img

বৃষ্টির দিনে বিপদ এড়াতে খেয়াল রাখুন

প্রকাশিত :  ১৬:০৫, ০৯ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৩১, ০৯ জুলাই ২০২৫

বৃষ্টির দিনে বিপদ এড়াতে খেয়াল রাখুন

বৃষ্টি-বাদলের সময় টানা বর্ষণে পানির উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে ঘরবাড়িতে পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর ফলে নানান বিপদও সামনে আসে। তাই নিরাপদ থাকতে কিছু বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

জেনে নেওয়া যাক বৃষ্টির দিনে যেসব বিষয়কে নজরে রাখতে হবে:

 জানালা ও দরজা

বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে নিশ্চিত করুন সব জানালা ও দরজা বন্ধ আছে। এতে ঘরে পানি প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে এবং ঘরের ভেতর পানি জমা থেকে রক্ষা করবে। বিশেষ করে শোবার ঘরের জানালাগুলোকে পর্যবেক্ষণ করুন, কারণ সেখান থেকে পানি ঢুকে বিছানা নষ্ট করে দিতে পারে। দরজাগুলো সঠিকভাবে বন্ধ হচ্ছে কিনা তাও দেখুন।

বিদ্যুৎ সরঞ্জাম

বৃষ্টির দিনে বজ্রপাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিদ্যুতের যন্ত্রপাতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, যেমন টিভি, কম্পিউটার এবং ওয়াশিং মেশিনের প্লাগ খুলে রাখুন। ঝড়ের সময় বিদ্যুৎ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখাই শ্রেয়। এটি আপনার ঘর ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

ছাদের অবস্থা

বৃষ্টির কারণে ছাদে পানি জমলে তা গৃহের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। ছাদের গর্ত ও ফাটলগুলো ঠিক করে নিন এবং নিয়মিতভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করুন। বৃষ্টির পরে ছাদে পানি জমে গেলে তা দ্রুত নিষ্কাশন করার ব্যবস্থা করুন, যাতে ছাদের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা

নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রবাহ বন্ধ থাকলে বৃষ্টির পানি দ্রুত জমতে পারে। তাই খেয়াল রাখুন, পানি নিষ্কাশনের জন্য যে নল বা পাইপগুলো আছে, সেগুলো পরিষ্কার এবং ব্লকিং মুক্ত আছে কিনা। নিয়মিতভাবে এই পাইপগুলো পরীক্ষা করুন, যাতে বৃষ্টির সময়ে পানি জমে না যায়।

 ফ্লোরের পরিচ্ছন্নতা

বৃষ্টির কারণে মেঝে পিচ্ছিল হয়ে যায়। তাই নিশ্চিত করুন, ফ্লোরে কোনো আবর্জনা, মাটির গাদা বা পানি জমে নেই, যাতে পড়ে গিয়ে আঘাত না লাগে। বিশেষ করে বাড়িতে ছোট বাচ্চা বা প্রবীণ সদস্য থাকলে তাদের নিরাপত্তার দিকে বেশি নজর দিন। পিচ্ছিল জায়গা দ্রুত মুছে ফেলুন।

ফায়ার এলার্ম

বৃষ্টির কারণে বৈদ্যুতিক সমস্যা সৃষ্টি হলে ফায়ার এলার্ম সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা তা পরীক্ষা করে নিন। নিয়মিতভাবে এটি পরীক্ষা করা উচিত। যদি কোন ফায়ার এলার্ম বা সিকিউরিটি সিস্টেমে সমস্যা থাকে, তাহলে তা দ্রুত মেরামত করুন।

জরুরি কিট

বৃষ্টির দিনে বিপজ্জনক পরিস্থিতির জন্য একটি জরুরি কিট প্রস্তুত রাখুন। এতে ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপটিক, গ্লুকোজ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ রাখতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে এই কিট সাহায্য করবে এবং আপনাকে দ্রুত সাহায্য পাওয়ার সুযোগ দেবে।

খাবারের সংরক্ষণ

পানি জমলে খাদ্যপণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে। তাই খাদ্যদ্রব্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করুন এবং দরজায় বা জানালার পাশে খাবারের প্যাকেট না রাখার চেষ্টা করুন। বৃষ্টির দিনে খাদ্যদ্রব্যের সংরক্ষণ নিয়ে সতর্ক থাকুন, বিশেষ করে কাঁচা পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে।

গাছপালা

বৃষ্টির দিনে গাছের ডাল ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গাছপালা নিয়মিত তদারকি করুন এবং বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা গাছগুলো কেটে ফেলুন। বাড়ির আশেপাশের গাছপালা থেকে পানি পড়ে গিয়ে বাড়ির পরিবেশ নষ্ট না হয়, তা লক্ষ্য রাখুন।

