img

চলে গেলেন সিলেটের আরেক কিংবদন্তি ফটবলার

প্রকাশিত :  ১১:২৭, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 চলে গেলেন সিলেটের আরেক কিংবদন্তি ফটবলার

চলে গেলেন সিলেটের আরেক কিংবদন্তি ফটবলার রনজিৎ দাস। বিদায় নিলেন সোমবার ভোরে। শেষ হলো একটি যুগের।

সিলেটের নির্জন পাহাড়ি রাস্তার ঢালে, নিজের প্রিয় \'কমলাকান্ত ভবন\' শূন্য করে চিরতরে চোখ বুজলেন ৯৩ বছর বয়সী কিংবদন্তি গোলকিপার রণজিৎ দাস। সকাল ৬ টা ৫৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ফেলেছেন সিলেটের একটি হাসপাতালে।

যে মানুষটি পঞ্চাশের দশকে ঢাকার মাঠ মাতিয়েছেন ফুটবল-হকি খেলে, তিনি গত কয়েক বছর ধরে ছিলেন বড় বেশি নিঃশব্দ। স্মৃতি হারিয়েছিলেন, কথাও বলতে পারতেন না।

সিলেটের করের পাড়ায় রণজিৎ দাসের বাড়িটিতে মানুষের আনাগোনা ছিল সব সময়। গত কয়েক বছর সেই কোলাহলের মধ্যে নীরবে বসে থাকতেন তিনি। অথচ মাঠের রণজিৎ দাস ছিলেন এর উল্টো। ১৯৫৫ সালে ইস্পাহানি ক্লাব দিয়ে ফুটবল যাত্রা শুরু, তারপর আজাদ স্পোর্টিংয়ের সেই সোনালী দিন। ১৯৫৮ সালে তাঁর অধিনায়কত্বেই আজাদ স্পোর্টিং জিতেছিল লিগ শিরোপা।

মোহামেডানের সাদা-কালো জার্সিতেও ছড়িয়েছেন মুগ্ধতা। ১৯৫৭ সালে কলকাতা মোহামেডানের হয়ে অল ইন্ডিয়া ডুরান্ড কাপে খেলেছেন। তাঁর খেলার ফর্দ করতে গেলে তা সহজে শেষ হবে না। খেলা ছেড়ে হয়েছেন কোচ। আজাদ স্পোর্টিং ফুটবল দলকে কোচিং করিয়েছেন বেশ কয়েক বছর। আজ যখন ক্রীড়াঙ্গন একের পর এক নক্ষত্র হারাচ্ছে, তখন রণজিৎ দাসের চলে যাওয়া সেই শূন্যতা আরও বাড়িয়ে দিল।

১৯৩২ সালের ২৯ অক্টোবর জন্ম। ছিলেন \'মাল্টি-ট্যালেন্টেড\' ক্রীড়াবিদ। ফুটবল থেকে হকি—সবখানেই ছিল তাঁর পদচারণা। পূর্ব পাকিস্তান ফুটবল দলের গোলপোস্ট আগলেছেন নিষ্ঠার সঙ্গে। পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন তরুণ গোলকিপার রণজিৎ দাস। দাপিয়ে হকি খেলেছেন ষাটের দশকে।

তবে মনের এক কোণে আজীবন একটা ক্ষত বয়ে বেড়িয়েছেন তিনি। উচ্চতা কিছুটা কম হওয়ার কারণে পাকিস্তান জাতীয় ফুটবল দলে সুযোগ পাননি। আক্ষেপ করে একবার বলেছিলেন, \'উচ্চতা কম ছিল বলেই হয়তো হলো না।\'

তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার, প্রথম আলো ক্রীড়া পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরষ্কার পেয়েছেন।

শেষ জীবনে স্ত্রী রেখা দাসই ছিলেন তাঁর অবলম্বন। যে মানুষটি এক সময় মাঠের সব অজানা গল্প অনর্গল বলে যেতেন, নিজেকে বলতেন ‘টেলিগ্রাম যুগের মানুষ’, সেই মানুষটি শেষ সময়ে এসে নির্বাক হয়ে গিয়েছিলেন। ২০২৪ সালে কিংবদন্তি জাকারিয়া পিন্টু চলে গেছেন, তার আগে জহিরুল হক, আর আজ রণজিৎ দাস। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের মহীরুহগুলো একে একে হারিয়ে যাচ্ছেন।

সিলেটের সেই পাহাড়ি রাস্তার ঢালে এখন আর কেউ ফুটবল-হকির গল্প শোনার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে না। রণজিৎ দাস নেই, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া বীরত্বগাথা এদেশের ফুটবলের ইতিহাসের পাতায় সোনালী অক্ষরে লেখা থাকবে।

img

নবীগঞ্জে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা করায় যুক্তরাজ্য প্রবাসীর কারাদণ্ড

প্রকাশিত :  ১১:৩২, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের একটি ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ব্যালট পেপার ছেড়ার অভিযোগে গোলাম রসুল নামের এক প্রবাসীকে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের মোস্তফাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন জানান, গোলাম রসুল ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে ভেতরের পরিবেশ নিয়ে আপত্তি তোলেন। এক পর্যায়ে তিনি ভোট দেবেন না বলে একটি ব্যালট পেপার ছিঁড়ে ফেলেন। খবর পেয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গেও ধস্তাধস্তি করেন তিনি।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ব্যালট পেপার নষ্ট করার দায়ে তাকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায় কার্যকর করতে তাকে হবিগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গোলাম রসুল ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আহাদুর রহমানের ছেলে এবং ইংল্যান্ড প্রবাসী।

সিলেটের খবর এর আরও খবর