img

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহত বেড়ে ৫৩৮

প্রকাশিত :  ০৪:৩৫, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

বিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহত বেড়ে ৫৩৮

ইরানে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দেশটির শতাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই আন্দোলনে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের মুখে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছে মানুষ। বিক্ষোভে অন্তত পাঁচ শতাধিক নিহত হয়েছেন বলে একটি মানবাধিকার সংগঠন বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) রোববার (১১ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিক্ষোভের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, হতাহত ও বন্দির প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। 

গত তিন দিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক ও আন্তর্জাতিক কল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরানের বড় বড় হাসপাতালগুলোর মর্গ ইতিমধ্যে লাশে পূর্ণ হয়ে গেছে এবং নতুন মরদেহ ফেরত পাঠাতে বাধ্য হচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালগুলোতে কর্মরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে আহত ও নিহতদের ভিড়ে হাসপাতালগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মর্গে স্থান সংকুলান না হওয়ায় হাসপাতাল প্রশাসন চরম অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে। 

ইরান সরকার এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) নিরপেক্ষভাবে নিহতের সংখ্যা যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও দেশটির যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। দিন যত গড়াচ্ছে, রাজপথে আন্দোলনের তীব্রতা ও সহিংসতার মাত্রা ততই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

এই গণবিক্ষোভের মূল নেপথ্যে রয়েছে ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও মুদ্রার চরম অবমূল্যায়ন। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মান রেকর্ড পরিমাণ কমে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫-তে দাঁড়িয়েছে, যা একে বিশ্বের অন্যতম দুর্বল মুদ্রায় পরিণত করেছে। এই ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতির ফলে খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। 

গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের বাজারের ব্যবসায়ীরা উচ্চমূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে যে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন, তা-ই বর্তমানে ৩১টি প্রদেশের সব শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশকে অচল করে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এখন জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির চেয়েও বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবি তুলছেন।

আন্তর্জাতিক মহলে এই বিক্ষোভ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীদের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার নিষ্ঠুর পন্থায় দমন-পীড়ন চালালে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করতে পারে। 

অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান গত রোববার এক ভাষণে দেশের অর্থনীতি ঢেলে সাজানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তার সরকার জনগণের অভিযোগ শোনার জন্য প্রস্তুত। তবে সরকারের এই আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা কর্ণপাত করছেন না এবং তারা এখনো রাজপথে অনড় অবস্থানে রয়েছেন।

সূত্র: এএফপি


img

কানাডায় স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ১০

প্রকাশিত :  ০৫:৪১, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে একটি স্কুলে বন্দুকধারীর হামলায় হামলাকারীসহ ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটে টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানায়, স্কুলের ভেতরেই সন্দেহভাজন হামলাকারীর লাশ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে ছয়জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন মারা যান। এছাড়া কমিউনিটির একটি আবাসিক ভবন থেকে আরও দুজনের লাশ পাওয়া গেছে।

হামলার পরপরই টাম্বলার রিজ পুলিশ সতর্কতা জারি করে। বর্তমানে দ্বিতীয় কোনো সন্দেহভাজন জড়িত ছিলেন কিনা এবং প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা কত তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার ছোট এই শহরের বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশপাশের এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবা মোতায়েন করা হয়েছে।

পিস রিভার সাউথ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানিয়েছে, ঘটনার পর টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল এবং টাম্বলার রিজ এলিমেন্টারি স্কুলে ‘লকডাউন’ ও ‘সিকিউর অ্যান্ড হোল্ড’ জারি করা হয়।

পিস রিভার সাউথের আইনপ্রণেতা ল্যারি নিউফেল্ড বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তবে চলমান অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না।

প্রাদেশিক সরকারের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোট ১৭৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সঠিক সংখ্যা ও হামলার পেছনের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।

সূত্র: বিবিসি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর