img

যেভাবেই হোক, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র দখল করবেই : ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৭:১৫, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

যেভাবেই হোক, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র দখল করবেই : ট্রাম্প

ক্রমেই আগ্রাসী ভাবমূর্তি স্পষ্ট হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে একের পর এক হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন তিনি; তোয়াক্কা করছেন না কোনও শক্তিকেই। গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এই আর্কটিক দ্বীপটি দখলে নিতে যুক্তরাষ্ট্র সহজ বা প্রয়োজনে কঠিন পথে এগোতে পারে।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে তেল খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু একটা করব—তারা চাক বা না চাক। গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে তিনি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যত উপেক্ষা করেন।

ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইবে। তবে তা সম্ভব না হলে শক্ত পথ বেছে নেওয়া হবে। তার মতে, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ার কারণে।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র না নিলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ডের দখল নিতে পারে। তাই বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।

গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি থাকলেও, দ্বীপটি দখলের হুমকিতে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্ররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, এমন আগ্রাসন ন্যাটো ও যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য ভয়াবহ হবে।

তবে ডেনমার্কের এই উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হলেও কয়েকশ বছর আগে সেখানে জাহাজ ভেড়ানোই মালিকানার প্রমাণ হতে পারে না।

এদিকে আগামী সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।


img

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৪:২৪, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক ও শিক্ষার্থী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। 

গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। 

বিশেষ করে সম্প্রতি মিনিয়াপলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় এই গণবিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে নর্থ ক্যারোলিনা এবং ওহিও পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নেমে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
\r\nবিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনিয়াপলিস, যেখানে গত ৭ জানুয়ারি এক অভিবাসন অভিযানের সময় রেনি গুডকে তার গাড়ি থেকে টেনে বের করে গুলি করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেন। 

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা এবং নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-তে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ‘আইস সন্ত্রাস বন্ধ করো’ দাবিতে সমাবেশে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন জনমতের তোয়াক্কা না করে অমানবিক উপায়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিতাড়িত করার যে ম্যান্ডেট দাবি করছে, তা প্রকৃতপক্ষে মার্কিন মূল্যবোধের পরিপন্থী।
\r\nএই বিক্ষোভের নেপথ্যে ছিল ইনডিভিবল এবং ৫০৫০১-এর মতো বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলো। তারা বিশেষ করে টেক্সাসের এল পাসোর মতো জায়গায় স্থাপিত অভিবাসী ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোর ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানান। 
\r\nফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় সপ্তাহে ওই ক্যাম্পে অন্তত তিনজন আটক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে যে, অধিকাংশ আমেরিকান নাগরিক আইস এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর বলপ্রয়োগের এই প্রক্রিয়ার বিরোধী।
\r\nমঙ্গলবার সকালের দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পর্যায়ক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলী শহর যেমন সান ফ্রান্সিসকো এবং সিয়াটলের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় ধরনের সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। 
\r\nট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য দাবি করে আসছে যে, অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা কেবল ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই পালন করছে। তবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রশাসনের এই অনমনীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
\r\nসূত্র: রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর