img

আয়াতুল্লাহ খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন, যা জানাল ইরানি দূতাবাস

প্রকাশিত :  ০৯:২১, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

আয়াতুল্লাহ খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন, যা জানাল ইরানি দূতাবাস

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইরানি দূতাবাস। তারা এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উল্লেখ করেছে।

আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই (৮৬) নাকি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনী যদি সরকারের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে খামেনেই তার পরিবারের প্রায় ২০ জন সদস্যকে নিয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারেন বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কথাও উল্লেখ করা হয়।

তবে এই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব। তারা উল্লেখ করে, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও খামেনেই দেশ ছাড়েননি। সুতরাং বিক্ষোভের কারণে তার দেশত্যাগের খবর সম্পূর্ণ অসত্য। দূতাবাস একে শত্রু রাষ্ট্রগুলোর অপপ্রচার বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানায়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন শহরে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে। অনেক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি তুলছেন।

অন্যদিকে, সরকারের সমর্থনেও বড় বড় সমাবেশ হচ্ছে। কেরমানসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে খামেনেইয়ের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন এবং সরকারপন্থী স্লোগান দিচ্ছেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, দেশটির ভেতরে মতভেদ গভীর হলেও ক্ষমতায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখনো শক্ত রয়েছে।

এনডিটিভিকে দেওয়া বক্তব্যে কয়েকজন ইরানি নাগরিক জানান, মূল্যস্ফীতি সত্যিই বড় সমস্যা এবং তারা চান এটি নিয়ন্ত্রণে আসুক। তবে তারা খামেনির বিরোধী নন। তাদের মতে, যারা খামেনেইয়ের বিরোধিতা করছে তারা মূলত সাবেক শাহ রেজা পাহলভির সমর্থক ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যুক্ত।

কোম শহরের ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা জামির জাফরি বলেন, খামেনেই সম্প্রতি ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে তিনি এখনো সক্রিয়ভাবে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তেহরানে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক। খামেনেই দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন—এমন খবর পুরোপুরি ভুয়া। তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমকে যাচাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানান।


img

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রতিবাদে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৪:২৪, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে হাজার হাজার শ্রমিক ও শিক্ষার্থী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। 

গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আয়োজিত এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রাসী অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। 

বিশেষ করে সম্প্রতি মিনিয়াপলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) এজেন্টের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক রেনি গুড নিহত হওয়ার ঘটনায় এই গণবিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসি থেকে শুরু করে নর্থ ক্যারোলিনা এবং ওহিও পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা রাজপথে নেমে ট্রাম্পের অভিবাসন অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
\r\nবিক্ষোভের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মিনিয়াপলিস, যেখানে গত ৭ জানুয়ারি এক অভিবাসন অভিযানের সময় রেনি গুডকে তার গাড়ি থেকে টেনে বের করে গুলি করা হয়েছিল। এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ‘নো আইস, নো কেকেকে, নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান দিয়ে রাজপথ প্রকম্পিত করেন। 

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

ওহিও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়ারা এবং নিউ মেক্সিকোর সান্তা ফে-তে হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ‘আইস সন্ত্রাস বন্ধ করো’ দাবিতে সমাবেশে যোগ দেন। বিক্ষোভকারীদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন জনমতের তোয়াক্কা না করে অমানবিক উপায়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বিতাড়িত করার যে ম্যান্ডেট দাবি করছে, তা প্রকৃতপক্ষে মার্কিন মূল্যবোধের পরিপন্থী।
\r\nএই বিক্ষোভের নেপথ্যে ছিল ইনডিভিবল এবং ৫০৫০১-এর মতো বামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠী, বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠনগুলো। তারা বিশেষ করে টেক্সাসের এল পাসোর মতো জায়গায় স্থাপিত অভিবাসী ডিটেনশন ক্যাম্পগুলোর ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানান। 
\r\nফেডারেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় সপ্তাহে ওই ক্যাম্পে অন্তত তিনজন আটক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে দেখা গেছে যে, অধিকাংশ আমেরিকান নাগরিক আইস এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থাগুলোর মাধ্যমে অভিবাসন প্রত্যাশীদের ওপর বলপ্রয়োগের এই প্রক্রিয়ার বিরোধী।
\r\nমঙ্গলবার সকালের দিকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ পর্যায়ক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলী শহর যেমন সান ফ্রান্সিসকো এবং সিয়াটলের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত বড় ধরনের সমাবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। 
\r\nট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য দাবি করে আসছে যে, অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা কেবল ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিই পালন করছে। তবে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, প্রশাসনের এই অনমনীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
\r\nসূত্র: রয়টার্স।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর