img

গোল্ড’স জিম বাংলাদেশের ‘ডিনার উইথ দ্য স্টারসে’ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মিলনমেলা

প্রকাশিত :  ০৭:২০, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২৩, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গোল্ড’স জিম বাংলাদেশের ‘ডিনার উইথ দ্য স্টারসে’ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মিলনমেলা

কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের নিত্যদিন শুটিং কিংবা ভিডিও তৈরির কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয়। সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে এবং শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে তাঁদেরও ছুটতে হয় জিমে ঘাম ঝরাতে। তাতে শরীরের সতেজতার সঙ্গে কর্মদক্ষতাও বাড়ে। তাই দেশের শতাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর বেছে নিয়েছেন গোল্ড’স জিম বাংলাদেশকে।

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে অবস্থিত অত্যাধুনিক এই জিম গতকাল দেশের জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।

যুবসমাজ ও ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে ‘ডিনার উইথ দ্য স্টারস’ শীর্ষক একটি নেটওয়ার্কিং ইভেন্টের আয়োজন করে গোল্ড’স জিম বাংলাদেশ। বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির গোল্ড’স জিমের পুলসাইডে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে শতাধিক কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফিটনেস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। এ সময় গোল্ড’স জিম ও ক্রিয়েটরদের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চুক্তি হয়।

গত বছরের মে মাসে যাত্রা শুরু হওয়া দেশের সবচেয়ে বড় এবং পরিপূর্ণ জিম সেন্টারের চাহিদা দিনকে দিন শুধু বেড়েই চলেছে। ওয়ার্ক আউট সেন্টার, কার্ডিও সেশন সেন্টার, ক্রাউ থেরাপি, কোল্ড প্লাঞ্জ, জাকুজি পুল, হিমলয়ান সল্ট বাথসহ নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা দুটি সুইমিং পুল—সব মিলিয়ে আধুনিক ও অত্যাধুনিক সরঞ্জামের মিশেলে সুবিশাল স্থাপনা।

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য জিম অত্যধিক কার্যকরী। এই ভাবনা থেকেই অত্যাধুনিক এই জিম তৈরি করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ।

ইতালির বিখ্যাত কম্পানি টেকনোজিম থেকে আনা হয়েছে গোল্ড’স জিমের যাবতীয় সরঞ্জাম। আভিজাত্য ও চাকচিক্যে ভরা এই সরঞ্জামগুলো অভিজাত রোলস রয়েস গাড়ির সঙ্গে তুলনা করা চলে। লিমিটেড এডিশন হলেও যেটার মান অনেক উঁচুতে। এমন সরঞ্জাম যে কারোর নজর কাড়তে বাধ্য করবে। এখানে একসঙ্গে জিম সেশন করতে পারবে অন্তত ৮০০ জন।

দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, আয়তন ও আভিজাত্যে এশিয়ার মধ্যে এটি অন্যতম সেরা জিম সেন্টার।

এই স্থাপনা তিনটি ফ্লোরে ভাগ করা। নিচতলায় অভ্যর্থনা কক্ষের সঙ্গে থাকছে ক্যাফেটেরিয়া। ডান পাশে ১০০ মিটারের সুইমিং পুল। দ্বিতীয় তলার পুরোটাই নারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। তৃতীয় তলায় কার্ডিও এবং চতুর্থ তলায় ট্রেনিং জোন, যেখানে আছে স্কোয়াট র‌্যাক উইথ আ পুলআপ বার, অলিম্পিক বারবেল, ওয়েট প্লেটস, ফ্ল্যাট বেঞ্চ, ডাম্বেল, স্যান্ড ব্যাগ, রানিং মেশিন, রেসিস্ট্যান্ট ব্র্যান্ডসহ অন্যান্য যন্ত্রপাতি। এখানকার বাড়তি আকর্ষণ হিমালয়ান সল্ট বাথ। যে রুমে গিয়ে শ্বাস নিলে ফুসফুস পরিষ্কার করবে। যাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য সল্ট বাথ ভীষণ কার্যকরী। জিমে ওয়ার্ক আউট করে সতেজ হতে পাশের পুলেই নেমে পড়তে পারবেন যেকোনো সদস্য। ২১ জন দক্ষ ট্রেইনার দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই জিম সেন্টার। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও দক্ষ ট্রেনার থাকলেই তো চলবে না, দিতে হবে উন্নত মানের সেবা। যেটা ছিল বসুন্ধরা গ্রুপের প্রথম ও একমাত্র চাহিদা। সেই চাহিদা মেটাতে গোল্ড’স জিম নিরন্তরভাবে কাজ করে চলেছে।

