img

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের খেজুর গাছ প্রতীকের চার প্রার্থীসহ বিএনপি–জমিয়ত জোটের সকল প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান

প্রকাশিত :  ০৭:৪৩, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৬, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের খেজুর গাছ প্রতীকের চার প্রার্থীসহ বিএনপি–জমিয়ত জোটের সকল প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান

লন্ডন মহানগর জমিয়তের উদ্যোগে “বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আমাদের ভূমিকা” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে লন্ডন মহানগর শাখার আয়োজনে উক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লন্ডন মহানগর জমিয়তের সভাপতি মাওলানা আশফাকুর রহমান-এর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ওয়াইজ ও গবেষক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট মহানগরের সহ-সভাপতি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইউকে জমিয়তের সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ জমিয়তের সহ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ, ইউকে জমিয়তের সহ-সভাপতি হাফিজ হোসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, এবং ইউকে জমিয়তের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ।

সভায় জমিয়তের খেজুর গাছ প্রতীকের চারজন প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে বলা হয়—

সিলেট–০৫ আসনে জমিয়ত–বিএনপি জোটের মনোনীত প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, নীলফামারী–০১ আসনে মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দি

এবং নারায়ণগঞ্জ–০৪ আসনে যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমীসহ বিএনপি–জমিয়ত জোটের সকল প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

ইউকে জমিয়ত নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমে জনগণের সমর্থনে বিএনপি–জমিয়ত জোটের প্রার্থীরা আসন্ন নির্বাচনে বিজয় অর্জন করবেন।

সভায় বক্তারা বলেন, আমরা যে যেখানে আছি সেখান থেকেই ধানের শীষ ও খেজুর গাছ প্রতীকের প্রার্থীদের সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করে যাবো—এটাই আজকের অঙ্গীকার হওয়া উচিত। বক্তারা আরো বলেন, জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির ঐক্য না থাকলে আজ দেশের অস্তিত্ব মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তো। দেশ ও জাতিকে রক্ষা করতে হলে আপামর জনসাধারণের সমর্থন ও শক্তি কে কাজে লাগিয়ে এ ঐক্য সর্বাবস্থায় ধরে রাখতে হবে। দেশ গঠন ও উন্নয়নের জন্য এই ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা এবং বিএনপি–জমিয়ত জোটের প্রতিটি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে জোটের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্য অর্জনে তৃণমূল থেকে কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সকল নেতাকর্মীকে সততা, নিষ্ঠা ও ঐক্যের সঙ্গে মাঠে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান তাঁরা।

তাঁরা আরও বলেন, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা, ভোটারদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখা এবং যেকোনো অনিয়ম প্রতিরোধে আইনানুগ ও শান্তিপূর্ণ ভূমিকা পালন করা নেতাকর্মীদের অন্যতম দায়িত্ব। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চারজন প্রার্থীসহ বিএনপি–জমিয়ত জোটের সকল প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আব্দুল হামিদ খান হেভেন—সাবেক যুব বিষয়ক সম্পাদক, ইউকে বিএনপি; মোঃ শাহজাহান—সহ-সভাপতি, যুক্তরাজ্য যুবদল; আব্দুস সামাদ—সহ-সভাপতি, যুক্তরাজ্য যুবদল; শিব্বীর আহমদ সুমন—যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাজ্য যুবদল; মোঃ হাসান আহমদ—বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাজ্য যুবদল; সৈয়দ মামুন আহমদ—বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, যুক্তরাজ্য যুবদল; যুবদল নেতা মোঃ মঈনুল ইসলাম; ইউকে জমিয়তের উপদেষ্টা আলহাজ্ব খালিছ মিয়া; লন্ডন মহানগর জমিয়তের জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল হাসান; লন্ডন মহানগর জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মাছুম আহমদ; লন্ডন মহানগর জমিয়তের প্রচার সম্পাদক হাফিজ মাওলানা আব্দুল হাই প্রমুখ।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে লড়ছেন ৭ বাংলাদেশি

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ০৫ মার্চ ২০২৬

অর্ধডজনের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন ফ্রান্সের আসন্ন মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে ।

ফ্রান্সের আসন্ন মিউনিসিপ্যাল নির্বাচনে অর্ধডজনের বেশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন। প্রথম দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১৫ মার্চ এবং প্রয়োজনে দ্বিতীয় দফা হবে ২২ মার্চ। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ কমিউনিটিতে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনীতিতে তাদের শক্ত উপস্থিতির বার্তা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় কাউন্সিলে বাংলাদেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলে শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের বাস্তব সমস্যাগুলো সরাসরি তুলে ধরা সহজ হবে।

প্রার্থীরা কে কোথায় লড়ছেন?

