img

ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে শনাক্ত করা হয় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর মরদেহ

প্রকাশিত :  ০৪:৪১, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে শনাক্ত করা হয় মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রীর মরদেহ

ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বারামতি বিমানবন্দরে অবতরণের চেষ্টার সময় উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

দুর্ঘটনায় বর্ষীয়ান এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের ভাতিজা ও মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী ৬৬ বছর বয়সী অজিত পাওয়ারসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাইলট ও অজিত পাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। ওই দিন মহারাষ্ট্রের আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে নিজের শহর বারামতিতে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাচ্ছিলেন তারা।

বিমানের নজরদারি করা কয়েকটি সংস্থার তথ্যমতে, ওড়ার ২৪ মিনিটের মাথায় হঠাৎ সংকেত পাঠানো বন্ধ করে দেয় বিমান। পরে অবশ্য কয়েক মিনিটের মধ্যে আবারও সংকেত পাঠানো হয়।

‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর তথ্যমতে, অজিতের বিমানটি প্রথমবারের চেষ্টায় বারামতির রানওয়েতে নামতে পারেনি। এরপর একবার ঘুরে ফের অবতরণের চেষ্টা করেছিল। পরে ৮টা ৪৩ মিনিট থেকে ওই বিমানের সিগন্যাল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময়েই বিমানটি ভেঙে পড়েছে।

জানা গেছে, যে জায়গা থেকে বিমানটি সংকেত পাঠানো বন্ধ করেছিল সেটি মূল অবতরণস্থল বারামতি বিমানবন্দর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে। বারামতি বিমানবন্দরের ম্যানেজার শিবাজি তাওয়াড়ে জানান, অবতরণের সময়ে রানওয়ের থেকে কিছুটা দূরে ভেঙে পড়ে বিমানটি। মাটিতে আছড়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়।

পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপ থেকে কারও মরদেহ প্রথমে শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। পরে হাতঘড়ি এবং পোশাক দেখে অজিতের মরদেহ শনাক্ত করা হয়। ঘটনাক্রমে অজিতের দল এনসিপির নির্বাচনী প্রতীকও ঘড়ি। এই প্রতীক নিকে কাকা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব গড়িয়েছিল নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত।

প্রাথমিকভাবে অজিতের বিমানের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি শনাক্ত করা যায়নি। ওড়ার ১০ মিনিটের মাথায় অজিতের বিমান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬ কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তখন গতি ছিল প্রতি ঘণ্টায় ১০৩৬ কিলোমিটার। ভেঙে পড়ার আগে বিমানটির উচ্চতা কমে এসেছিল ১০১৬ মিটারে। গতিবেগ ছিল ২৩৭ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

দেশটির কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভেঙে পড়ার আগ মুহূর্তে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে পাইলট জানান, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন না। তারপর বিমানটি একবার ঘুরে ফের অবতরণের চেষ্টা করে। সে সময়ও পাইলট জানান, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। তারপরই বিমানটি ভেঙে পড়ে।

ভিএসআর অ্যাভিয়েশন সংস্থার বম্বার্ডিয়ার লিয়ারজেট-৪৫ বিমানে করে মুম্বাই থেকে বারামতি যাচ্ছিলেন অজিত পওয়ার। গত আড়াই বছরে ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের বিমান দুবার দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার রাতেই নিয়ে মুখ খুলেছেন সংস্থার মালিক ভিকে সিংহ।

ভিকে জানান, তার সংস্থার অধীনে এখন সাতটি বিমান রয়েছে। কোনো বিমানই বাতিল করা হবে না। কারণ, সব বিমান ওড়ার উপযুক্ত, কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। এমনকি অজিতের বিমানটিতেও কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না বলে দাবি করেছেন ভিকে।

এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মুম্বাই বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ভেঙে পড়েছিল ভিএসআর অ্যাভিয়েশনের একটি ব্যক্তিগত বিমান। সে সময়ও ত্রুটির কথা মানতে চায়নি ভিএসআর অ্যাভিয়েশন।

ভিকে বলেন, ‘আমাদের বিমানে কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল না। খুব ভালো ভাবে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। কেন আমরা বাকি বিমানগুলোকে বসিয়ে দিতে যাব? সবগুলো ফিট। এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা নেয়নি।’

সূত্র : আনন্দবাজার


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

বৈশ্বিক উত্তেজনার মাঝেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম

প্রকাশিত :  ১১:৫৪, ০৫ মার্চ ২০২৬

বিশ্ব পরিস্থিতি যখন ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে, ঠিক তখনই নিজেদের সামরিক শক্তির প্রদর্শন করল উত্তর কোরিয়া। দেশটির নতুন নির্মিত একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ থেকে সফলভাবে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। এ সময় উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং-উন স্বশরীরে উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

গতকাল বুধবার (৪ মার্চ) উত্তর কোরিয়ার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত নাম্পো শিপইয়ার্ড থেকে ‘চো হিওন’ নামের নতুন এই ডেস্ট্রয়ার জাহাজ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে। উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, দেশটির নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত প্রায় ৫০০ টন ওজনের এই জাহাজ থেকেই ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে।

জাহাজটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে কিম জং-উন বলেন, অচিরেই তাদের নৌবাহিনী পানির নিচ থেকে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকেও আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি নৌবাহিনীকে পরমাণু অস্ত্রে সজ্জিত করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেটিও ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সাম্প্রতিক এই সাফল্যের কথা উল্লেখ করে কিম বলেন, নৌ প্রতিরক্ষায় এ ধরনের অগ্রগতি দেশের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে, যা গত পাঁচ দশকেও সম্ভব হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার এই নতুন সমরাস্ত্র প্রদর্শন অঞ্চলজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।