img

স্মার্টফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হওয়া ঠেকাবে '২০-৮০' ফর্মুলা

প্রকাশিত :  ১০:১১, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্মার্টফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হওয়া ঠেকাবে '২০-৮০' ফর্মুলা

স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহারকারীদের জন্য পরিচিত ভোগান্তি হচ্ছে চার্জ দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই ব্যাটারি শেষ হয়ে যাওয়া । শতভাগ চার্জ নিয়ে বের হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই চার্জ নেমে আসে অর্ধেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যার বড় কারণ ব্যবহারকারীদের কিছু ভুল চার্জিং অভ্যাস। সঠিক নিয়ম মেনে ডিভাইস চার্জ করলে ব্যাটারির আয়ু বাড়ানো সম্ভব।

চার্জিং সাইকেল ও ব্যাটারির স্থায়িত্ব

টেক বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, স্মার্টফোনে ব্যবহৃত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির গড় আয়ু প্রায় ৫০০ চার্জিং সাইকেল, যা সাধারণত দেড় বছরের কাছাকাছি। শূন্য শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত একবার চার্জ হওয়াকেই একটি পূর্ণ চার্জিং সাইকেল বলা হয়। এ সাইকেল যত দ্রুত শেষ হয়, ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতাও তত কমে যায়।

কী এই ‘২০–৮০ শতাংশ’ নিয়ম

টেক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যাটারিকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে হলে চার্জের মাত্রা ২০ শতাংশের নিচে নামতে দেওয়া ঠিক নয়, আবার নিয়মিত ১০০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করাও ক্ষতিকর। সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি হলো চার্জ ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে রাখা। সাধারণত ৮০–৮৫ শতাংশ হলেই চার্জার খুলে ফেললে ব্যাটারির ওপর চাপ কম পড়ে।

অতিরিক্ত তাপ এড়িয়ে চলুন

চার্জিংয়ের সময় ফোন বা ল্যাপটপ বেশি গরম হলে ব্যাটারির ভেতরের রাসায়নিক উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ভারী কাজ করার সময়, রোদে বা গরম পরিবেশে ডিভাইস চার্জ দেওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে ভালো মানের চার্জার ও নির্ভরযোগ্য পাওয়ার স্ট্রিপ ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ।

চার্জ দীর্ঘস্থায়ী রাখতে সহজ টিপস

ব্যাটারির ব্যাকআপ বাড়াতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি সহজ অভ্যাস অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন—

    স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা কম রাখা

    প্রয়োজন না হলে লোকেশন (জিপিএস), ব্লুটুথ ও ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখা

    অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন সীমিত করা

    ফোনে ‘লো পাওয়ার মোড’ ব্যবহার করা


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন

img

আইআরজিসির হয়ে বিলিয়ন ডলারের শ্যাডো ব্যাংকিং চালাচ্ছে দুই ব্রিটিশ কোম্পানি

প্রকাশিত :  ০৯:৪৯, ০৮ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:০২, ০৮ মার্চ ২০২৬

ব্রিটেনের দুটি কোম্পানি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বৈশ্বিক ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ বা সমান্তরাল ব্যাংকিং কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।

অভিযোগ উঠেছে, লন্ডনে নিবন্ধিত এই কোম্পানি দুটি মূলত একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জের ফ্রন্ট কোম্পানি হিসেবে কাজ করছে, যারা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আইআরজিসি সংশ্লিষ্ট প্রায় ১০০ কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে।

তদন্তে দেখা গেছে, ‘জেডসেক্স এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedcex Exchange Ltd) এবং ‘জেডক্সিওন এক্সচেঞ্জ লিমিটেড’ (Zedxion Exchange Ltd) নামের এই প্রতিষ্ঠান দুটি লন্ডনের কভেন্ট গার্ডেন এলাকার একটি বিলাসবহুল ভবনের ঠিকানা ব্যবহার করে নিবন্ধিত। নথিপত্রে এদের ব্যবসা ‘আর্থিক ব্যবস্থাপনা’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে সেখানে কোনো ভৌত অস্তিত্ব নেই। 

মার্কিন অর্থ দপ্তরের বিদেশি সম্পদ নিয়ন্ত্রণকারী অফিস (OFAC) চলতি বছরের শুরুতেই কোম্পানি দুটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জানিয়েছে, জেডসেক্স ৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন করেছে, যার বড় অংশই আইআরজিসি-র সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এই কোম্পানি দুটি ইরানি ধনকুবের বাবাক জানজানির সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। মানবাধিকার লঙ্ঘনে অর্থ সহায়তার দায়ে জানজানির ওপর আগেই ব্রিটিশ সরকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ব্লকচেইন গোয়েন্দা সংস্থা টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইআরজিসি নিয়ন্ত্রিত ওয়ালেট ও অফশোর মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে শত কোটি ডলারের লেনদেন সম্পন্ন করেছে। ওএফএসি-র মতে, কোম্পানিগুলো সরাসরি আইআরজিসি-কে আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও বস্তুগত সহায়তা প্রদান করে আসছিল।

এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের ওপর আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার চাপ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের শ্যাডো ন্যাশনাল সিকিউরিটি মিনিস্টার অ্যালিসিয়া কার্নস প্রধানমন্ত্রীকে অভিযুক্ত করে বলেছেন, ব্রিটিশ মাটি ও আইন ব্যবহার করে বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক একটি সংগঠনকে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি অবিলম্বে এই কোম্পানি দুটি এবং আইআরজিসি-র ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, সরকারের এই দ্বিধাদ্বন্দ্ব ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে সহায়তা করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০১৮ সালে সুইফট ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ইরান বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই দেশটি ‘হাওলা’ পদ্ধতির বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে সমান্তরাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তারা বিশ্বজুড়ে তাদের সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন নিশ্চিত করছে।

যদিও কোম্পানি দুটির নিবন্ধিত ঠিকানার সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিএসকিউ গ্রুপ’ জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানার পর তারা কোম্পানি দুটির সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর এই মুহূর্তে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর