img

বিশ্ব বাজারে চালের দাম কমলেও দেশে প্রতিফলন নেই: সিপিডি

প্রকাশিত :  ১১:৩০, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব বাজারে চালের দাম কমলেও দেশে প্রতিফলন নেই: সিপিডি

বিশ্ববাজারে চালের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেলেও দেশের বাজারে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। দেশে চাল উৎপাদনে ঘাটতি না থাকলেও দাম বাড়ার পেছনে উৎপাদন খরচ ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

আজ শনিবার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৫-২৬: নির্বাচনী বাঁকে বহুমাত্রিক ঝুঁকি’ শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

এ সময় সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও গবেষণা পরিচালক গোলাম মোয়াজ্জেম উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণার তথ্য উপস্থাপনকালে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, দেশে চালের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৪৪ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ উৎপাদনে কোনো ঘাটতি নেই। এরপরও চালের দাম বাড়ছে, যা বাজার ব্যবস্থাপনার বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারে শক্তিশালী ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সক্রিয় থাকায় ভোক্তারা সুফল পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, কিন্তু দেশের বাজারে সেই প্রভাব নেই। একই চিত্র চিনি ও ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেও দেশের বাজারে দাম না কমা বাজারে প্রতিযোগিতা ও নজরদারির অভাবকে স্পষ্ট করে।

সিপিডির গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৩ সাল থেকে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও সেই গতি খুব ধীর। ডিসেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৪৯ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্য বহির্ভূত মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯ শতাংশে রয়ে গেছে। ফলে চালের মতো প্রধান খাদ্যপণ্যের দামের সঙ্গে অন্যান্য পণ্যের মূল্যস্ফীতির যোগসূত্র আরও দৃঢ় হচ্ছে।

সিপিডির মতে, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত না করা গেলে এবং সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সুফল দেশের ভোক্তারা পাবেন না। এজন্য চালসহ নিত্যপণ্যের বাজারে নজরদারি জোরদার করা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি।


img

গ্যাস সংকট: এলপিজি নৈরাজ্য ঠেকাতে জিটুজি আমদানি

প্রকাশিত :  ০৬:২৬, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৩৩, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস তথা এলপিজি বাজারের নৈরাজ্য ঠেকাতে সরকারিভাবে জিটুজি (সরকার থেকে সরকার) ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেবে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সরকারের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে এলপিজির কৃত্রিম সংকট ও মূল্য অস্থিতিশীলতা অনেকটাই কমবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) গত ১০ জানুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়ে জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানির অনুমতি চেয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. আমিন উল আহসানের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি দেশে এলপিজির সরবরাহ ঘাটতি ও দামের অস্বাভাবিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর ফলে ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামে এলপিজি কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে এলপিজির আমদানি ও সরবরাহ পুরোপুরি বেসরকারি খাতনির্ভর হওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হলে তা সামাল দেওয়ার মতো কোনো কার্যকর সরকারি হাতিয়ার নেই।

চিঠিতে আরও বলা হয়, নীতিগত অনুমোদন পেলে বিপিসি জিটুজি ভিত্তিতে এলপিজি আমদানি করে বেসরকারি অপারেটরদের মাধ্যমে দ্রুত বাজারে সরবরাহ করবে। এতে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, বাজারে ভারসাম্য আনতেই বিপিসির মাধ্যমে সরকার থেকে সরকার পর্যায়ে এলপিজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুতই এর অনুমোদন দেওয়া হবে। তিনি জানান, সরকার আপাতত এলপিজি আমদানির কাজ করবে। সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও বিতরণে সরাসরি যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা নেই।

বিপিসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এলপিজি আমদানির জন্য সংস্থাটির নিজস্ব অবকাঠামো বর্তমানে নেই। তবে বেসরকারি অপারেটররা কুতুবদিয়া গভীর সমুদ্র এলাকা থেকে এলপিজিবাহী বড় জাহাজের পণ্য লাইটার জাহাজে এনে নিজস্ব টার্মিনালে সংরক্ষণ ও বিতরণ করে থাকে। বিপিসিও একইভাবে বেসরকারি অপারেটরদের সুবিধা ব্যবহার করে এলপিজি খালাস ও বিতরণ করতে পারে।

সরকারের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক। তিনি বলেন, বর্তমানে নানা জটিলতায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি করতে পারছে না। সরকার নিজ দায়িত্বে আমদানি করতে পারলে ভোক্তারা উপকৃত হবেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল আমদানিই যথেষ্ট নয়। অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন বলেন, সরকারিভাবে এলপিজি আমদানি নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ। কিন্তু আমদানির পর বিক্রি ও বিতরণ পদ্ধতি সঠিকভাবে তদারকি না করলে নৈরাজ্য পুরোপুরি কমবে না। বিপিসি যদি সরাসরি বিক্রয় বা বোতলজাতকরণে যুক্ত না হয়ে সবকিছু ব্যবসায়ীদের ওপর ছেড়ে দেয়, তাহলে বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা কঠিন হবে।

দেশে সরবরাহ করা এলপিজির ৯৮ শতাংশই আসছে বেসরকারিভাবে। মাত্র ২ শতাংশ এলপিজি সরকারিভাবে সরবরাহ হচ্ছে। কিন্তু সরকারি এই এলপিজি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।

জিদেশে এলপিজির ৮০ শতাংশই ব্যবহার হয় বাসাবাড়িতে রান্নার কাজে। পাশাপাশি কারখানা, বাণিজ্যিক ও গাড়ির জ্বালানি হিসেবে (অটো গ্যাস) ব্যবহার হচ্ছে। এ খাতে ৫৮টি প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স নিলেও মাত্র ২৭টি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে এলপিজি অপারেটর হিসেবে নিয়োজিত। এলপিজির গড় মাসিক বাজার ১ লাখ ৩০ হাজার টন। এই বাজারের ৫৫ শতাংশ ব্যবসা রয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের হাতে। বাজারে এলপিজির সিলিন্ডার রয়েছে চার কোটি। 

বর্তমানে প্রতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দর নির্ধারণ করে দেয় এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। কিন্তু সেই দামে কখনোই ভোক্তারা এলপিজি কিনতে পারেন না। এ নিয়ে অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতারা পাল্টাপাল্টি দোষারোপ করলেও দিনশেষে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন ভোক্তারাই।