রাব্বানী খান – প্যারিসের শহরতলি এস্তা পৌরসভা থেকে পুনরায় কাউন্সিলর পদে প্রার্থী। ২০২০ সালে তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি হিসেবে জয় পান। দীর্ঘদিন ধরে ফরাসি ভাষা শিক্ষা ও প্রশাসনিক সহায়তার মাধ্যমে কমিউনিটিতে পরিচিত। এবারের নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র আজেদিন তাইবি প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এনকে নয়ন – ইল-দু-ফ্রঁস অঞ্চলের ভিলনভ-সুর-সেন এলাকা থেকে ‘ভিন্যু সলিদেয়ার এ পপুলেয়ার’ প্যানেল থেকে প্রার্থী। নিজ প্রতিষ্ঠিত ‘সাফ’ সংস্থার মাধ্যমে বিনা মূল্যে কমিউনিটি সেবা দিয়ে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন। ডেপুটি মেয়র পদেও তিনি প্রার্থী। নয়ন বলেন, ‘বাংলাদেশিরা এখন শুধু প্রবাসী নয়, ফ্রান্সের সক্রিয় নাগরিক হিসেবে সমাজ গঠনে অংশ নিতে প্রস্তুত।’

আকাশ বড়ুয়া – উদ্যোক্তা আকাশ বড়ুয়া লা কুরনভ শহরে স্থানীয় কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত নাদিয়া ছাবুন প্যানেল থেকে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। তিনি মনে করেন, মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার করা সম্ভব।

আব্দুস সামাদ – ভিলনভ-সুর-সেন এলাকা থেকে ‘ভিন্যু সলিদেয়ার এ পপুলেয়ার’ প্যানেল থেকে প্রার্থী। নির্বাচিত হলে কমিউনিটির কল্যাণ, ন্যায়বিচার ও রাজনীতিকে অগ্রাধিকার দেবেন বলে জানিয়েছেন।

নাসির উদ্দীন ভুঁইয়া – লা কুরনভ এলাকায় মেয়র পদপ্রার্থী ওমারো দোকুরু প্যানেল থেকে কাউন্সিলর হিসেবে লড়ছেন। অভিবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের প্রতিনিধি হওয়ার লক্ষ্যেই তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।      

জুবাইদ আহমেদ – ফ্রান্স ন্যাশনাল ক্রিকেট টিমের খেলোয়াড় জুবাইদ আহমেদ এভ্রি-সুর-সেন এলাকা থেকে ফ্রন্ট পপুলেয়ার দলের প্যানেলভুক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে তার অংশগ্রহণ নজর কাড়ছে।

সরুফ সোদিওল – ২০২০ সালের নির্বাচনে সাঁ-দেনি এলাকা থেকে আলোচনায় আসেন। এবারের নির্বাচনে তিনি বর্তমান মেয়র ম্যাথিউ হানোতিন প্যানেলভুক্ত হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, ফ্রান্সে কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোট দেওয়া হয় না। ভোটাররা কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে নয়, বরং পুরো লিস্টের পক্ষে ভোট দেন। এই লিস্ট সাধারণত একজন মেয়র প্রার্থীর নেতৃত্বে গঠিত হয় এবং এতে একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকেন। প্রথম দফায় ৫০ শতাংশ ভোট পেলে সেই লিস্ট পায় অর্ধেক আসন ‘মেজরিটি বোনাস’ হিসেবে। বাকি আসনগুলো প্রপোরশনাল পদ্ধতিতে বণ্টন করা হয়। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে দ্বিতীয় দফা ভোট হয়। লিস্টের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত ও লিস্টে প্রার্থীদের ক্রম অনুযায়ী কাউন্সিলররা নির্বাচিত হন। পরে গঠিত পৌর পরিষদের সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে মেয়র হিসাবে নির্বাচন করেন। অর্থাৎ মেয়রও সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না।

কমিউনিটি এর আরও খবর