মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলাস্থ কর্মধা ইউনিয়নের সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের গুলিতে শুকুরাম উরাং (২৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
নিহত শুকুরাম কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া চা-বাগান বস্তি এলাকার বাসিন্দা দাসনু উরাংয়ের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে সীমান্তবর্তী ১৮৪৪ নং পিলারের পাশে শুকুরাম উরাং তাদের কৃষিজমিতে কাজ করতে যান। এর কিছুক্ষণ পর দুপুর দেড়টার দিকে ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। পরে তিনি দৌড়ে কিছু দূর এগিয়ে এসে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুলাউড়া সদর হাসপাতালে নিয়ে আসার পথিমধ্যে মারা যান।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলাম বলেন, শুকুরামকে মৃত অবস্থায়ই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
কুলাউড়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওমর ফারুক বলেন, শুকুরাম উরাংয়ের লাশ কুলাউড়া সদর হাসপাতালে সুরাতাহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলাল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রকাশিত :
১০:৪২, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৬, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ও বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সলকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশে আগামী ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বেলা ১১টায় হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজে অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচনি অনুসন্ধান ও সিলেট সিভিল জজ আদালতের বিচারক মো. রবিউল হাসান এই শোকজ নোটিশ জারি করেন।
ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। অথচ ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই। এ কারণে তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।
অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল ও তার ছেলে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়, গত ৬ জানুয়ারি মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা সাহেব বাড়িতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার একটি ভিডিও প্রশাসনের নজরে আসে, যেখানে প্রার্থীর উপস্থিতিতে তার ছেলে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। আচরণবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে এ ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, শোকজ নোটিশের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট আরও সাতটি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’
উল্লেখ্য, চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপির এস এম ফয়সল, খেলাফত মজলিসের আহমেদ আব্দুল কাদের, ইসলামী ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন, এবি পার্টির মোকাম্মেল হোসেন, মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন, বাসদের মো. মুজিবুর রহমান, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. রেজাউল মোস্তফা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজন ও মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।