img

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর পক্ষ হতে শীতার্ত ও অসহায় ৮০০ জনকে শীতবস্ত্র বিতরণ

প্রকাশিত :  ১৮:২৭, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৪৭, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর পক্ষ হতে শীতার্ত ও অসহায় ৮০০ জনকে শীতবস্ত্র বিতরণ

আজ ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে বিজিবি’র উদ্যোগে ঢাকা ব্যাটালিয়ন (২৬ বিজিবি) এর ব্যবস্থাপনায় শহীদ জাকির হোসেন বিজিবি হাসপাতাল, ঢাকা, ফোর্স সাপোর্ট উইং, ঢাকা, ঢাকা ব্যাটালিয়ন (২৬ বিজিবি) এবং আইসিটি ব্যাটালিয়ন এর পক্ষ হতে রাজধানীর নবাবগঞ্জ পার্কের আশেপাশের এলাকায় বসবাসরত ৮০০ জন শীতার্ত ও অসহায় সদস্যের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। 

কর্নেল এস এম আবুল এহসান, পিবিজিএম, পিবিজিএমএস, পিএসসি, সেক্টর কমান্ডার, সেক্টর সদর দপ্তর, ঢাকা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন। এ সময় ঢাকা ব্যাটালিয়ন (২৬ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোঃ রফিকুল ইসলাম, পিবিজিএম, বিজিবিএমএস, পিএসসি ও  উপ-অধিনায়ক মেজর আবরার আল মেহবুব, পিবিজিএম, আইসিটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ মাহবুবুর রহমান, পিবিজিএম এবং শহীদ জাকির হোসেন বিজিবি হাসপাতাল, ঢাকা এর উপ-অধিনায়ক মেজর মোঃ কামরুল হাসান, এফসিপিএস ও ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মোঃ কামাল হোসেন শেখ এবং ফোর্স সাপোর্ট উইং, ঢাকা এর ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার সহকারী পরিচালক মোঃ মাহাতাব উদ্দিন এবং অন্যান্য বিজিবি সদস্যবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

সেক্টর কমান্ডার শীতবস্ত্র বিতরণকালে সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের যেকোন দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা ও  আর্তমানবতার সেবায় সব সময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। গত কয়েক দিন ধরে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় প্রচন্ড শীতে অসহায় মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। সারাদেশে শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ বিজিবি’র পক্ষ থেকে ৮০০ জন অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয় এবং ভবিষ্যতেও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।  


img

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের মানসিকতায় নীরব পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বাস্তবতায় একটি বিষয় ক্রমেই আলোচনায় উঠে আসছে—সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটের আচরণে সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধারণা ছিল, এসব এলাকার ভোটাররা প্রায় স্থিরভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রতিই সমর্থন জানিয়ে আসেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেই একমুখী প্রবণতা ধীরে ধীরে বহুমুখী রূপ নিচ্ছে।

সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে এবার ভোটের ফলাফলে বৈচিত্র্য লক্ষ করা গেছে। কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে কাছাকাছি ব্যবধানে, আবার কোথাও পূর্বপরিচিত সমীকরণের বাইরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক পছন্দের প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রত্যাশা, নিরাপত্তা-বোধ, উন্নয়নচাহিদা এবং রাজনৈতিক আস্থার ধীর রূপান্তরের দৃশ্যমান প্রকাশ।

অতীতে সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট ধারায় অবস্থান করলেও বাস্তবে ভিন্নমতের উপস্থিতি একেবারে অনুপস্থিত ছিল না—তবে সেই মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতো না। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, যোগাযোগের বিস্তার, স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয়তা এবং উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রত্যাশা বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও স্বাধীন ও বিচিত্র হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো জনগোষ্ঠীর ভোটের আচরণ স্থির থাকে না; সময়, অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে তা পরিবর্তিত হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা কাজ করছে। নিরাপত্তা, মর্যাদা, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির মতো বিষয়গুলো এখন ভোটের সিদ্ধান্তে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ঐতিহ্যগত সমর্থনের কাঠামো ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে বাস্তবভিত্তিক পছন্দের জায়গা তৈরি হচ্ছে।

এই পরিবর্তন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কেবল ঐতিহাসিক সমর্থনের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদা, অধিকারবোধ এবং উন্নয়ন প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়াই ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রধান শর্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় আস্থা, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আরও বেশি গুরুত্ব পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভোটের মানসিকতায় যে ধীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটারদের এই ক্রমবিবর্তিত অবস্থান ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে—যেখানে পরিচয়ের চেয়ে বাস্তব প্রত্যাশাই হয়ে উঠবে সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি।