img

সিলেট থেকে ১১ দিন ধরে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

প্রকাশিত :  ০৮:১২, ৩০ জুলাই ২০২৫

 সিলেট থেকে ১১ দিন ধরে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

সিলেট নগরীর এক মাদ্রাসা ছাত্র ১১ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ ছাব্বির হোসেন সোহান (১৫) নগরের দক্ষিণ সুরমার খোজারখলা এলাকার মাদ্রাসাতুল আরাবিয়া আদদ্বীনিয়ার মাদানি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

এ ব্যাপারে ওই শিক্ষার্থীর বাবা নগরের মজুমদার পাড়ার বাসিন্দা মো. মনির হোসেন গত শনিবার (২৬ জুলাই) দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। ডায়রিতে তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা থেকে সোহানের কোন খোঁজ মিলছে না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।

এ ব্যাপারে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বোন জামাই আখতার হোসেন বলেন, মাদ্রাসায় ছুটিতে সোহান বাসায় এসেছিলো। ছুটি শেষে ১৮ জুলাই বিকেলে তার বাবা তাকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসেন। এরপর থেকে সোহানের সাথে আর যোগাযোগ হয়নি।

তিনি বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে আমরা যোগাযোগ করেছিলাম। তারা জানিয়েছেন, ১৮ জুলাই থেকেই সোহান মাদ্রাসায় অনুপস্থিত। কিন্তু বিষয়টি তারা আমাদের তাৎক্ষণিক জানান নি। বরং ৪ দিন পর ২২ জুলাই ব্ষিয়টি আমাদের অবহিত করেন।

কেন ৪ দিন পর এ তথ্য জানালেন এ ব্যপারে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, বলেন আখতার হোসেন।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসাতুল আরাবিয়া আদদ্বীনিয়া কর্তৃপক্ষের সাথে যোগেযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তবে নিখোঁজ সোহানের সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ থানার ডিউটি অফিসার।

img

শ্রীমঙ্গলে ইতিহাসের নতুন দিগন্ত: দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের ব্যতিক্রমী পূজা

প্রকাশিত :  ০৪:২১, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: চায়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল এবার সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী ধর্মীয়–সাংস্কৃতিক আয়োজনের। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ গোসাইবাড়ি রোড সংলগ্ন লালবাগ যুব কিশোর সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের পূজা—যা এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম। একই পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন রূপ এবং মূল প্রতিমাসহ মোট ১৭টি মূর্তি নির্মাণ করে পূজা করা হয়েছে।

এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শিল্প ও দর্শনের এক জীবন্ত প্রদর্শনী। প্রতিটি রূপে দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও ব্যঞ্জনায়। কোথাও তিনি জ্ঞানের আলোকবর্তিকা, কোথাও অজ্ঞতা বিনাশী শক্তি, আবার কোথাও সৃজনশীলতা, সংগীত ও মানবিক চেতনার প্রতীক।

গৌরী রূপে দেবী সরস্বতী জ্ঞান, মেধা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে মানবচেতনাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেছেন। মানবী রূপে তিনি মানবজাতির কল্যাণ ও প্রজ্ঞাবৃদ্ধির বার্তা বহন করেন। মানসী রূপে মন, চেতনা ও বিবেক আলোকিত করেন, আর মহাকালী ও কালী রূপে অজ্ঞতা ও অসত্য ধ্বংসের শক্তিকে প্রতিফলিত করেন।

বজ্রশৃঙ্খলা রূপে দেবী অজ্ঞতার শৃঙ্খল ভেঙে জ্ঞানকে অপরাজেয় শক্তিতে রূপ দেন। কুলি শাঙ্কুশা রূপে বিদ্যা, বুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা দেন। মহামানব, প্রজ্ঞপ্তী ও চকেশ্বরী রূপে সত্য–অসত্যের পার্থক্য অনুধাবন, নৈতিকতা ও শক্তির সমন্বয়ের দর্শন ফুটে ওঠে।

পুরুষ দত্তা ভারতীয়, বৈরাট্যা, মোহিনী ও গান্ধারী রূপে ভাষা, বাগ্মী শক্তি, সৃজনশীলতা ও সংগীতকলার বিকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছেন দেবী সরস্বতী। সর্বশেষ আচ্ছুপ্তা রূপে তিনি মায়া ও অজ্ঞতা দূর করে মানবচেতনাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন।

নিপুণ কারুকাজ, রঙের নান্দনিক ব্যবহার এবং প্রতিটি প্রতিমার ভাবনাগত গভীরতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি মূর্তি যেন আলাদা আলাদা গল্প বলে—মানুষের মন, বিবেক ও বুদ্ধির গভীরে আলো জ্বালানোর গল্প।
লালবাগ যুব কিশোর সংঘের সভাপতি কৌশিক দত্ত ও উপদেষ্টা প্রান্ত মিশ্র জানান, “এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের এমন পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের লক্ষ্য ছিল দেবী সরস্বতীকে কেবল বিদ্যার দেবী হিসেবে নয়, বরং মানবচেতনার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা।”
সকাল থেকেই পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, এই ব্যতিক্রমী আয়োজন কতটা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে সাধারণ মানুষের।

শ্রীমঙ্গলের এই অনন্য উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞান, শিল্প ও মানবিক চেতনার এক স্মরণীয় মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর