img

আপনার স্মার্টফোন যেভাবে ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে

প্রকাশিত :  ০৬:৩৩, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

আপনার স্মার্টফোন যেভাবে ভূমিকম্প শনাক্ত করতে পারে

সম্প্রতি দেশে কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে ভূমিকম্প হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম আপনার ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি। এতে আপনি আশ্রয় নিতে সময় পাবেন, জীবন বাঁচাতে ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

তিন বছর আগে ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়া অঞ্চলে পাঁচ দশমিক এক মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। সৌভাগ্যজনকভাবে সেটি খুব বড় মাত্রার ভূমিকম্প ছিল না, ক্ষয়ক্ষতিও তেমন হয়নি। কিন্তু অন্য একটি দিক থেকে ওই ভূমিকম্পটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। কারণ, ভূমিকম্প হওয়ার আগে ওই অঞ্চলের অনেক মানুষ তাদের স্মার্টফোনে আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন।

এরপর ২০২৪ সালের ছয়ই আগস্টেও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় হওয়া পাঁচ দশমিক দুই মাত্রার এক ভূমিকম্পের আগে নোটিফিকেশন পেয়েছিলেন সেখানকার বাসিন্দারা। সেসময় অনেকে অন্তত ৩০ সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন বলেও জানান।

আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ফোন ব্যবহারকারীরা যে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন, সে ভূমিকম্প শুরুতে তাদের ফোনই শনাক্ত করেছিল।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান গুগল বহুবছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্বিক জরিপ বিভাগ, ইউনাইটেড স্টেটস জিওলজিকাল সার্ভের (ইউএসজিএস) ও ক্যালিফোর্নিয়ার বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সাথে এমন একটি প্রযুক্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যেটি ভূমিকম্প হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে সতর্কবার্তা পাঠাতে সক্ষম হবে।

এই সতর্কবার্তা ভূমিকম্পের কয়েক সেকেন্ড আগে পৌঁছানো সম্ভব। আর, ওই কয়েক সেকেন্ডই কাউকে টেবিল বা খাটের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সময় দেবে কিংবা ট্রেনের গতি কমানোর সুযোগ করে দেবে বলে বিশ্বাস গুগলের।

বড় ধরনের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে এই সিস্টেম অনেকের জীবন বাঁচাতে সক্ষম হবে বলেও মনে করে তারা।

গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের অধিকাংশ ফোনেই এক্সেলারোমিটার রয়েছে -ফোন নাড়াচাড়া করলে তা শনাক্ত করতে পারে এটি। ফোন ব্যবহারকারী কতটুকু হাঁটলো বা দৌড়ালো, এই ধরনের তথ্য দিতে ফিটনেস ট্র্যাকার জাতীয় অ্যাপগুলোকে সহায়তা করে থাকে এই টুল।

তবে, এর সেন্সরগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং এটি একটি ছোটোখাটো সিসমোমিটার হিসেবেও কাজ করে। ভূমিকম্পের প্রাথমিক ধাক্কা শনাক্ত করার সাথে সাথে ফোনের এই সিস্টেমটি গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্ট সিস্টেমে তথ্য পাঠায়।

এরপর গুগল যাচাই করে যে একই এলাকার লাখ লাখ অ্যান্ড্রয়েড ফোন থেকে একই ধরনের তথ্য তারা পাচ্ছে কী না।

যেভাবে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে আর্থকোয়েক অ্যালার্ট চালু করবেন

* অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংস অপশনে যান

* সেটিংসে \'সেফটি অ্যান্ড ইমার্জেন্সি\' অপশনে যান

* \'আর্থকোয়েক অ্যালার্ট\' অপশনটি সিলেক্ট করুন

তবে এই সিস্টেমের শতভাগ সুবিধা পেতে কিছু শর্ত মানতে হবে।

ফোনের লোকেশন অন রাখতে হবে, যেন গুগল শনাক্ত করতে পারে যে আপনার ফোন কোন অঞ্চলে রয়েছে।

আর ফোনকে সিসমোগ্রাফ হিসেবে ব্যবহার করতে ডিভাইসটিকে স্থিতিশীল অবস্থানে (টেবিলের ওপর) রাখতে হবে এবং সেটিকে চার্জার এর সাথে সংযুক্ত রাখতে হবে।

