img

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে যে সতর্কবার্তা দিল আমিরাত

প্রকাশিত :  ০২:৩৩, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার বিরুদ্ধে যে সতর্কবার্তা দিল আমিরাত

সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের ভূখণ্ড থেকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালাতে দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। 

গতকাল সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কার মাঝেই  দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন একটি ‘নৌবহর’ উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের পর ইরানের ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে ওয়াশিংটন।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কার্যক্রমে নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দেশটির রাজধানী আবুধাবির কাছে আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতে হাজার হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সামরিক স্থাপনার একটি আমিরাতের এই ঘাঁটি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এমনকি ইরানে কোনো হামলায় লজিস্টিক সহায়তাও দেবে না আমিরাত। বর্তমান সংকট মোকাবিলায় সংলাপের পাশাপাশি উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্য এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মানই সর্বোত্তম উপায় বলে জানিয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ জানুয়ারি থেকে কয়েক দিন ধরে সারা দেশে এই বিক্ষোভ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) ইরানে সাম্প্রতি বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার মানুষের প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ক্ষমতায় আসা ধর্মীয় নেতৃত্ব নজিরবিহীন ওই বিক্ষোভ দমনের পর এখনো টিকে আছে। দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর বিরোধিতাকারী অনেকে পরিবর্তনের সবচেয়ে সম্ভাব্য পথ হিসেবে এখনো বাইরের হস্তক্ষেপের দিকে তাকিয়ে আছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে সামরিক হস্তক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও পরে জোর দিয়ে বলেছেন, সেটি এখনো একটি বিকল্প।

\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n\r\n

সূত্র: এএফপি।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম

প্রকাশিত :  ১১:৫৪, ০৫ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব পরিস্থিতি যখন ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই নিজেদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। দেশটির নতুন নির্মিত একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ থেকে সফলভাবে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এ সময় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন স্বশরীরে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত নাম্পো শিপইয়ার্ড থেকে ‘চো হিওন’ নামের নতুন এই ডেস্ট্রয়ার জাহাজ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রায় ৫০০ টন ওজনের এই জাহাজ থেকেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

জাহাজটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কিম জং-উন বলেন, অচিরেই তাদের নৌবাহিনী পানির নিচ থেকে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকেও আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটিও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক এই সাফল্যের কথা উল্লেখ করে কিম বলেন, নৌ প্রতিরক্ষায় এ ধরনের অগ্রগতি দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা গত পাঁচ দশকেও সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই নতুন সমরাস্ত্র প্রদর্শন অঞ্চলজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।