প্রায়োরিটি সিট: কিন্তু মানবতা কোথায়?
জান্নাতুল ফেরদৌস ডলি
যুক্তরাজ্যে বেশিরভাগ মানুষকেই যাতায়াত করার জন্য ট্রেন, বাস প্রভৃতি যানবাহনে চলাচল করতে হয়।প্রতিদিনই আমি যে পরিস্থিতি স্বচক্ষে মোকাবিলা করি সেটি অত্যন্ত নিন্দনীয়! ট্রেনের দরজার পাশে,কখনো মাঝখানে হ্যান্ড্রেল ধরে বৃদ্ধ মানুষ অথবা পেটে হাত ধরে গর্ভবতী নারী দাড়িয়ে থাকেন।Priority Seat থাকা সত্ত্বেও আজকাল কিছু মানুষের মানবিক বোধের অভাবে যাতায়াত অনেক কঠিন ও কষ্টদায়ক হয়ে পড়েছে।
ইচ্ছা করেই অনেকে দেখেও না দেখার ভান,মোবাইলের স্ক্রিনে ধ্যানমগ্ন থাকা,কানে হেডফোন লাগিয়ে ঘুমে বিভোর। যেনো মোবাইলের স্ক্রিনের রিফ্লেক্সশন আর আরামদায়ক সিট-ই তাদের মানবতা।কিন্তু ,সেদিকে তাদের বিন্দুমাত্রও খেয়াল নেই যাদের জন্য সিট ত্যাগ করা জরুরি। please offer this priority seat \'লেখাটি প্রতিদিনই দেখি ট্রেনে,বাসে। কিন্তু এই লেখার মানে বুঝার ক্ষমতা,বিবেক বোধ কিছু মানুষ সম্পূর্ণরুপে হারিয়ে ফেলেছে যার ফলে অসুস্থ মানুষ তাদের স্বস্থির বদলে অস্বস্তিতায় ভোগতে হচ্ছে।
অথচ আমি বসা ছিলাম ট্রেনে সেদিন।একজন প্রেগন্যান্ট মহিলা কে দেখলাম বাগিতে একজন বেবিকে নিয়ে ট্রেনের দরজার সামনে দাড়িয়ে আছেন,আমি সাথে সাথে উঠে তাকে অফার করলাম সিট তিনি অত্যন্ত খুশি হয়ে ক্লান্ত শরীর টা নিয়ে সিটে বসে একটা স্বস্থির হাসি দিলেন।
তখন বিশ্বাস করুন, এই হাসিতে আমি মানবিকতার জয় দেখেছি।মূলত একটা সিট ছেড়ে দিলে কেউ গরীব হয়ে যায় না।বরং এটি মানবতার, সভ্যতার বিশাল একটি আয়না যার মধ্যে আমরা আমাদের বিবেক বোধের পরিচয় খুঁজে পাই।
আরেকদিন আমি দাড়িয়েই ছিলাম ট্রেনে দরজার পাশে দেখলাম হোয়াইটচ্যাপেল স্টেশন থেকে একজন
বৃদ্ধ মানুষ (হাতে একটি সাপোর্টার লাঠি ছিল) ট্রেনে উঠে সিট খুজতেছেন অসহায়ের মতো অথচ তার প্রায়োরিটি সিটে বসে আছে তরুণ একজন মানুষ যার দুই চোখ মোবাইলের স্ক্রিনে।গেম আর আড্ডায় মাতোয়ারা সে ডিভাইসে। যেখানে কিছু সময়ের জন্য প্রাপ্য ব্যক্তিকে সিট অফার করা মানিবিক দায়িত্ব সেখানে আজকাল মানুষ এটাকে কষ্টসাধ্য ভেবে এড়িয়ে চলে,যা কখনোই কাম্য নয়।একটি দেশের, সংস্কৃতি, মানবিকতার পরিচয় এই ছোট্ট বিষয় গুলা থেকেই অনুধাবন করা হয়।
প্রায় কয়েক মাস আগে,আমি ট্রেনে করে হোয়াটচ্যাপেলে যাচ্ছিলাম,সৌভাগ্যক্রমে ওই ট্রেনে আমার শ্রদ্ধেয় একজন স্যার আতাউর রহমান (pdg পীর) ছিলেন।যার জন্য স্যারের সাথে দেখা হল,স্যার একটি সিটে বসা ছিলেন
স্যার তো বয়স অনুযায়ী প্রায়োরিটি সিট পাওয়ার যোগ্য কারণ তিনি যথেষ্ট বয়স্ক চাইলে সিটে বসে থাকতে পারতেন, তবুও তিনি একজন গর্ভবতী মহিলাকে দাড়াতে দেখে সাথে সাথে নিজে উঠে সিট অফার করলেন
মহিলাটি অবাক হয়ে চেয়ে রইলো আর অসংখ্য ধন্যবাদ দিয়ে অবসাদের শরীর টা নিয়ে বসল। তখন যে প্রশান্তি আর স্বস্থির ছাপ দেখেছিলাম মহিলার চেহারায় তা অসম্ভব সুন্দর ছিল।স্যার এতো মানিবিক মানুষ আমি গর্বিত । ট্রেনের আরও অনেক মানুষ এটি দেখে শিক্ষা অর্জন করবে আশা করি কারণ তারা চুপচাপ বসে ছিল।অথচ প্রায়োরিটি সিট অফার করা তাদের কাছে অপশনাল ব্যাপার মাত্র মনে হয়েছিল।আসলে এটি নৈতিক, মানবিক দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের।স্যার একজন বয়স্ক মানুষ হয়েও একজন গর্ভবতী মহিলাকে প্রায়োরিটি দিলেন
আর এদিকে অনেক তরুণ তরুণী বসেই রইলো যা বিবেকহীনতা আর মূর্খতার পরিচয়।
তাই আমাদের উচিত, আমরা যে দেশেই বাস করিনা কেন,যে যানবাহন ই চড়িনা কেন,প্রায়োরিটি সিটের মর্ম আমরা যাতে না ভুলি,যোগ্য ব্যক্তিদের সিট দিতে যেন কখনো ইতস্ততবোধ না করি।
তাই আসুন আমরা আমাদের বিবেক বোধকে জাগ্রত করি,priority seat টি সগর্বে অফার করি,আমরা আগে নিজে বদলাই, তাহলেই আমাদের আশে পাশের মানুষ বদলাবে।বদলাবে ট্রেনের এমন করুণ প
পরিস্থিতি।
তাই আমার কবিতার ভাষায় অনুরোধ _
\'নয়কো কভু ছোট একটি মাত্র সিট
ছাড়লে হবে যে মানবিকতার জিৎ
একটু আরাম ত্যাগ করে নাও
বিবেক বোধের জন্য,
দুর্বল ব্যক্তিকে সিট দিয়ে দাও
তবেই তুমি মানুষরুপে ধন্য।


















