img

ইরানের বিরুদ্ধে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব

প্রকাশিত :  ০৪:৪৬, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না সৌদি আরব

সৌদি আরবের যুবরাজ ও কার্যত শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে জানিয়েছেন, তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরবের আকাশসীমা কিংবা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

দুই নেতার মধ্যে টেলিফোন আলাপে যুবরাজ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে মতপার্থক্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের যে কোনো উদ্যোগকে রিয়াদ সমর্থন করে।

এর আগে ইরানের গণমাধ্যম জানায়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুবরাজকে বলেছেন- আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে যুদ্ধ এড়াতে সহায়ক যে কোনো প্রক্রিয়াকেই তেহরান স্বাগত জানায়।

সৌদি যুবরাজের এই বক্তব্যের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও একই ধরনের অবস্থান জানিয়ে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপে তাদের আকাশসীমা বা জলসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে, ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার মধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, একটি আর্মাডা ইরানের দিকে রওনা হয়েছে, যদিও তিনি আশা প্রকাশ করেন সেটি ব্যবহার করতে হবে না। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ছিল- বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় শুরু না করার বিষয়ে। তবে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভ পরে অনেকটাই স্তিমিত হয়েছে।

গত সোমবার দুই মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও সহায়ক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এর ফলে মার্কিন বাহিনীকে রক্ষা বা প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো, যাদের মধ্যে পথচারীরাও ছিলেন। সংস্থাগুলোর মতে, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটিই সবচেয়ে বড় দমন-পীড়ন। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রবাসী বিরোধীদের মদদপুষ্ট ‘সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজদের’ কারণেই সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম

প্রকাশিত :  ১১:৫৪, ০৫ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব পরিস্থিতি যখন ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই নিজেদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। দেশটির নতুন নির্মিত একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ থেকে সফলভাবে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এ সময় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন স্বশরীরে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত নাম্পো শিপইয়ার্ড থেকে ‘চো হিওন’ নামের নতুন এই ডেস্ট্রয়ার জাহাজ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রায় ৫০০ টন ওজনের এই জাহাজ থেকেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

জাহাজটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কিম জং-উন বলেন, অচিরেই তাদের নৌবাহিনী পানির নিচ থেকে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকেও আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটিও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক এই সাফল্যের কথা উল্লেখ করে কিম বলেন, নৌ প্রতিরক্ষায় এ ধরনের অগ্রগতি দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা গত পাঁচ দশকেও সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই নতুন সমরাস্ত্র প্রদর্শন অঞ্চলজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।