img

স্কুলছাত্রীকে গলাকেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল গ্রেফতার মিলন

প্রকাশিত :  ০৬:৪৬, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

স্কুলছাত্রীকে গলাকেটে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল গ্রেফতার মিলন

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় দশম শ্রেণির ছাত্রীর গলাকেটে হত্যার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেপ্তার মিলন মল্লিক। র‌্যাব-৩ এর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জানায়, সে নিহত ফাতেমা আক্তার লিলিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল।

আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মো. মিলন মল্লিককে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের মিলন র‌্যাব-৩ জানায়, মিলন মল্লিকের সঙ্গে নিহত স্কুলছাত্রী লিলির সুসম্পর্ক ছিল। তবে এই সম্পর্কের সুবাদে সে বিভিন্ন সময় আকার-ইঙ্গিতে লিলির কাছে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ করত এবং লিলির পরিবার বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলে মিলন লিলিকে নিয়ে পালিয়ে যাবে বলে তাকে জানায়।

র‌্যাব-৩ আরও জানায়, পরবর্তীতে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বাসায় একা পেয়ে মিলন লিলিকে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে লিলি তাকে জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না। সেই সঙ্গে লিলি মিলনকে ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে’ নিষেধ করে।

পরে একপর্যায়ে নিজের এমন অনৈতিক প্রস্তাবে সহযোগিতা না করার কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় মিলন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সত্যতা উদ্‌ঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদে করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

এর আগে, এদিন সকালে এক খুদেবার্তায় ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন রেস্তোরাঁ কর্মী মিলনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকালে খবর পেয়ে দক্ষিণ বনশ্রী মেইন রোডের এল ব্লকের ২/১ নং রোডের প্রীতম ভিলা নামে বাসা থেকে ফাতেমা আক্তার নিলির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির খিলগাঁও থানার ওসি মো. শফিকুল বলেছেন, বিকালে খবর পেয়ে পুলিশ ওই বাসায় গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে পুলিশ সেখানে আছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটি হত্যাকাণ্ড।

ওসি বলেন, দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টার মধ্যে যে কোনো সময় ওই তরুণীকে হত্যা করা করা হতে পারে।

ফাতেমা আক্তার বনশ্রীর রেডিয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মা-বাবা, ভাই ও বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকত সে। তাদের গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জের লাখাইয়ে। তার বাবা সজীব মিয়া বনশ্রীতে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনা করেন।


img

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের মানসিকতায় নীরব পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বাস্তবতায় একটি বিষয় ক্রমেই আলোচনায় উঠে আসছে—সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটের আচরণে সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধারণা ছিল, এসব এলাকার ভোটাররা প্রায় স্থিরভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রতিই সমর্থন জানিয়ে আসেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেই একমুখী প্রবণতা ধীরে ধীরে বহুমুখী রূপ নিচ্ছে।

সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে এবার ভোটের ফলাফলে বৈচিত্র্য লক্ষ করা গেছে। কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে কাছাকাছি ব্যবধানে, আবার কোথাও পূর্বপরিচিত সমীকরণের বাইরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক পছন্দের প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রত্যাশা, নিরাপত্তা-বোধ, উন্নয়নচাহিদা এবং রাজনৈতিক আস্থার ধীর রূপান্তরের দৃশ্যমান প্রকাশ।

অতীতে সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট ধারায় অবস্থান করলেও বাস্তবে ভিন্নমতের উপস্থিতি একেবারে অনুপস্থিত ছিল না—তবে সেই মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতো না। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, যোগাযোগের বিস্তার, স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয়তা এবং উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রত্যাশা বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও স্বাধীন ও বিচিত্র হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো জনগোষ্ঠীর ভোটের আচরণ স্থির থাকে না; সময়, অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে তা পরিবর্তিত হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা কাজ করছে। নিরাপত্তা, মর্যাদা, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির মতো বিষয়গুলো এখন ভোটের সিদ্ধান্তে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ঐতিহ্যগত সমর্থনের কাঠামো ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে বাস্তবভিত্তিক পছন্দের জায়গা তৈরি হচ্ছে।

এই পরিবর্তন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কেবল ঐতিহাসিক সমর্থনের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদা, অধিকারবোধ এবং উন্নয়ন প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়াই ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রধান শর্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় আস্থা, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আরও বেশি গুরুত্ব পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভোটের মানসিকতায় যে ধীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটারদের এই ক্রমবিবর্তিত অবস্থান ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে—যেখানে পরিচয়ের চেয়ে বাস্তব প্রত্যাশাই হয়ে উঠবে সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি।