img

টিকল না শিক্ষকদের আপত্তি, লটারিতেই স্কুলে ভর্তি

প্রকাশিত :  ১৪:০৩, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

টিকল না শিক্ষকদের আপত্তি, লটারিতেই স্কুলে ভর্তি

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার জোরাল দাবি উঠলেও তা আমলে নেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষকদের আপত্তি সত্ত্বেও আগামী শিক্ষাবর্ষে নিম্নমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। শিগগিরই এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সভায় উপস্থিত শিক্ষা বোর্ডের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কালবেলাকে জানান, এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পক্ষ থেকে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির দাবি নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে লটারি প্রথা বাতিল করা একটি বড় ব্যাপার। এই ধরনের সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকারই নিতে পারে। তাই বিদ্যমান পদ্ধতিই বহাল রাখা হয়েছে।

এর আগে সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা লটারির বদলে প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গত সোমবার (২৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) শিক্ষা সচিবের কাছে লিখিতভাবে এই আবেদন জানায়।

শিক্ষকদের আবেদনে বলা হয়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ও অভিভাবকের উৎকণ্ঠা লাঘবে সব শ্রেণিতে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা জরুরি। অন্যথায়, দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

তবে শিক্ষকদের এই দাবির সঙ্গে একমত নয় অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। তারা লটারির মাধ্যমেই ভর্তি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে মনে করে। ফোরামের নেতারা এক বিবৃতিতে জানান, লটারি চালু থাকলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ভর্তি কোচিংয়ের অশুভ প্রতিযোগিতা থেকে রেহাই পাবে। তারা লটারির পাশাপাশি সব ধরনের কোটা বাতিলেরও দাবি জানান।



শিক্ষা এর আরও খবর

img

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের দুঃসংবাদ দিল ব্রিটেনের ৯ বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত :  ১৭:১৯, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৩২, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

ব্রিটেনের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদনের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার, ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন, কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটির মতো বিশ্ববিদ্যালয় আছে এই তালিকায়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের সরকার সম্প্রতি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে নিয়মকানুনে যে কঠোরতা এনেছে, তারই ধারাবাহিকতায় এসেছে এমন সিদ্ধান্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন নিয়মে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রমাণ করতে হবে যে শিক্ষার্থীরা আসলেই পড়ার জন্য সে দেশে যাচ্ছে এবং শিক্ষার্থী ভিসাকে চোরাপথ হিসেবে কাজে লাগিয়ে যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার চেষ্টা করছে না।

যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের জারি করা নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকতে হবে, যা আগে ছিল ১০ শতাংশ। ভর্তির অনুমতি পাওয়া শিক্ষার্থীদের শেষ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার নিয়মেও কঠোরতা এনেছে ইউকে হোম অফিস।

অর্থাৎ ভর্তির আবেদন গৃহীত হওয়া শিক্ষার্থী আসলেই ভর্তি হলেন কি না, কোর্স শেষ করলেন কি না, এসব নিশ্চিত করতে হবে। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় এসব নিয়ম না মানতে পারলে ওই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার লাইসেন্সও হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

কিন্তু বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার হার নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক ওপরে– ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংখ্যাটা ২২ শতাংশ, পাকিস্তানের ১৮ শতাংশ।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানাচ্ছে, এই এক বছরে বিশ্বজুড়ে যে ২৩ হাজার ৩৬ জন শিক্ষার্থীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইউকে হোম অফিস, তার অর্ধেকই এই দুই দেশের! সে কারণে এই দুই দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

ফলে এ দুই দেশের শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদনই সাময়িকভাবে স্থগিত করে রাখছে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়।

৯ বিশ্ববিদ্যালয়

ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার: ২০২৬ সালে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন গ্রহণ করবে না।

ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন: আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থী নেবে না।

ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট লন্ডন: পাকিস্তানি শিক্ষার্থী নেওয়া বন্ধ রেখেছে।

সান্ডারল্যান্ড ও কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি: বাংলাদেশ ও পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের আবেদনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।

ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার: ২০২৬ সালে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের শিক্ষার্থী নেবে না।

অক্সফোর্ড ব্রুকস: ২০২৬ সালে আন্ডারগ্র্যাড প্রোগ্রামে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের আবেদন নেবে না।

লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন বন্ধ রেখেছে।

গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি: ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর ইনটেইকে দুই দেশের শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করবে না। তবে ২০২৬ সালে কিছু কোর্সে আবেদনের পথ খোলা আছে।


শিক্ষা এর আরও খবর