 নিরাপত্তা

নিজের নিরাপত্তার ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। একা বের হওয়ার প্রয়োজন হলে নিরাপদ পন্থা অবলম্বন করুন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে বাইরে বের হওয়ার আগে আবহাওয়ার পূর্বাভাস দেখে পরিকল্পনা করুন।

img

দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে যা জানা জরুরি

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পৃথিবীর সঙ্গে আমাদের অনুভূতি, অভিজ্ঞতা আর সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম চোখ । অথচ দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে আমরা চোখের যত্ন নেওয়ার কথাই সবচেয়ে কম ভাবি। যতক্ষণ না লেখা ঝাপসা হয়ে আসে, কিংবা কাছের কিছু পড়তে হাত অজান্তেই দূরে সরে যায়—ততক্ষণ চোখের গুরুত্ব যেন আমাদের চোখেই পড়ে না।

বাইবেলে চোখকে বলা হয়েছে ‘শরীরের প্রদীপ’।

চোখ সুস্থ থাকলে জীবন আলোকিত, আর চোখ দুর্বল হলে সেই আলো ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের সেন্টার ফর আই রিসার্চের ডেপুটি ডিরেক্টর অধ্যাপক লরেন আইটনের মতে,

অন্ধত্ব একটি ভয়ংকর প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো—প্রায় ৯০ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হ্রাস হয় প্রতিরোধযোগ্য, নয়তো চিকিৎসাযোগ্য। অন্য অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার মতোই, চোখ ভালো রাখতে প্রয়োজন সঠিক খাদ্যাভ্যাস, সক্রিয় জীবনধারা এবং নিয়মিত পরীক্ষা।

বর্তমানে সারা বিশ্বে শিশুদের মধ্যে মায়োপিয়া বা নিকটদৃষ্টি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। প্রতি তিনজন শিশুর একজন এখন এই সমস্যায় ভুগছে। এর সুনির্দিষ্ট কারণ পুরোপুরি জানা না গেলেও গবেষণায় দেখা যায়, স্ক্রিন টাইম এখানে একটি ভূমিকা রাখে—যদিও সরাসরি নয়।

চল্লিশের মাঝামাঝি বয়সে অনেকেই হঠাৎ টের পান, কাছের লেখা পড়তে হলে হাত বাড়াতে হচ্ছে।

চোখের ডাক্তাররা মজা করে একে বলেন ‘আমার হাত খুব ছোট’ সিনড্রোম। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় প্রেসবায়োপিয়া—এটি বয়সজনিত এবং পুরোপুরি অনিবার্য।

অনেকেই মনে করেন, স্ক্রিনের দিকে তাকালেই চোখ নষ্ট হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ক্রিন নিজে থেকেই চোখের সবচেয়ে বড় শত্রু—এমন প্রমাণ খুব জোরালো নয়। আসল সমস্যা হলো, স্ক্রিন আমাদের চোখের জন্য উপকারী অনেক কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য বাইরে সময় কাটানো অত্যন্ত জরুরি। সূর্যের আলো চোখের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকাশে সাহায্য করে। ধারণা করা হয়, সূর্যালোক চোখে ডোপামিন নিঃসরণে ভূমিকা রাখে, যা চোখের সুস্থ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয়। তাছাড়া বাইরে থাকলে চোখ দূরের জিনিসে ফোকাস করার সুযোগ পায়—যা ঘরের ভেতরে স্ক্রিনের সামনে বসে সম্ভব নয়।

তাইবিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন অন্তত ১–২ ঘণ্টা বাইরে সময় কাটানো শিশুদের নিকটদৃষ্টির অগ্রগতি কমাতে কার্যকর।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স শক্ত হয়ে যায়, ফলে কাছের জিনিসে ফোকাস করা কঠিন হয়ে পড়ে। এটি প্রতিরোধ করা যায় না। চশমাই এর একমাত্র সমাধান, আর চশমা পরলে চোখ আরও দুর্বল হয়ে যায়—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল।

সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে যেতে পারে। এটি প্রতিরোধযোগ্য না হলেও, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি চিকিৎসা সম্ভব।

নীরবে দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া রোগ

গ্লুকোমা এবং বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন—এই দুটি রোগ শুরুতে কোনো লক্ষণ দেখায় না, কিন্তু ধীরে ধীরে স্থায়ী দৃষ্টিহানি ঘটায়।

গ্লুকোমা অপটিক নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত করে, আর ম্যাকুলার ডিজেনারেশন চোখের পেছনের রেটিনার কেন্দ্রীয় অংশে প্রভাব ফেলে।

এই রোগগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো আগাম শনাক্তকরণ। দেরিতে ধরা পড়লে যে দৃষ্টিশক্তি হারায়, তা আর ফেরানো যায় না।

সুস্থ চোখের জন্য বিশেষজ্ঞদের ‘তিনটি ও(0)’

অফ স্ক্রিন – অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন টাইম কমান

আউটডোর – নিয়মিত বাইরে সময় কাটান

অপটোমেটরিস্ট – নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান

৬০ বছরের নিচে হলে প্রতি ২–৩ বছর পরপর চোখ পরীক্ষা যথেষ্ট। ৬০ পেরোলেই পরীক্ষার ব্যবধান কমানো জরুরি।

চোখের যত্ন মানে শুধু চশমা পরা নয়—এটা পুরো জীবনযাপনের অংশ। আজ একটু সচেতন হলে, ভবিষ্যতের দৃষ্টি হবে আরও পরিষ্কার, উজ্জ্বল আর নির্ভরযোগ্য।

সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান