ( ৮ জুলাই) রাত সাড়ে আটটার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের নতুন বাজারের শ্রী সুশেন্দ্র দেবের কলার আড়তে  হঠাৎ একটি সাপ দেখে দোকানে উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সঞ্জিত দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেন যে এটি একটি সবুজ ফণিমনসা সাপ।  পরবর্তীতে ফণিমনসা সাপটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

উল্লেখ্য যে, শ্রীমঙ্গল - কমলগঞ্জ উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ভানুগাছ পাহাড় যা পরবর্তীতে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান হিসেবে দেশ-বিদেশে সকলের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। এই বনাঞ্চলটিতে দীর্ঘ পাঁচ দশকে একশ্রেণীর প্রভাব প্রতিপত্তিশালী ধনাঢ্য গোষ্ঠী বনাঞ্চলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রবেশ করে বনের মূল্যবান সেগুন, কড়ইসহ বিভিন্ন ধরনের মূল্যবান গাছ কেটে উজাড়, বনাঞ্চলের জমি দখল করে বিভিন্ন ধরনের রিসোর্ট, চা, লেবু, আনারস কাঁঠাল বাগান তৈরি ও বসতি স্থাপন করার কারণে 

বন্য পশুপাখির খাদ্যাভাব  দেখা দেওয়ায় বিভিন্ন ধরনের পশুপাখি ও জীবজন্তু খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে ছুটে আসে। অনেক সময় রাস্তার পাশে যানবাহনের নিচে পড়ে মারা যায়, আহত হয়। লোকজনের কাছে ধরা পড়ে প্রাণ হারায়। অনেক সময় বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ খবর পেলে বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন ধরনের পশু পাখি উদ্ধার করে স্থানীয় বনাঞ্চলের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষের কাছে বনাঞ্চলে অবমুক্ত করার জন্য হস্তান্তর করেন। বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেড় দশকে প্রায় সাত শতাধিকের উপর বিভিন্ন ধরনের বন্য পশুপাখি বিভিন্ন স্থান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় বনাঞ্চলের অবমুক্তি করার খবর পাওয়া গেছে ।



img

শ্রীমঙ্গলে ইতিহাসের নতুন দিগন্ত: দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের ব্যতিক্রমী পূজা

প্রকাশিত :  ০৪:২১, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: চায়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল এবার সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী ধর্মীয়–সাংস্কৃতিক আয়োজনের। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ গোসাইবাড়ি রোড সংলগ্ন লালবাগ যুব কিশোর সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের পূজা—যা এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম। একই পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন রূপ এবং মূল প্রতিমাসহ মোট ১৭টি মূর্তি নির্মাণ করে পূজা করা হয়েছে।

এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শিল্প ও দর্শনের এক জীবন্ত প্রদর্শনী। প্রতিটি রূপে দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও ব্যঞ্জনায়। কোথাও তিনি জ্ঞানের আলোকবর্তিকা, কোথাও অজ্ঞতা বিনাশী শক্তি, আবার কোথাও সৃজনশীলতা, সংগীত ও মানবিক চেতনার প্রতীক।

গৌরী রূপে দেবী সরস্বতী জ্ঞান, মেধা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে মানবচেতনাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেছেন। মানবী রূপে তিনি মানবজাতির কল্যাণ ও প্রজ্ঞাবৃদ্ধির বার্তা বহন করেন। মানসী রূপে মন, চেতনা ও বিবেক আলোকিত করেন, আর মহাকালী ও কালী রূপে অজ্ঞতা ও অসত্য ধ্বংসের শক্তিকে প্রতিফলিত করেন।

বজ্রশৃঙ্খলা রূপে দেবী অজ্ঞতার শৃঙ্খল ভেঙে জ্ঞানকে অপরাজেয় শক্তিতে রূপ দেন। কুলি শাঙ্কুশা রূপে বিদ্যা, বুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা দেন। মহামানব, প্রজ্ঞপ্তী ও চকেশ্বরী রূপে সত্য–অসত্যের পার্থক্য অনুধাবন, নৈতিকতা ও শক্তির সমন্বয়ের দর্শন ফুটে ওঠে।

পুরুষ দত্তা ভারতীয়, বৈরাট্যা, মোহিনী ও গান্ধারী রূপে ভাষা, বাগ্মী শক্তি, সৃজনশীলতা ও সংগীতকলার বিকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছেন দেবী সরস্বতী। সর্বশেষ আচ্ছুপ্তা রূপে তিনি মায়া ও অজ্ঞতা দূর করে মানবচেতনাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন।

নিপুণ কারুকাজ, রঙের নান্দনিক ব্যবহার এবং প্রতিটি প্রতিমার ভাবনাগত গভীরতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি মূর্তি যেন আলাদা আলাদা গল্প বলে—মানুষের মন, বিবেক ও বুদ্ধির গভীরে আলো জ্বালানোর গল্প।
লালবাগ যুব কিশোর সংঘের সভাপতি কৌশিক দত্ত ও উপদেষ্টা প্রান্ত মিশ্র জানান, “এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের এমন পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের লক্ষ্য ছিল দেবী সরস্বতীকে কেবল বিদ্যার দেবী হিসেবে নয়, বরং মানবচেতনার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা।”
সকাল থেকেই পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, এই ব্যতিক্রমী আয়োজন কতটা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে সাধারণ মানুষের।

শ্রীমঙ্গলের এই অনন্য উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞান, শিল্প ও মানবিক চেতনার এক স্মরণীয় মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর