‘আমাকে বিষ খাওয়াই দিছে’- মৃত্যুর আগে বললেন গৃহবধূ
‘আমাকে বিষ খাওয়াই দিছে, খাওয়াই দিছে, সত্যি’- এভাবে শাশুড়ির বিরুদ্ধে বিষ পান করানোর অভিযোগ তোলার কিছুক্ষণ পর মারা যান আমেনা বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধূ।
গতকাল শনিবার মধ্যরাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে হাসপাতালের শয্যায় শাশুড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন আমেনা। সেই ভিডিও রাতেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে সাতকানিয়া থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে ওই নারীর স্বামী মো. ইউছুফকে। তিনি সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাহাদিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
আমেনা জেলার লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের মীরপাড়া এলাকার শফিক আহমদের মেয়ে। ইউছুফের সঙ্গে তার বিয়ে হয় ২০২২ সালের ৫ আগস্ট। এ দম্পতির আড়াই বছরের মেয়ে রয়েছে।
আমেনার বড় ভাই মো. ফোরকান বলেন, ‘শুক্রবার আসরের সময় আমার বোন (আমেনা) আমাকে ফোন করে জানায় তাকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যেতে। না হলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে মেরে ফেলবে। আমি বলেছি, ধৈর্য ধর। পরে তার স্বামী একই রাতে আমাকে ফোন দিয়ে বলছে, আমেনা বিষপান করেছে। তখন তাৎক্ষণিক আমার মাথায় এলো– কেন বোন আমাকে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে যেতে বলেছে। আমি যদি তাকে নিয়ে আসতাম, তাহলে আমার বোন বেঁচে থাকত।’
ফোরকানের অভিযোগ, তার ভগ্নিপতি ইউসুফ ও তার মা-বাবা মিলে জোর করে বিষ পান করিয়ে তার বোনকে মেরে ফেলেছে। তিনি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
এ ঘটনার পেছনে যৌতুকের বিষয় রয়েছে বলেও জানান তিনি। ফোরকান বলেন, ‘বিয়ের পর থেকে আমার বোনকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের হিসেবে টাকা আনতে শারীরিক-মানসিক নির্যাতন করত। এতে আমেনা অসম্মতি জানালে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। অথচ ইউসুফের থাকার বাড়িটাও আমরা করে দিছি। বিয়ের সময় দাওয়াত না খাওয়ানোর কথা বলে আমাদের কাছ থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছে ইউছুফ। বিয়ের সাত দিন পর বাড়িতে পানির মোটর বসানোর জন্য দেওয়া হয় ৩০ হাজার টাকা।’
এসব অস্বীকার করেন মো. ইউসুফ। তিনি বলেন, যে ভিডিও প্রকাশ হয়েছে সেটা মিথ্যা। আমেনার ভাগনে জোর করে করিয়েছে। আমাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল। বেশ কয়েকবার বিচার-সালিশও হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে আমি বাড়ির বাইরে ছিলাম। চা-নাশতা খেয়ে বাড়ির পাশের মাহফিলে যাওয়ার জন্য ঘরে জামা-কাপড়ের জন্য গিয়ে দেখি রুমে লাইট নেভানো। আলো দিয়ে দেখি আমেনা খাটে ছটফট করছে। পরে অটোরিকশায় লোহাগাড়ার পদুয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কী হয়েছে ও কেমন লাগছে জিজ্ঞাসা করলেও সে আমাকে কিছু বলেনি। হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি, সে বিষ খেয়েছে।
ইউছুফের ভাষ্য, ‘মূলত আমার মা-বাবা ও পরিবার আমাকে আলাদা হওয়ার জন্য চাপ দিত। আমি খেটে খাওয়া মানুষ। আলাদা হতে রাজি না হওয়ায় আমেনা আমার ওপর প্রায় সময় মেজাজ দেখাত।’
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমেনার স্বামী ইউছুফকে আটক করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে বিস্তারিত তদন্তের পর ব্যবস্থা নেবেন।



















