img

স্মার্ট ডিজাইনে সাশ্রয়ী আবাসন, নতুন স্ট্যান্ডার্ড টাওয়ার হ্যামলেটসে

প্রকাশিত :  ২০:৩৮, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:৫৪, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

স্মার্ট ডিজাইনে সাশ্রয়ী আবাসন, নতুন স্ট্যান্ডার্ড টাওয়ার হ্যামলেটসে
(বাম থেকে ডানে) পপলার হারকার সিইও স্টিভ স্ট্রাইড এবং টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর

টাওয়ার হ্যামলেটস্, লন্ডন, ১৫ নভেম্বর: লন্ডনের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ও আবাসন সংকটপূর্ণ এলাকা টাওয়ার হ্যামলেটসে সাশ্রয়ী ভাড়ার (এফোর্ডেবল রেন্ট) বাড়িতে এখন বিলাসবহুল জীবন যাপনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক ভাড়া ও সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থানগুলোতে এখন শুধু চার দেয়ালই নয়যোগ হচ্ছে ইনডোর খেলার এলাকাটিভি লাউঞ্জপ্রাইভেট সিনেমা হলএমনকি নিজস্ব বোলিং অ্যালিও। সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ যাতে জীবনযাপনের পুরো স্বাদ নিতে পারেনসেই লক্ষ্যেই এ অসাধারণ পদক্ষেপ।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের হাউজিং রেজিস্টারে প্রায় ২৯ হাজারেরও বেশি মানুষ ঘরের জন্য তালিকাভুক্ত আছেন। আর নির্মাণের জন্য এই বরায় জায়গার সংকট অত্যন্ত তীব্র। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অথরিটি এবং প্রাইভেট ডেভেলপাররা এখন জোর দিয়েছেন উঁচু এবং স্মার্টলি ডিজাইনড বিল্ডিং নির্মাণের উপরযার ভেতরে থাকবে পরিবারবান্ধব সব সুযোগ - সুবিধা।

এমনই দুইটি প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান এবং ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার। আইল অব ডগস -এ অবস্থিত এই প্রকল্পগুলো দেখিয়ে দিচ্ছেপাবলিক - প্রাইভেট পার্টনারশিপ এর মাধ্যমে কীভাবে উন্নতমানের সাশ্রয়ী আবাসন তৈরি করা সম্ভব।

এই দুটি উন্নয়ন প্রকল্প একসাথে মোট ১২০টি নতুন বাসস্থান সরবরাহ করছে। এগুলোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সাশ্রয়ী ভাড়ার আবাসনের জন্য সংরক্ষিতযার মধ্যে ৪০টি ইউনিট সাশ্রয়ী ভাড়ায় পাওয়া যাবেএবং এই সংখ্যাটির অর্ধেকই পরিবার-উপযোগী (৩ বা তার বেশি শোবার ঘর)। একটি প্রজেক্টে ১৯টি ফ্যামিলি সাইজ ঘর এবং ৫টি হুইলচেয়ার প্রবেশ-নির্গমন উপযোগী ঘর রয়েছে।


টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমানসাইট ভিজিটের পর বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস একটি ছোট বরো। আমরা চারপাশে প্রসারিত (সাইড ওয়েজ এক্সপ্যান্ড) হতে পারি নাকিন্তু আমরা নিশ্চয়ই উঁচু করে গড়তে (আপওয়ার্ডস বিল্ড) পারি। আমাদের উচ্চ ভবন নির্মাণ ছাড়া অন্য কোন উপায় নেইকিন্তু সেগুলোর ভেতরে ফ্যামিলি—ফ্রেন্ডলি অ্যামেনিটি স্পেস অর্থাৎ পরিবারগুলোর চাহিদা মেটানোর মতো সুযোগ - সুবিধার স্থান থাকা গুরুত্বপূর্ণ। আজ আমি যে উন্নয়ন গুলো দেখেছি তা দুর্দান্ত এবং স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে মডার্ন লিভিং অর্থাৎ আধুনিক জীবনযাপন কী।”


ওয়ান থেমস কীঃ ৪৮ তলার নতুন মাইলফলক
চ্যালগ্রোভ প্রোপার্টিজ লিমিটেড (সিপিএল) এবং পপলার হারকার যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ওয়ান থামস কে প্রকল্পে অ্যাফর্ডেবল রেন্ট -এর জন্য ৪০ টি এবং শেয়ারড ওনারশিপ—এর জন্য ৩১টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। অ্যাফোর্ডেবল রেন্ট -এর ইউনিটগুলোর অর্ধেকই থ্রি-বেডরুম বা তার বেশি সাইজেরঅর্থাৎ ফ্যামিলি—সাইজড। ৭১ টি অ্যাপার্টমেন্টই একটি ৪৮ তলা বিশিষ্ট স্ট্রাইকিং টাওয়ারে অবস্থিত এবং প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে একটি করে ব্যক্তিগত আউটডোর ব্যালকনি আছে।

এই ডেভেলপমেন্টটি সোশ্যাল অ্যান্ড অ্যাফর্ডেবল হাউজিং -এ (সামাজিক ও সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসনে) নতুন বেঞ্চমার্ক বা মাপকাঠি স্থাপন করেছে। বাসিন্দারা বিভিন্ন ধরনের কমিউনাল সুবিধা ভোগ করছেনযার মধ্যে রয়েছে একটি উন্মুক্ত শিশুদের খেলার এলাকাবসার ব্যবস্থাসহ বাগানএকটি সিনেমা রুম এবং এমনকি একটি বোলিং অ্যালি। এই শেয়ার্ড ফ্যাসিলিটিজ বাসিন্দারা বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন এবং এডভান্স বুকও করতে পারেন।

চ্যালেগ্রোভ প্রোপার্টিজ লিমিটেড (সিপিএল) — এর পক্ষে রামি আতাল্লাহবলেন, “পপলার হারকার সাথে একত্রে কাজ করে ওয়ান থামস কে বাস্তবায়ন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের লক্ষ্য ছিল উচ্চমানের বাড়ি তৈরি করা যা বাসিন্দাদের জীবনকে উন্নত করে এবং বৃহত্তর কমিউনিটির জন্য ইতিবাচকভাবে অবদান রাখে। এ ধরনের উন্নয়ন গুলো দেখায় যে কীভাবে চিন্তাশীল নকশা এবং সহযোগিতা স্থানীয় আবাসনের চাহিদা পূরণ করতে পারেপাশাপাশি এমন স্থান তৈরি করতে পারে যাকে মানুষ গর্বের সাথে বাড়ি বলে ডাকে।”


পপলার হারকার - এর প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা পল ডুলি বলেন, “চ্যালেগ্রোভ প্রোপার্টিজের মতো একটি ডেভেলপারের সাথে অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিতযারা সত্যিকার অর্থে গুণমান এবং দীর্ঘমেয়াদী ভ্যালু-কে অগ্রাধিকার দেয়। ওয়ান থেমস কী নামের এই টাওয়ার ব্লকেআমরা টাওয়ার হ্যামলেটসে অ্যাফর্ডেবল লিভিং - এর নিউ স্ট্যান্ডার্ড অর্থাৎ সাশ্রয়ী জীবনযাপনের জন্য একটি নতুন মান নির্ধারণ করে এমন বাড়ি এবং শেয়ার্ড স্পেস সরবরাহ করতে সাহায্য করেছি। বোলিং অ্যালি থেকে খেলার জন্য নির্ধারিত স্থান পর্যন্তএই সুবিধাগুলো প্রতিবেশীদের একত্রিত করে এবং কমিউনিটির মধ্যে একটি দৃঢ় বোধ গড়ে তোলে। এটি হল সহযোগিতার শক্তি - যখন ডেভেলপার এবং কাউন্সিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় স্টেকহোল্ডাররা হাত মিলিয়ে কাজ করেতখন আমরা অন্তর্ভুক্তিমূলক বাড়ি তৈরি করি যা সেখানকার বাসিন্দাদের চাহিদার প্রতিক্রিয়া জানায়।”


(বাম থেকে ডানেরামি আতাল্লাহচ্যালেগ্রোভ প্রপার্টিজ লিমিটেডস্টিভ স্ট্রাইডপপলার হারকার সিইওলুত্ফুর রহমানটাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়রএবং লরা ফেয়ারওয়েদারপপলার হারকা

হারকোর্ট টাওয়ারঃ কাজ থেকে বিশ্রামসব একই ছাদের নিচে
একইভাবেলিগ্যাল অ্যান্ড জেনারেল এবং বার্কলে হোমস দ্বারা বাস্তবায়িত এবং সাউদার্ন হাউজিং দ্বারা পরিচালিত হারকোর্ট টাওয়ার - এ রয়েছে কাজ ও পড়ার কমিউনাল স্থানএকটি বিশ্রামের এলাকাটিভি রুম এবং শিশুদের প্লে রুম - সবই ভিতরে এবং বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে ব্যবহারের উপযোগী।

