img

ভারতেই খেলতে হবে এমন কোনো নির্দেশ আইসিসি দেয়নি: বিসিবি

প্রকাশিত :  ০৭:৫০, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতেই খেলতে হবে এমন কোনো নির্দেশ আইসিসি দেয়নি: বিসিবি

‘হয় ভারতে খেলো, নয়তো পয়েন্ট হারাও’- বাংলাদেশকে এমন হুমকি দিয়েছে আইসিসি দাবি করে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইসিসি থেকে এমন কোনো আল্টিমেটাম দেওয়া হয়নি। এমন সংবাদকে ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিসিবি।

বরং ভেন্যু ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই সংস্থার মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।

এর আগে ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের বিসিবির অনুরোধ আইসিসি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। কিন্তু বিসিবি বলছে ভিন্ন কথা।

বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত আলটিমেটাম সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো সঠিক নয় এবং আইসিসির যোগাযোগের বিষয়বস্তুর সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। বিসিবি এর আগে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছিল। সেই উদ্বেগের জবাবে আইসিসি ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছে।

বিসিবি উল্লেখ করে, ‘আইসিসি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিসিবির উত্থাপিত নিরাপত্তা শঙ্কাগুলো সমাধানে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

বোর্ড আরও জানিয়েছে, আসরের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিসিবির মতামতকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আসন্ন বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে জাতীয় দলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণই বিসিবির কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া নিয়েই এই টানাপোড়েনের শুরু। ভারতের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে এবং বিসিবি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।

এদিকে বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র এক মাস। সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে ম্যাচও রয়েছে কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ে। এখন দেখার বিষয়, বিসিবি ও আইসিসি কী কী সিদ্ধান্ত নেয়।


img

উজবেকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান কাপ শেষ বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১১:৪৮, ০৯ মার্চ ২০২৬

নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দারুণ লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্তির কাছে হার মানতে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে উজবেকিস্তান। এই হারের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এর ফলে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগও শেষ হয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতেই।

আগের ম্যাচের একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ শুরু থেকেই উজবেকদের প্রবল চাপের মুখে পড়ে। বারবার রক্ষণে হানা দেওয়া উজবেকিস্তানকে শুরুর দিকে দারুণ পজিশনিংয়ে একবার নিশ্চিত গোলবঞ্চিত করেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। তবে এরপর একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।

ফল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়নি উজবেকদের। ম্যাচের ১০ মিনিটেই দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা। গোল হজমের পরও উজবেকদের চাপ সামলাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২৩ মিনিটে মারিয়া মান্দার অসাধারণ এক ট্যাকেলে নিশ্চিত গোল হজম থেকে বাঁচে দল।

এরপর সমতায় ফেরার দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ৩১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার অসাধারণ একটি শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা জনিমকুলোভা। আর ৪২ মিনিটে বক্সে ঢুকে কোহাতি কিসকুর জন্য দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন তহুরা খাতুন, কিন্তু বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন কোহাতি। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে হানা দেন ঋতুপর্ণারা, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি আর পাওয়া হয়নি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে এসে ক্লান্তির চরম খেসারত দিতে হয় ডিফেন্ডারদের।

৬২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বক্সের ভেতর উমিদা জোইরোভার বাড়ানো বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান ২-০ করেন উজবেক ফরোয়ার্ড দিলদোরা নোজিমোভা। এই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ৬৬ মিনিটে বাংলাদেশের জালে তৃতীয়বার বল জড়ায় উজবেকিস্তান। এই গোলটিও আসে দিলদোরা নোজিমোভার পা থেকে। বলের পেছনে ছুটতে থাকা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের তখন বেশ পরিশ্রান্ত দেখাচ্ছিল।

৭০ মিনিটে দুর্দান্ত গোলকিপিং করা মিলির হাত থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোল করে বসেন উজবেকিস্তানের আসালকন আমিনজোনোভা। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়ে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করেন।

৮২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বদলি খেলোয়াড় সুরভীর নেওয়া দারুণ একটি জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন উজবেক গোলরক্ষক জনিমকুলোভা। শেষ পর্যন্ত ৮৮ মিনিটে নিলুফার কুদ্রাতোভার গোলে কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় উজবেকিস্তান। বক্সের ভেতর কুদ্রাতোভার নেওয়া শট মিলি চেষ্টা করেও ঠেকাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

খেলাধূলা এর আরও খবর