img

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ

প্রকাশিত :  ১৩:০২, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা বরাদ্দ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারা দেশে ২১ হাজার ৯৪৬টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভা শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

আজাদ মজুমদার বলেন, সারা দেশে প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।

বাকি কেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ২১ হাজার ৯৪৬টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি বসানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ এই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বরাদ্দের আওতায় প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে কমপক্ষে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ তালিকার বাইরে থাকা কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যামেরা বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে সব জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং অনেক এলাকায় তা দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে।

উপ-প্রেস সচিব আরো জানান, কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে গাজীপুর জেলা উল্লেখযোগ্য।

গাজীপুরে মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের অধিকাংশে ইতিমধ্যে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আজাদ মজুমদার বলেন, সারা দেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে, যেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব কেন্দ্রে সৌর বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে জেনারেটরের মাধ্যমে হলেও ভোটের দিন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে ব্রিফিংয়ে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনার বিষয়েও নিকার সভায় আলোচনা হয়েছে। ঢাকার আয়তন ও জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উত্তর ও দক্ষিণে বিভক্ত করা হবে, নাকি একাধিক অংশে পুনর্গঠন করা হবে— এ বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শফিকুল আলম চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে আরো জোরদার অভিযান চালানো হবে এবং আশপাশের এলাকায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কম্বিং অপারেশন পরিচালনা করা হবে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বে সিরাজ উদ্দিন মিয়া

প্রকাশিত :  ১৪:১২, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৪৪, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে পরিবর্তন আনা হলো। মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তার জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব (চুক্তিভিত্তিক) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া। 

আজ শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

নতুন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করবেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীর সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর যে প্রজ্ঞাপনমূলে ড. শেখ আব্দুর রশীদকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব পদে চুক্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তার নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ এখন বাতিল করা হলো।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই আদেশটি আজই কার্যকর হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও বিভাগকে অনুলিপি পাঠিয়ে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর ড. শেখ আব্দুর রশীদকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।