ভারতেই খেলতে হবে এমন কোনো নির্দেশ আইসিসি দেয়নি: বিসিবি
‘হয় ভারতে খেলো, নয়তো পয়েন্ট হারাও’- বাংলাদেশকে এমন হুমকি দিয়েছে আইসিসি দাবি করে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) মধ্যরাতে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ক্রিকইনফো। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আইসিসি থেকে এমন কোনো আল্টিমেটাম দেওয়া হয়নি। এমন সংবাদকে ভিত্তিহীন দাবি করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে বিসিবি।
বরং ভেন্যু ও নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই সংস্থার মধ্যে আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে।
এর আগে ক্রিকইনফো ও ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের বিসিবির অনুরোধ আইসিসি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। কিন্তু বিসিবি বলছে ভিন্ন কথা।
বিবৃতিতে বিসিবি জানায়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত আলটিমেটাম সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো সঠিক নয় এবং আইসিসির যোগাযোগের বিষয়বস্তুর সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। বিসিবি এর আগে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছিল। সেই উদ্বেগের জবাবে আইসিসি ইতিবাচক মনোভাবই দেখিয়েছে।
বিসিবি উল্লেখ করে, ‘আইসিসি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পূর্ণাঙ্গ ও নির্বিঘ্ন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিসিবির উত্থাপিত নিরাপত্তা শঙ্কাগুলো সমাধানে তারা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’
বোর্ড আরও জানিয়েছে, আসরের বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিসিবির মতামতকে গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। আসন্ন বৈশ্বিক এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে জাতীয় দলের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণই বিসিবির কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
মূলত আইপিএল থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া নিয়েই এই টানাপোড়েনের শুরু। ভারতের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কেকেআর মুস্তাফিজকে ছেড়ে দেয়। এর প্রতিবাদে বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ করে এবং বিসিবি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র এক মাস। সূচি অনুযায়ী আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। গ্রুপ পর্বে ইংল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে ম্যাচও রয়েছে কলকাতায় এবং শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ে। এখন দেখার বিষয়, বিসিবি ও আইসিসি কী কী সিদ্ধান্ত নেয়।



















