img

সাধুবাবার বটগাছ: শ্রীমঙ্গলের নীরব ইতিহাস-রক্ষক

প্রকাশিত :  ০৭:৩৩, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

সাধুবাবার বটগাছ: শ্রীমঙ্গলের নীরব ইতিহাস-রক্ষক

সংগ্রাম দত্ত: শ্রীমঙ্গল উপজেলা শহরের ভানুগাছ রোডের ডান পাশে তৎকালীন বিডিআর ক্যাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক নীরব সাক্ষী—সাধুবাবার বটগাছ। সময়ের প্রবাহে বহু পরিবর্তন এসেছে, বদলে গেছে রাস্তা, বাড়িঘর, মানুষের জীবন—কিন্তু এই শতবর্ষী বটগাছ এখনও প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে আছে, বহন করে চলেছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি আর মানুষের না–বলা গল্প।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে শ্রীমঙ্গল ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধকেন্দ্র। চা-বাগান, বন, হাওর আর শহর—সবখানেই তখন চলেছে স্বাধীনতার জন্য মানুষের সংগ্রাম। পাকিস্তানি বাহিনীর দখলদারিত্ব ও নির্মমতা শ্রীমঙ্গলকে পরিণত করেছিল অন্ধকার এক অধ্যায়ে। সেই সময় বহু মুক্তিকামী মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের পর প্রাণহানি ঘটানো হতো। তাদের অনেকের শেষ আশ্রয় হয়ে উঠেছিল এই বটগাছের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভূরভূরিয়া ছড়া। তাই গাছটি শুধু একটি গাছ নয়; এটি বহু পরিবারের স্মৃতি, বিষাদ আর বেদনার প্রতীক।

১ মার্চ ১৯৭১ ইয়াহিয়া খানের ভাষণের পর শ্রীমঙ্গলে শুরু হয় গণজাগরণ। ন্যাপ নেতা রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী, মোঃ শাজাহান মিয়া ও সৈয়দ মূয়ীজুর রহমানের নেতৃত্বে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে শহরের রাস্তাঘাট। ছাত্রলীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তখন প্রতিদিন মিছিল-সমাবেশে স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরতেন। মেজর সি আর দত্ত, মেজর নুরুজ্জামান ও কর্নেল ওসমানীর মত বীর সেনানীদের আগমন শ্রীমঙ্গলে প্রতিরোধযুদ্ধে নতুন শক্তি যোগায়। পৌরসভা কার্যালয় পরিণত হয় সংগ্রাম কমিটির কার্যকর কেন্দ্রস্থলে।

কিন্তু ৩০ এপ্রিল ১৯৭১ পাকবাহিনী শ্রীমঙ্গলে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। শহরের বিভিন্ন স্থানে তারা ক্যাম্প স্থাপন করে এবং শুরু হয় দমন-পীড়ন। বহু মানুষকে ধরে এনে অত্যাচারের পর প্রাণহানি ঘটানো হতো। আর সেই গল্পই নিঃশব্দে ধারণ করে আছে সাধুবাবার বটগাছ ও ভূরভূরিয়া ছড়া।

দীর্ঘ আট মাস পর ৪ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বে শ্রীমঙ্গল শত্রুমুক্ত হয়। স্বাধীনতার আনন্দে শহর ভরে উঠলেও সাধুবাবার গাছের ছায়ায় এখনও লুকিয়ে থাকে বেদনাদায়ক দিনের স্মৃতি, যা প্রতিবার এই স্থানের নাম শুনলেই জীবন্ত হয়ে ওঠে বহু মানুষের মনে।

আজও ওই বটগাছের নিচে দাঁড়ালে মনে হয়—ইতিহাস যেন নিঃশব্দে কথা বলে। মুক্তিযুদ্ধের অজানা অধ্যায় আর হারিয়ে যাওয়া মানুষের স্মৃতি এই গাছের প্রতিটি শিকড়ে যেন খোদাই হয়ে আছে। তাই সাধুবাবার বটগাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়; এটি শ্রীমঙ্গলের আত্মার এক অংশ, সময়ের এক অনড় সাক্ষ্য।


img

হবিগঞ্জ-৪: বিএনপির ফয়সল ও স্বতন্ত্র তাহেরীকে শোকজ

প্রকাশিত :  ১০:৪২, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৬, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ও বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সলকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে আগামী ২০ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বেলা ১১টায় হবিগঞ্জ সার্কিট হাউজে অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিতভাবে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নির্বাচনি অনুসন্ধান ও সিলেট সিভিল জজ আদালতের বিচারক মো. রবিউল হাসান এই শোকজ নোটিশ জারি করেন।

ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরীকে দেওয়া নোটিশে উল্লেখ করা হয়, তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মোমবাতি প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন। অথচ ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধিমালা, ২০২৫’ অনুযায়ী ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ পূর্বে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানোর সুযোগ নেই। এ কারণে তার বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী এস এম ফয়সল ও তার ছেলে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়, গত ৬ জানুয়ারি মাধবপুর উপজেলার ইটাখোলা সাহেব বাড়িতে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার একটি ভিডিও প্রশাসনের নজরে আসে, যেখানে প্রার্থীর উপস্থিতিতে তার ছেলে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। আচরণবিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে এ ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ হওয়ায় তাদের কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, শোকজ নোটিশের অনুলিপি নির্বাচন কমিশনের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট আরও সাতটি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’

উল্লেখ্য, চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারা হলেন- বিএনপির এস এম ফয়সল, খেলাফত মজলিসের আহমেদ আব্দুল কাদের, ইসলামী ফ্রন্টের মো. গিয়াস উদ্দিন, এবি পার্টির মোকাম্মেল হোসেন, মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন, বাসদের মো. মুজিবুর রহমান, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. রেজাউল মোস্তফা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজন ও মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী।

সিলেটের খবর এর আরও খবর