img

সুনামগঞ্জ-৪: বিএনপির ১৪ নেতা বহিষ্কার

প্রকাশিত :  ০৯:৪০, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 সুনামগঞ্জ-৪: বিএনপির ১৪ নেতা বহিষ্কার

সুনামগঞ্জ-৪ আসন (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) থেকে বিএনপির বিভিন্ন ইউনিটের ১৪ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ ও সদস্যসচিব আবদুল হক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির অধীন বিভিন্ন ইউনিটের ১৪ জন নেতা-কর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জানা যায় দলীয় প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই বহিষ্কারাদেশ প্রদান করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

বহিষ্কৃতরা হলেন সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আ স ম খালিদ, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আইনজীবী আমিরুল হক, সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মইনুল হক, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য ইছাক আলী, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য আবদুল মজিদ, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বকুল মিয়া, একই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক রমজান আলী, সদস্য উছমান গণি, সুকেশ দেবনাথ ও বুরহান উদ্দিন, একই উপজেলার ধনপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন, ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মোজাম্মেল হক, এই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সৈনিক দলের সাবেক সদস্যসচিব জিল্লুর রহমান তালুকদার।

এর আগে একই অভিযোগে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাজু আহমেদকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য,এই আসনে দলের প্রার্থী হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম। এখানে মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সাবেক সদস্য দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন। পরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতালের বাইরে নির্মিত একমাত্র শৌচাগারটি ঘটা করে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেকগুলোর দরজা ভাঙা, পরিবেশ নোংরা এবং তীব্র পানি সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে নির্মিত শৌচাগারটি দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসা লোকজনের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের ভেতরে থাকা অধিকাংশ শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। অধিকাংশের দরজা

ভাঙা থাকায় এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিয়ে অথবা বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে ভেতরে যেতে হচ্ছে। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাহিরের শৌচাগারটি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন খোলা ছিল, এখন বন্ধ। ভেতরের টয়লেটে যাওয়া মানে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে টেকা দায়। পানিও সব সময় পাওয়া যায় না। দরজার অবস্থা এতই খারাপ যে কেউ ওপাশে না দাঁড়ালে ইজ্জত থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর প্রচুর চাপ। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক পাশ পরিষ্কার করলেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপব্যবহার রোধে বাহিরের শৌচাগার তালাবদ্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা যখন মনে করেন প্রয়োজন, তখনই কেবল এটি খোলা হয়। তবে সাধারণ রোগীদের জন্য কেন এটি সবসময় উন্মুক্ত নয়, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় বলেন, বাহিরের শৌচাগারগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়।সবসময় খোলা রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চাহিদা বাড়লে আমরা এগুলো খোলার ব্যবস্থা করি। আর ভেতরের শৌচাগারগুলো নিয়মিত। রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।আমরা দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং জনবলের অজুহাত দেখিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জিইয়ে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর