img

উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ

প্রকাশিত :  ০৯:৫০, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫

উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া এবং মাহফুজ আলম পদত্যাগ করেছেন। আজ বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তারা পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ। মাহফুজ আলম দায়িত্বে ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে। আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া দায়িত্ব পালন করছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তখন প্রধান উপদেষ্টাসহ মোট ২৩ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়েছিল। আজ পদত্যাগের মাধ্যমে দুই ছাত্র প্রতিনিধি পরিষদ থেকে বিদায় নিলেন।

এর আগে ছাত্র প্রতিনিধি নাহিদ ইসলাম গত ২৫ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক হন। দলটি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের উদ্যোগে গঠিত।

মাহফুজ আলম শুরুতে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (নিয়োগ: ২৮ আগস্ট ২০২৪)। পরে ১০ নভেম্বর উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করার পর তাকে তথ্য উপদেষ্টার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আসিফ মাহমুদ প্রথমে দায়িত্ব পান শ্রম মন্ত্রণালয় ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে। পরে এ এফ হাসান আরিফকে সরিয়ে গত বছরের নভেম্বরে তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা করা হয়। এরপর থেকে তিনি স্থানীয় সরকার ও যুব-ক্রীড়া—উভয় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

আজকের পর আমাদের প্রার্থীরা কোনো দলের না, ১১ দলীয় ঐক্যের: নাহিদ

প্রকাশিত :  ২০:১৭, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩ আসনে সমঝোতা করেছে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ১০টি দল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়ার জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আজকের পর থেকে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না, প্রার্থী হবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, মোট ২৫৩টি আসনের প্রার্থিতা নিয়ে জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০টি আসনে নির্বাচন করবে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের জন্য বরাদ্দ আসনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা উপস্থিত হয়েছি। যেখানে সংস্কার ও বাংলাদেশের আজাদির পক্ষে থাকা এবং বৈষম্য ও দুর্নীতিবিরোধী অনেকগুলো দল একত্রে একটি প্ল্যাটফর্মে এসেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, এখন থেকে কোনো প্রার্থী আর নিজ দলের পরিচয়ে পরিচিত হবেন না। প্রতিটি আসনে তারা জোটের অভিন্ন প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জোটের প্রতিটি সদস্য দল তাদের ব্যক্তিগত দলীয় পরিচয় বিসর্জন দিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়েছে। সারা বাংলাদেশের সব আসনে এখন থেকে আমাদের নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। আজ থেকে প্রতিটি প্রার্থীই এই ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের একক প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার জন্য এবং বৈষম্যবিরোধী লক্ষ্য অর্জনে এই সংহতি অপরিহার্য। 

এই নির্বাচনী ঐক্যকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও ঐতিহাসিক যাত্রা’ মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা যে আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাইছি, (তা বাস্তবায়নে) আসন্ন নির্বাচনে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদের উৎরাতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ; মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ এবং আমাদের ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই—সব ঐতিহাসিক লড়াইকে ধারণ করে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। সারা বাংলাদেশের সব আসনে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। আজকের ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই তারা বিবেচিত হবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মুখ্য বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এছাড়া নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

মঞ্চে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক, জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ। তবে ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেউ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।

জাতীয় এর আরও খবর