অর্থাৎ আপনার ফোন যদি স্থিতিশীল অবস্থায় চার্জারের সাথে লাগানো থাকে, তাহলে এটি ভূকম্পন শনাক্ত করে গুগলের কাছে সম্ভাব্য ভূমিকম্পের তথ্য পাঠাতে পারবে।

একই অঞ্চলের বেশকিছু ফোন থেকে এ তথ্য পেলে গুগল সেগুলো বিশ্লেষণ করে বুঝতে সক্ষম হবে যে সেখানে ভূমিকম্প হতে চলেছে।

সেই তথ্যের ভিত্তিতে তখন ওই এলাকা ও তার আশেপাশের এলাকার সব অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীকে আগাম সতর্কবার্তা পাঠাবে তারা।

সূত্র: বিবিসি

নিরাময় উদ্ভাবনে ব্যর্থ

img

ভারতে গোবর-গোমূত্র থেকে ক্যান্সার চিকিৎসা, ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম

প্রকাশিত :  ০৫:১০, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫৬, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতের মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরে পঞ্চগব্য ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যানসার নিরাময়ের একটি সরকারি গবেষণা প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। 

২০১১ সালে জাবালপুরের নানাজি দেশমুখ ভেটেরিনারি সায়েন্স ইউনিভার্সিটিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পে গরুর গোবর, গোমূত্র এবং দুধজাতীয় সামগ্রীর মিশ্রণ বা ‘পঞ্চগব্য’ দিয়ে ক্যানসারের মতো মরণব্যাধির চিকিৎসার উপায় খোঁজার কথা ছিল। 

তবে জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক এক তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গবেষণার নামে সেখানে বিপুল অর্থ অপচয় এবং বিধি বহির্ভূত কেনাকাটা করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো প্রকল্পটি এখন উচ্চপর্যায়ের নজরদারিতে রয়েছে

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বিপরীতে ব্যয়ের একাধিক ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য পাওয়া গেছে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে গোবর, গোমূত্র, মাটির পাত্র এবং মেশিনারিজ কেনার নামে ১ কোটি ৯২ লাখ টাকা খরচ দেখানো হয়েছে, যার বাজারমূল্য বড়জোর ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা হতে পারে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া গবেষণার অজুহাতে গোয়া ও বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরে অন্তত ২৩ থেকে ২৪ বার বিমান ভ্রমণের তথ্য পাওয়া গেছে, যা অনুমোদিত বাজেটের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তদন্তকারীরা এই সফরগুলোকে ‘গবেষণার ছদ্মবেশে ভ্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঘুবার মারাভির নেতৃত্বে পরিচালিত এই তদন্তে আরও দেখা গেছে, মূল বাজেটে উল্লেখ না থাকলেও এই প্রকল্পের অর্থ দিয়ে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি গাড়ি কেনা হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ আরও ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, শ্রমিকের মজুরি হিসেবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনায় ১৫ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। 

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব খরচের সিংহভাগই গবেষণার মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কহীন ছিল। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এক দশকের বেশি সময় পার হলেও ক্যানসার চিকিৎসায় এই গবেষণা কোনো সুনির্দিষ্ট ফল বা নিরাময় পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার ড. এস এস তোমার দাবি করেছেন যে, গাড়ি বা মেশিনপত্রসহ সকল ক্রয়প্রক্রিয়া উন্মুক্ত টেন্ডার এবং সরকারি নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তার মতে, প্রকল্পের অডিট নিয়মিত করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটিকে সব নথিপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। 

তিনি আরও দাবি করেন, এই প্রকল্পের আওতায় এখনো যুবক ও কৃষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে এবং এখানে কোনো ধরনের ‘স্ক্যাম’ বা জালিয়াতি হয়নি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের এই চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনটি এখন জাবালপুরের কালেক্টরের মাধ্যমে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হবে। প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার পর প্রশাসন পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। 

অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আপাতত এই গবেষণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা—উভয় দিক নিয়েই বড় ধরণের প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রইল।

সূত্র: এনডিটিভি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর