img

শ্রীমঙ্গলে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

প্রকাশিত :  ০৬:২৫, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবে সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাওলানা শেখ নূরে আলম বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জকে আধুনিক, সুশৃঙ্খল ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলবেন। তিনি বলেন, \"আমাদের লক্ষ্য একটিই—শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মানুষের কল্যাণ।\"

প্রার্থী তার ইশতেহারে ২২টি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

সড়ক, সেতু, কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার,

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা,

কৃষি ও মৎস্য খাতের আধুনিকীকরণ, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও প্রশিক্ষণ,

পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও স্থানীয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি,

নারী শিক্ষা, নিরাপত্তা এবং কুটির শিল্পে সহায়তা,

চা শ্রমিক ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন,

কমলগঞ্জে মেডিক্যাল কলেজ, শ্রীমঙ্গলে চা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও নিলাম কেন্দ্র আধুনিকীকরণ,

শমসেরনগর বিমানবন্দর পুনরায় চালু,

প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন, রেমিট্যান্স সুবিধা এবং দেশে ফেরার পুনর্বাসন ও বিনিয়োগে সহায়তা ইত্যাদি।

মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী বলেন, “মৌলভীবাজার-৪-এর জনগণ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত, আধুনিক ও সমৃদ্ধশালী এলাকায় বসবাস করবে। আমরা সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সমানভাবে নিরাপদ ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করব।”

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শৌচাগারে ঝুলছে তালা, ভোগান্তিতে রোগীরা

প্রকাশিত :  ১০:৪৪, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৪২, ০৫ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। হাসপাতালের বাইরে নির্মিত একমাত্র শৌচাগারটি ঘটা করে উদ্বোধনের কয়েক মাস পরই তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা এটি ব্যবহার করতে পারছেন না।

এদিকে হাসপাতালের ভেতরের শৌচাগারগুলোর অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। অনেকগুলোর দরজা ভাঙা, পরিবেশ নোংরা এবং তীব্র পানি সংকট রয়েছে। এসব কারণে রোগী ও তাদের স্বজনরা শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে মারাত্মক ভোগান্তির মুখে পড়ছেন।

সরেজমিনে বুধবার (৪ মার্চ) হাসপাতাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরে নির্মিত শৌচাগারটি দীর্ঘ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে রোগী নিয়ে আসা লোকজনের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। হাসপাতালের ভেতরে থাকা অধিকাংশ শৌচাগারই ব্যবহারের অনুপযোগী। নারী রোগীদের জন্য নির্ধারিত শৌচাগারগুলোর অবস্থা সবচেয়ে বেশি নাজুক। অধিকাংশের দরজা

ভাঙা থাকায় এক রোগীকে অন্যজনের সহায়তা নিয়ে অথবা বাইরে লোক দাঁড় করিয়ে ভেতরে যেতে হচ্ছে। এমনকি ভিআইপি কেবিনের বাথরুমগুলোর অবস্থাও বেহাল। দীর্ঘ দিন ধরে এই অবস্থা চললেও কোনো সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।

হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সুমন মিয়া ও নুরুল হক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাহিরের শৌচাগারটি উদ্বোধনের পর কয়েক দিন খোলা ছিল, এখন বন্ধ। ভেতরের টয়লেটে যাওয়া মানে এক ধরনের মানসিক যন্ত্রণা ভোগ করা। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর তীব্র দুর্গন্ধে সেখানে টেকা দায়। পানিও সব সময় পাওয়া যায় না। দরজার অবস্থা এতই খারাপ যে কেউ ওপাশে না দাঁড়ালে ইজ্জত থাকে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, বর্তমানে হাসপাতালে রোগীর প্রচুর চাপ। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় পুরো হাসপাতাল এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এক পাশ পরিষ্কার করলেই অন্য পাশ নোংরা হয়ে যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অপব্যবহার রোধে বাহিরের শৌচাগার তালাবদ্ধ রাখা হয়। কর্মকর্তারা যখন মনে করেন প্রয়োজন, তখনই কেবল এটি খোলা হয়। তবে সাধারণ রোগীদের জন্য কেন এটি সবসময় উন্মুক্ত নয়, সে প্রশ্নের কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কূপেশ রঞ্জন রায় বলেন, বাহিরের শৌচাগারগুলো প্রয়োজন সাপেক্ষে খুলে দেওয়া হয়।সবসময় খোলা রাখলে এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। চাহিদা বাড়লে আমরা এগুলো খোলার ব্যবস্থা করি। আর ভেতরের শৌচাগারগুলো নিয়মিত। রক্ষণাবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়, তবে জনবল সংকটের কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।আমরা দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।

রক্ষণাবেক্ষণের অজুহাতে সরকারি বরাদ্দে নির্মিত শৌচাগারে তালা ঝুলিয়ে রাখা এবং জনবলের অজুহাত দেখিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ জিইয়ে রাখায় স্থানীয় সচেতন মহল ও রোগীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত এই সংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

সিলেটের খবর এর আরও খবর