img

সামনে আরও লড়াই আসছে, সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত :  ১১:১১, ১৮ জুলাই ২০২৫

সামনে আরও লড়াই আসছে, সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি: নাহিদ ইসলাম

মুজিববাদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এনসিপির লড়াই চলবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘হামলা-মামলা দিয়ে এনসিপিকে দমন করা যাবে না। দেশ নির্মাণে সামনে আরেকটি লড়াই আসছে, সেই লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আজ শুক্রবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ শহরের কৃষি ব্যাংক মোড়ে এনসিপির দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রার পথসভায় বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, মুন্সীগঞ্জ মহৎ মানুষদের জন্ম দেয়। প্রতিবাদী মানুষদের জন্ম দেয়। ইদ্রাকপুর ও বিক্রমপুরের ইতিহাসকে ধারণ করে মুন্সীগঞ্জকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা জানি, পদ্মা-মেঘনার দাপটে নদী ভাঙন হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন হচ্ছে। চাঁদাবাজি হচ্ছে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়।

মুন্সীগঞ্জ জেলা এনসিপির সমন্বয়ক কমিটির আহ্বায়ক মাজেদুর ইসলামের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. মেহেদী হাসান, মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী গাজী আব্দুল আলিম, যুগ্ম-আহ্বায়ক মোহাম্মদ সেলিম, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মুজিবুর রহমান প্রমুখ। 

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, মুন্সীগঞ্জের হাজারও মানুষ প্রবাসে থাকেন। আমরা সেই প্রবাসীদের ভোটাধিকারের পক্ষে কথা বলছি। অনেকেই বলছে প্রবাসীদের কোনো অবদান নাই। মুন্সীগঞ্জবাসী আপনাদের পরিবারদের যে সকল সদস্য প্রবাসে থাকে; তাদেরকে সচেতন ও সরব হতে বলবেন। তারা বাংলাদেশের অংশ, আমরা তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করব।

এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আপনাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। আমাদের ফ্যাসিবাদবিরোধী যে রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে; ঐক্যবদ্ধভাবে পরবর্তী বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করতে হবে।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, বাংলাদেশ এখনো পরিপূর্ণ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়নি, বরং ফ্যাসিস্টদের দোসরমুক্ত স্বাধীন দেশ হতে এখনো অনেক পথ বাকি। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই পথ পাড়ি দিতে হবে।


img

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন : ডা. জাহিদ

প্রকাশিত :  ১৪:০২, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:১৩, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আপাতত রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে রেখেই সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হবে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালটির আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। তবে চিকিৎসকরা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন এবং রেসপন্স (সাড়া) করছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

ডা. জাহিদ বলেন, আমরা আশ্বস্ত করতে চাই খালেদা জিয়াকে যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তিনি আগের মতোই সেটি গ্রহণ করতে পারছেন এবং তিনি সত্যিকার অর্থে রেসপন্স করছেন। তার চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড সার্বক্ষণিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছেন যেন সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিত করা যায়। পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা যেন তিনি (খালেদা জিয়া) পেতে পারেন, সেজন্য চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা খুবই আশাবাদী, মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরাও আশাবাদী যে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে এবং পরবর্তীতে প্রয়োজনে তাকে যে কোনো সময় দেশের বাইরেও নিয়ে যাওয়া হতে পারে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, অনেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে এ বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন। কিন্তু আমরা বিনীতভাবে অনুরোধ করতে চাই যেন, খালেদা জিয়ার মতো এমন একজন নেত্রীর বিষয়ে আবেগ বা অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে যেন বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করি। আমরা বলতে চাই তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন এবং সংকটাপন্ন মানুষের জন্য যেটি প্রয়োজন তেমন সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা তিনি পাচ্ছেন।

এর আগে সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একটি সূত্র জানায়, বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে জার্মানভিত্তিক একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) ঢাকার আসার কথা ছিল কিন্তু সেটি আসছে না। অর্থাৎ বেগম জিয়া আপাতত লন্ডন যাচ্ছেন না।

গত ১৪ দিন ধরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন। এদিকে বেগম জিয়ার পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান গত শুক্রবার দেশে এসেছেন। নিয়ম করে তিনি খোঁজ নিচ্ছেন শাশুড়ির। অন্যদিকে লন্ডন থেকেও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

নভেম্বরের ২৩ তারিখে ফুসফুস ও হৃদযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ নিয়ে ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। সবশেষ কিডনি, হৃদরোগ এবং নতুন করে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে তার চিকিৎসায় দেশি, বিদেশি চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে মেডিকেল বোর্ড। অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে গঠিত এই বোর্ডের অন্যতম সদস্য ডা. জুবাইদা রহমান।


জাতীয় এর আরও খবর