৮ তলা বিশিষ্ট এই বিল্ডিংটিতে মোট ৪৯টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছেযার মধ্যে ১৯টি ফ্যামিলি-সাইজড হোম এবং ৫টি স্পেশালি অ্যাডাপ্টেড হুইলচেয়ার - অ্যাক্সেসিবল হোম।

এলঅ্যান্ডজি'র হেড অফ অ্যাফর্ডেবল হোমসশন হোল্ডক্রফট বলেন, “উচ্চমানেরসুপরিচালিত আবাসনের মাধ্যমে মানুষের জীবন উন্নত করাই আমাদের একটি মূল লক্ষ্য। বাস্তবেএর অর্থ দৃঢ় অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাযা যুক্তরাজ্যের সাশ্রয়ী আবাসন সংকট মোকাবেলার চাবিকাঠি। হারকোর্ট টাওয়ার - এর সোশ্যাল রেন্ট হোম গুলিএবং পাশের হ্যাম্পটন টাওয়ার -এর শেয়ারড ওনারশিপ হোমগুলিশুধু ইট - পাথরের গাঁথুনি নয়কারণ একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত বাড়িই হল সেই ভিত্তিযার উপর দাঁড়িয়ে আমাদের গ্রাহকরা একটি ভাল জীবন গড়ে তোলেন।”

বার্কলে ক্যাপিটাল - এর বিভাগীয় জমি ও উন্নয়ন পরিচালক হ্যারি লুইস বলেন, “বিশ্ব-স্তরের স্থাপত্যটেনিউর - ব্লাইন্ড পরিবার উপযোগী বাড়ি এবং বাসিন্দাদের সত্যিকারের প্রয়োজনীয় সুবিধাসহ সাউথ কী প্লাজা অংশীদারিত্বের কাজের একটি নিদর্শন। লন্ডন বরো অফ টাওয়ার হ্যামলেটস এবং এলঅ্যান্ডজি'র সাথে বার্কলে শত শত স্থানীয় মানুষকে সামাজিক ভাড়ায় উচ্চমানেরটেকসই বসবাসের জায়গা দিয়েছে। সাশ্রয়ী বাড়ি শুধু একটি আবাসন পরিসংখ্যান নয় - প্রতিটি দরজা একটি স্থানীয় পরিবারের জন্য একটি খুব বাস্তব পরিবর্তনের প্রতিনিধিত্ব করেএবং আমরা এখানকার ইতিবাচক প্রভাব নিয়ে সত্যিই গর্বিতমানুষদের অস্থায়ী আবাসন থেকে বের করে আনা এবং বরোতে অতিরিক্ত ভিড় কমাতে সাহায্য করছি।”

টাওয়ার হ্যামলেটস যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাযার ফলে সেখানে আবাসন সংকট খুবই তীব্র। তারপরওএই এলাকার প্রশাসন এই সমস্যা মোকাবিলায় সক্রিয়। তাদের ইতিমধ্যেই একটি সফলতার রেকর্ড রয়েছে এবং তারা একটি ব্যাপক পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছেযার মূল লক্ষ্য হলো নতুন উন্নয়নচাকরি সৃষ্টি এবং আরও বাড়ি নির্মাণ করা। এছাড়াওতাদের পরিকল্পনা দল সৃজনশীল উপায়ে এমন জমি গুলোকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে যেখানে উন্নয়ন আটকে আছেযাতে দ্রুত নতুন বাড়ি বানানো যায়।

 




কমিউনিটি এর আরও খবর

img

পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ১ লাখ ৬৮ হাজার প্রবাসীর নিবন্ধন

প্রকাশিত :  ০৬:২৮, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৬৮ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, \'পোস্টাল ভোট বিডি\' অ্যাপের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত মোট এক লাখ ৬৮ হাজার ৩৩ জন প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নিবন্ধনকারীদের মধ্যে এক লাখ ৪৯ হাজার ৮৮৪ জন পুরুষ ভোটার এবং ১৮ হাজার ১৪৯ জন নারী ভোটার।

আগামী ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত \'পোস্টাল ভোট বিডি\' অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের নিবন্ধনের সময় বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। গত ১৮ নভেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাপ উদ্বোধন করেন।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটদানের জন্য প্রবাসী ভোটারকে অবশ্যই যেখান থেকে ভোট দেবেন সে দেশের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে \'পোস্টাল ভোট বিডি\' অ্যাপ ডাউনলোড ও ইনস্টল করতে হবে।

ব্যবহারকারী বাংলা বা ইংরেজি ভাষা নির্বাচন করে অ্যাপে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নির্দেশনা দেখতে পারবেন। বিদেশে ব্যালট প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক ঠিকানা দিতে হবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর