img

তারেক রহমান আজ রংপুর যাচ্ছেন

প্রকাশিত :  ০৪:৫৯, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

তারেক রহমান আজ রংপুর যাচ্ছেন

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ শুক্রবার রংপুরে আসছেন। তার আগমনকে ঘিরে নতুন করে উজ্জীবিত হয়েছেন রংপুরের নেতাকর্মীরা। ইতোমধ্যে চলছে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা। তার আগমনকে কেন্দ্র করে শুধু রংপুর মহানগরী নয়, গোটা জেলার নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নতুন করে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে।

দীর্ঘ ২২ বছর পর এটিই তার রংপুর সফর। এই সফরে তিনি আগে বগুড়ায় আসবেন এবং সেখান থেকে আসার পথে রংপুরের পীরগঞ্জের জাফরপাড়ায় শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে বিকাল সাড়ে ৪টায় রংপুরের কালেক্টরেট ঈদগাঁহ মাঠে নির্বাচনি জনসভায় যোগ দেবেন। রাতে রংপুরের অবস্থানের পর তিনি আগামীকাল শনিবার সড়ক পথে ঢাকায় ফিরবেন।

তার আগমনকে কেন্দ্র করে রংপুরে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। উজ্জীবিত সকল নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ ২২ বছর পর রংপুরে আসার সিদ্ধান্তে দলের তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায়ের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরাজ করছে আনন্দ। নতুন করে ফিরে এসেছে প্রাণ চাঞ্চল্য। রংপুরের পীরগঞ্জেও তার আগমনকে ঘিরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। তাকে এক নজর দেখার জন্য দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষ উদগ্রীব হয়ে আছেন।

এদিকে, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে রংপুর থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মী পীরগঞ্জ যাবেন। সেখান থেকে তাকে শোভাযাত্রা সহকারে রংপুরে নিয়ে আসবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।


img

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের মানসিকতায় নীরব পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বাস্তবতায় একটি বিষয় ক্রমেই আলোচনায় উঠে আসছে—সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটের আচরণে সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধারণা ছিল, এসব এলাকার ভোটাররা প্রায় স্থিরভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রতিই সমর্থন জানিয়ে আসেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেই একমুখী প্রবণতা ধীরে ধীরে বহুমুখী রূপ নিচ্ছে।

সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে এবার ভোটের ফলাফলে বৈচিত্র্য লক্ষ করা গেছে। কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে কাছাকাছি ব্যবধানে, আবার কোথাও পূর্বপরিচিত সমীকরণের বাইরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক পছন্দের প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রত্যাশা, নিরাপত্তা-বোধ, উন্নয়নচাহিদা এবং রাজনৈতিক আস্থার ধীর রূপান্তরের দৃশ্যমান প্রকাশ।

অতীতে সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট ধারায় অবস্থান করলেও বাস্তবে ভিন্নমতের উপস্থিতি একেবারে অনুপস্থিত ছিল না—তবে সেই মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতো না। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, যোগাযোগের বিস্তার, স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয়তা এবং উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রত্যাশা বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও স্বাধীন ও বিচিত্র হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো জনগোষ্ঠীর ভোটের আচরণ স্থির থাকে না; সময়, অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে তা পরিবর্তিত হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা কাজ করছে। নিরাপত্তা, মর্যাদা, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির মতো বিষয়গুলো এখন ভোটের সিদ্ধান্তে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ঐতিহ্যগত সমর্থনের কাঠামো ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে বাস্তবভিত্তিক পছন্দের জায়গা তৈরি হচ্ছে।

এই পরিবর্তন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কেবল ঐতিহাসিক সমর্থনের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদা, অধিকারবোধ এবং উন্নয়ন প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়াই ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রধান শর্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় আস্থা, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আরও বেশি গুরুত্ব পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভোটের মানসিকতায় যে ধীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটারদের এই ক্রমবিবর্তিত অবস্থান ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে—যেখানে পরিচয়ের চেয়ে বাস্তব প্রত্যাশাই হয়ে উঠবে সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি।