img

‘ইউনূস সরকার আমার কিছুই করতে পারবে না: জয়

প্রকাশিত :  ১০:৩০, ২৫ জুলাই ২০২৫

‘ইউনূস সরকার আমার কিছুই করতে পারবে না: জয়

ফ্যাসিস্ট হাসিনার সাড়ে হাজার খ্যাত পুত্র জয়ের কর্মকাণ্ডে জনতা এখন ক্ষেপে গিয়ে বলা শুরু করেছেন, ‘চোরের ছেলের বড় গলা।’ পতিত স্বৈরাচার হাসিনা দেশজুড়ে গণহত্যা চালিয়ে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে চোরের মত লেজ গুটিয়ে পালিয়ে যায়। মা নির্লজ্জ বেহায়ার মত গণহত্যা চালিয়ে পালিয়ে গেলেও তার ছেলের গলাবাজি যেনো কিছুতেই থামছেই না। এবার দুদকের অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে খুনি হাসিনা পুত্র জয়ের দুটি নজরকাড়া বাড়ির সন্ধান মিলেছে। বাংলাদেশের আয়কর নথিতে যেগুলোর কোনো তথ্য নেই। এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর বাড়ি দুটি জব্দ করার উদ্যোগ নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক।

এই বিষয়টিই ফ্যাসিস্ট হাসিনা পুত্র জয়ের সামনে আসার পর তা নিয়ে তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক পেইজে রীতিমতো বর্তমান সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে পোস্ট করেছেন তিনি। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই অবৈধ সরকার আমার কিছুই করতে পারবে না।’ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে এই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার আগে জয়ের জব্দ করতে যাওয়া বাড়ির বিষয়ে লিখেছেন, ‘এই অবৈধ সরকার এখন চাপে এবং জনরোষের মুখে পড়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে নিতে আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তোলার চেষ্টা করছে। আমি ভার্জিনিয়ায় দুটি বাড়ির মালিক নই একটিই আমার, এবং সেটা আমি ২০১৮ সালে কিনেছি, গত বছর নয়। গত বছর আমার ডিভোর্স চূড়ান্ত হওয়ার পর মালিকানা শুধু আমার নামে করা হয়েছে। অন্য যে বাড়ির কথা বলা হচ্ছে, সেটিই ছিল আমার আগের বাড়ি যেটা আমি বিক্রি করে এই বাড়িটি কিনেছি। আমার বাড়িটির মূল্য কেনার পর থেকে প্রায় ১৫ লাখ ডলার বা ১৮ কোটি টাকা বেড়েছে। আমি বর্তমান দামে এটি কিনিনি, অনেক কম দামে নিয়েছিলাম।’

ফ্যাসিস্ট জয় এসময় তার আয় অবৈধ নয় উল্লেখ করে লিখেন, ‘আমি কোনো সরকারি কর্মচারী নই। আমি একজন আইটি উদ্যোক্তা। আমার আয় সম্পূর্ণ বৈধ, আমি এখানে কর দিয়ে বসবাস করি। এফবিআই আমার বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত করেছে এবং অবৈধ কিছুই খুঁজে পায়নি। সেই কারণেই ইউনুসের সরকার যখন আমার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল করেছিল, তখন আমি দ্রুত মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছি। যুক্তরাষ্ট্রে সত্যিকারের আইন ও বিচারব্যবস্থা আছে। দুদক যদি আমার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে চায়, তাহলে তাদের আমন্ত্রণ জানাই এসে পারলে চেষ্টা করে দেখুক! আমার আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্রে দুদকের মোমেনের বিরুদ্ধে মামলা করতে তৈরি হয়ে আছে।’

পতিত স্বৈরাচার পুত্র জয় এরপর তার পোস্টে বর্তমান সরকারের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এমনকি তার কাছে বৈধ পিস্তল ও গুলির ভয় দেখিয়ে বলেন, ‘আসলে এই অভিযোগের মূল উদ্দেশ্য হলো আমার ঠিকানা প্রকাশ করে আমাকে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ফেলা। কিন্তু আমেরিকার বাস্তবতা হলো এখানে ব্যক্তিগতভাবে অস্ত্র রাখা বৈধ এবং এর গুলিরও কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। তাই এসব হুমকিতে আমি ভীত নই। আমি নিজেকে রক্ষা করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত ও সক্ষম। আর একটা কথা, আমার বাড়ি নম্বর কিন্তু ৩২ নয়! ইউনুসের নেতৃত্বাধীন এই অবৈধ সরকার আমার কিছুই করতে পারবে না।’

ফ্যাসিস্ট হাসিনা পুত্র জয়ের এই পোস্টের পর রীতিমতো তাকে নিয়ে হাস্যরসে মেতেছেন বাংলাদেশি নেটিজেনরা। একে বিশ্ব জান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া অন্যদিকে নিজের কাছে পিস্তল আর গুলি থাকার ভয় দেখিয়ে লেজ নাড়িয়ে হুককা হুয়া ডাক। সব মিলিয়ে ব্যাপক ট্রলের শিকার হচ্ছেন তিনি। কেউ বলছেন, ‘ও পাগল হয়ে গেছে ওরে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠাও।’ তো আবার কেউ বা বলছেন, ‘এ তো বড় বানর এরে চিড়িয়াখানায় কেন নিচ্ছে না?’

img

ছাত্রলীগ নেতার প্যারোলের আবেদন করা হয়নি: যশোর জেলা প্রশাসন

প্রকাশিত :  ০৯:৩৬, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

স্ত্রী-সন্তানের মরদেহ দেখার জন্য নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলগেটেই মরদেহ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসক। 

আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাসের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাগেরহাট কারাগার থেকে গত ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আগত বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দাম নামক ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো ধরনের আবেদন করা হয়নি।
\r\nএতে আরও বলা হয়, বরং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেল গেটে লাশ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

\r\nআবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি- এমন অভিযোগের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দির স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দি অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। এছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি, এ ধরনের তথ্যও মিথ্যা; কারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি।
\r\nপরিবারের মৌখিক আবেদনের প্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারা ফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ করেছে যশোর জেলা প্রশাসন।
\r\nজানা গেছে, পাঁচ বছর আগে ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামের সাথে স্বর্ণালীর বিয়ে হয়। সম্প্রতি রাজনৈতিক মামলায় স্বামীর গ্রেপ্তার নিয়ে হতাশায় ভুগছিলেন স্বর্ণালী। স্বামীকে মুক্ত করতে চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তিনি। গত শুক্রবার ঘরের ভেতর থেকে নয় মাসের সন্তান নাজিম ও স্বর্ণালীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।