বৃহৎ এই জিম দেখে অবাক কনটেন্ট ক্রিয়েটররা। কনটেন্ট ক্রিয়েটর সানজিদা রহমান বলেন, ‘আমি তো প্রথম দেখাতেই অবাক হয়েছি। এত বড় জিম! সব কিছু আছে এখানে। জিম করতে এসে সুইমিং, স্পা, বাথ—সব পাচ্ছি এখানে। আমাদের জন্য খুবই ভালো হবে। বসুন্ধরা গ্রুপকে ধন্যবাদ এই জিম তৈরির জন্য।’ কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে নতুন পথচলার কারণ হিসেবে গোল্ড’স জিমের অপারেশনস ও মার্কেটিং ম্যানেজার আনিসুল ইসলাম ববি বলেছেন, ‘ট্রাভেল ব্লগার হোক, ফুড হোক, ফিটনেস, লাইফস্টাইল কিংবা মেকআপ ব্লগার—ফিটনেস কিন্তু সবার জন্য। আমরা একেকজন একেক ব্লগারকে অনুসরণ করি। তাই আমরা সব ধরনের কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে নিয়েছি। সে ক্ষেত্রে সব ধরনের মানুষের কাছে আমরা গোল্ড’স জিমের খবর পৌঁছে দিতে পারব।’

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

সংশোধন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের করা টেলিকম নীতিমালা

প্রকাশিত :  ১২:০৮, ১২ এপ্রিল ২০২৬

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রণীত ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫’  অংশীজনদের ব্যাপক আপত্তি ও দেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, তথ্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মিলে একটি ক্লাস্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নীতিমালা সংশোধনের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত এই নীতিমালায় টেলিকম খাতের লাইসেন্সগুলোকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হলেও এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এই নীতিমালাকে একতরফা এবং বড় কোম্পানিগুলোর স্বার্থরক্ষাকারী হিসেবে অভিহিত করে এর আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

নীতিমালাটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোবাইল অপারেটরদের বিদেশি মালিকরা চাইলে গ্রাহক পর্যায়ে সেবার পাশাপাশি টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক নির্মাণের মতো অবকাঠামো খাতেও বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একই ধরনের সুবিধা দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়নি। 

এমনকি টাওয়ার বা এনটিটিএন লাইসেন্সধারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন ক্যাবলসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য পরিষেবা খাতে লাইসেন্স না দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক নীতির কারণে দেশি ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো বড় টেলিকম জায়ান্টদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাংলাদেশের টেলিকম খাতের মোট রাজস্বের ৮০ শতাংশই বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের দখলে। বাকি ২০ শতাংশ রাজস্বের জন্য ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা এবং অবকাঠামো খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো লড়াই করছে। ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সুমন আহমেদ সাবির এবং সামিট কমিউনিক্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলামের মতে, মোবাইল অপারেটররা যদি সরাসরি ফাইবার ও অবকাঠামো খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে, তবে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এনআইসিএসপি) ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। 

এমনকি ব্রডব্যান্ড সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি-র সভাপতি আমিনুল হক দাবি করেছেন, নীতিমালায় মোবাইল অপারেটরদের বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।

রাজনৈতিক মহলেও এই নীতিমালা নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, নীতিমালায় নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই এবং এটি বড় কোম্পানিগুলোকে অন্যায্য সুযোগ দিচ্ছে। 

এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলমও যৌক্তিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পুরো নীতিমালা ঢেলে না সাজিয়ে যেসব সুনির্দিষ্ট ধারায় সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা উত্তম হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালা সংশোধনের এই আশ্বাস টেলিকম খাতের দেশি বিনিয়োগকারী ও ছোট উদ্যোক্তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর