img

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত

প্রকাশিত :  ০৭:৫৬, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নরসিংদীতে দুপক্ষের সংঘর্ষ, গুলিতে স্কুল শিক্ষার্থী নিহত

নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় গোষ্ঠীগত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। 

আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এসব বিরোধকে কেন্দ্র করে এর আগেও একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর জেরে উভয়পক্ষের নারীসহ অন্তত আটজন আহত হন এবং বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এলাকার এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন এরশাদ মিয়া। এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চাইনা গুলি ছোড়েন। এতে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থী মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।

এ ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।  

নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, সকালে আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। তখন হঠাৎ গুলি এসে লাগে। আমরা কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নই। যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিম নামে এক কিশোরকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা করে দেখা যায় তার শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন রয়েছে এবং গুলিটি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

রায়পুরা থানার ওসি মো. মুজিবুর রহমান নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। 

img

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের মানসিকতায় নীরব পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ১১:২৮, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: দেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বাস্তবতায় একটি বিষয় ক্রমেই আলোচনায় উঠে আসছে—সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোর ভোটের আচরণে সূক্ষ্ম কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত একটি ধারণা ছিল, এসব এলাকার ভোটাররা প্রায় স্থিরভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের প্রতিই সমর্থন জানিয়ে আসেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনের বিভিন্ন কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেই একমুখী প্রবণতা ধীরে ধীরে বহুমুখী রূপ নিচ্ছে।

সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে এবার ভোটের ফলাফলে বৈচিত্র্য লক্ষ করা গেছে। কোথাও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে কাছাকাছি ব্যবধানে, আবার কোথাও পূর্বপরিচিত সমীকরণের বাইরে গিয়ে নতুন রাজনৈতিক পছন্দের প্রতিফলন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি হঠাৎ কোনো পরিবর্তন নয়; বরং দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রত্যাশা, নিরাপত্তা-বোধ, উন্নয়নচাহিদা এবং রাজনৈতিক আস্থার ধীর রূপান্তরের দৃশ্যমান প্রকাশ।

অতীতে সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট ধারায় অবস্থান করলেও বাস্তবে ভিন্নমতের উপস্থিতি একেবারে অনুপস্থিত ছিল না—তবে সেই মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় তা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতো না। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, যোগাযোগের বিস্তার, স্থানীয় নেতৃত্বের সক্রিয়তা এবং উন্নয়ন-সংক্রান্ত প্রত্যাশা বৃদ্ধির ফলে ভোটারদের সিদ্ধান্ত আরও স্বাধীন ও বিচিত্র হয়ে উঠছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, কোনো জনগোষ্ঠীর ভোটের আচরণ স্থির থাকে না; সময়, অভিজ্ঞতা এবং বাস্তবতার সঙ্গে তা পরিবর্তিত হয়। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা কাজ করছে। নিরাপত্তা, মর্যাদা, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ, শিক্ষা ও সামাজিক সম্প্রীতির মতো বিষয়গুলো এখন ভোটের সিদ্ধান্তে আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। ফলে ঐতিহ্যগত সমর্থনের কাঠামো ধীরে ধীরে শিথিল হয়ে বাস্তবভিত্তিক পছন্দের জায়গা তৈরি হচ্ছে।

এই পরিবর্তন রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। কেবল ঐতিহাসিক সমর্থনের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর বাস্তব চাহিদা, অধিকারবোধ এবং উন্নয়ন প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়াই ভবিষ্যৎ রাজনীতির প্রধান শর্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় আস্থা, নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আরও বেশি গুরুত্ব পাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সংখ্যালঘু ভোটের মানসিকতায় যে ধীর পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করে। ভোটারদের এই ক্রমবিবর্তিত অবস্থান ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে—যেখানে পরিচয়ের চেয়ে বাস্তব প্রত্যাশাই হয়ে উঠবে সিদ্ধান্তের প্রধান ভিত্তি।