img

ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রেজা পাহলভি, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান

প্রকাশিত :  ০৬:৫৩, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৩, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন রেজা পাহলভি, বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান

ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে বিক্ষোভকারীদের আরও দুই রাত রাজপথে থাকার ও নগরকেন্দ্রগুলো দখলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জ্বালানি ও পরিবহন খাতের কর্মীদের দেশব্যাপী ধর্মঘট শুরুর ডাক দেন এবং একই সঙ্গে ইরানে ফেরার প্রস্তুতির কথাও ঘোষণা করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় পাহলভি তাদের ‘সাহস ও দৃঢ়তা’র প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার তার ডাকে সাড়া দিয়ে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমেছে, যা ইসলামী প্রজাতন্ত্রের নেতৃত্বের হুমকির বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। 

তিনি বলেন, বিক্ষোভের ব্যাপকতা শাসকগোষ্ঠীকে কাঁপিয়ে দিয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভঙ্গুরতা উন্মোচন করেছে।

পাহলভি বলেন, আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে টানা রাজপথে উপস্থিতি বজায় রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে।

তার মতে, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আর্থিক জীবনরেখা কেটে দিলে দমন-পীড়ন চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ভেঙে পড়বে।

তিনি বিশেষভাবে পরিবহন, তেল-গ্যাস এবং সামগ্রিক জ্বালানি খাতের শ্রমিকদের দেশব্যাপী ধর্মঘট শুরু করার আহ্বান জানান।

নির্বাসিত যুবরাজ বিক্ষোভকারীদের শনিবার ও রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আবার রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা, প্রতীক ও ছবি বহন করে জনপরিসর পুনর্দখল করতে হবে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আন্দোলনের লক্ষ্য এখন কেবল প্রতীকী প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ নয়; বরং বড় শহরগুলোর কেন্দ্রীয় এলাকা দখল ও ধরে রাখার প্রস্তুতি নিতে হবে।

এই লক্ষ্য অর্জনে পাহলভি বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দিক থেকে নগরকেন্দ্রের দিকে অগ্রসর হওয়ার, আলাদা আলাদা মিছিলকে যুক্ত করার এবং দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকার জন্য আগেভাগে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ইউনিটের যেসব সদস্য বিরোধীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাদের উদ্দেশে পাহলভি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রের ‘দমনযন্ত্র’ আরও ধীর ও ব্যাহত করতে হবে, যাতে সেটিকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, তিনি ইরানে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং এটিকে তিনি ‘জাতীয় বিপ্লবের বিজয়’ বলে উল্লেখ করেন, সেই সময়ে তিনি ইরানি জনগণের পাশে দাঁড়াবেন। তার বিশ্বাস, সেই মুহূর্ত দ্রুত এগিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় আকাশপথ বন্ধ করলো ইরান

প্রকাশিত :  ০৫:৩০, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫০, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় ইরান আকাশপথ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, পেন্টাগন ইরানের সেনা ঘাঁটিসহ সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে।

এদিকে ইরানের প্রধান বিচারপতি বলেছেন, রাজপথে নাশকতায় জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারীদের মৃতুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান। 

সত্তরের দশকের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে ভয়াবহ অস্থিরতার মুখোমুখি এখন ইরান। অর্থনৈতিক দুরবস্থার জেরে শুরু হওয়া বিক্ষোভ রূপ নিয়েছে সরকার পতন আন্দোলনে। উত্তাল রাজপথের আন্দোলন দমাতে কঠোর অব্স্থান নিয়েছে ইরানের সরকার। পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর দাবি, প্রতিদিনই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারাচ্ছেন বহু সাধারণ মানুষ। এতে বেড়েই চলেছে নিহতের সংখ্যা।

বিক্ষোভ দমনে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ ইরান। দেশটির প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন, রাজপথে নাশকতা ও অগ্নিসংযোগে জড়িতদের দ্রুততম সময়ে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বিলম্বিত বিচার কার্যকারিতা হারায় উল্লেখ করে তিনি সর্বোচ্চ সাজার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। 

ইরান ইস্যুতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি আগেই দিয়ে রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন এরইমধ্যে দেশটির পারমাণবিক কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিসহ একাধিক লক্ষ্যবস্তুর তালিকা ট্রাম্পের কাছে জমা দিয়েছে বলে দাবি করেছে বিভিন্ন গণমাধ্যম। বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা ও কর্মী সরিয়ে নিচ্ছে ওয়াশিংটন। 

একই সাথে সৌদি আরবে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মার্কিন হামলার আশঙ্কায় নিজেদের আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার ট্রাম্প দাবি করেন বিক্ষোভকারীদের মৃতুদণ্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইরান।

মার্কিন হামলার আশঙ্কায় প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছে তেহরান। তুরস্ক, আমিরাত ও সৌদি আরবকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে হামলা হলে পাল্টা আঘাত আসবে ওই সব দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে। এর পরপরই তেহরানকে আশ্বস্ত করে রিয়াদ জানায়, সৌদি আরবের আকাশপথ ব্যবহার করে ইরানে কোন হামলা করতে দেয়া হবেনা। 

যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে এতদিন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে যে সীমিত যোগাযোগ ছিল, তা এখন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা স্থগিত করা হয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের ক্রমাগত সামরিক হুমকির কারণে আলোচনার পরিবেশ আর নেই।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরান ইস্যুতে বিক্ষোভ হয়েছে। জার্মানির বার্লিনে হাজার হাজার প্রবাসী ইরানি রাজপথে নেমে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি সমাবেশ ও বিশাল পদযাত্রা করেছেন। অন্যদিকে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাসের বাইরে জড়ো হয়ে ইরান সরকারের সমর্থনে বিক্ষোভ করেন অনেকে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলবিরোধী স্লোগান দেন অনেকে।