img

এক গ্রাম থেকে এমপি হলেন ৩ জন

প্রকাশিত :  ০৬:১৯, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এক গ্রাম থেকে এমপি হলেন ৩ জন

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনেই জয়লাভ করেছেন চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের তিন কৃতি সন্তান। তারা তিনজনই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। 

গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে গহিরা গ্রামে বইছে আনন্দের বন্যা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সচরাচর এমন দৃশ্য দেখা যায় না।

এই তিন সাংসদ হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, তার ভাতিজা হুম্মাম কাদের চৌধুরী এবং আরেক জ্যেষ্ঠ নেতা প্রয়াত আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে সাঈদ আল নোমান। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান), চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) এবং চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনে তাদের এই বিজয়ে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এই আসনে তিনি মোট ১ লাখ ১২ হাজার ২৩৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী ইলিয়াছ নূরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ২৭ হাজার ১৪৬ ভোট। এছাড়া এই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহাজাহান মঞ্জু ২২ হাজার ১১৮ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন।

অন্যদিকে পাশের আসন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) থেকে নির্বাচিত হয়েছেন গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীরই ভাতিজা এবং যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী। চাচা-ভাতিজার এই যুগপৎ বিজয় গহিরা গ্রামের মানুষের আনন্দকে দ্বিগুণ করেছে। হুম্মাম কাদের চৌধুরী ১ লাখ ২৪২ ভোট পেয়ে তার বিজয় নিশ্চিত করেন। এই আসনে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩৯ হাজার ৪৮৫ ভোট।

শহরের প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, হালিশহর ও খুলশী) আসনেও ধানের শীষের জয়জয়কার। এই আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন গহিরা গ্রামের আরেক সন্তান সাঈদ আল নোমান। তিনি বিএনপির প্রয়াত জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের ছেলে। বাবার রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে সাঈদ আল নোমান ১ লাখ ২১ হাজার ৩৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪০৭ ভোট।


জাতীয় এর আরও খবর

img

ইরান-কুর্দিস্তান উত্তেজনা তৈরিতে মার্কিন গোয়েন্দা তৎপরতা, সিএনএন-এর বিস্ফোরক রিপোর্ট

প্রকাশিত :  ১১:৪৮, ০৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৬, ০৫ মার্চ ২০২৬

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ ইরানের ভেতরে গণঅভ্যুত্থান ঘটানোর লক্ষ্যে কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার উদ্দেশ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ইরাকে অবস্থানরত কুর্দি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এই পদক্ষেপটি মূলত ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় একটি বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির প্রচেষ্টার অংশ। তবে কুর্দিস্তানের বেশিরভাগ নেতা বলছেন, পূর্বের অভিজ্ঞতা সুখকর নয় এবং বর্তমানে আমাদেরকে কী টার্গেট নিয়ে আগাতে হবে তা একদমই পরিষ্কার নয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন; একদিন বলেন কুর্দি জনগণের মুক্তি, আরেকদিন ইরানে ক্ষমতার পালাবদল, বিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংসের কথা, আবার আরেক দিন ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধ করছে তাঁর বাহিনী! এর ভিত্তিতে কোনো পদক্ষেপ নিতে তারা রীতিমতো শংকিত। অন্যদিকে ইরান যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে কুর্দিদের যে, তারা সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেবে যদি তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়।

ইরান ও কুর্দি জনগণের মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস অত্যন্ত দীর্ঘ এবং জটিল। কুর্দিরা বিশ্বের বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী যাদের নিজস্ব কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র নেই। তারা ইরান, ইরাক, তুরস্ক এবং সিরিয়ার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে আছে।

১. ১৯৭৯ সালের বিপ্লব ও স্বায়ত্তশাসন: ১৯৭৯ সালে ইরানি বিপ্লবের পর কুর্দিরা আশা করেছিল যে নতুন ইসলামী প্রজাতন্ত্র তাদের আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান করবে। কিন্তু তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ খোমেনি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন, যার ফলে সশস্ত্র সংঘাত শুরু হয়।

২. সাদ্দাম হোসেন ও কুর্দিরা: ১৯৯০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে কুর্দিরা অনেক সময় বিভিন্ন শক্তির হয়ে লড়াই করেছে। তবে তারা বারবার বড় শক্তিগুলোর (যেমন যুক্তরাষ্ট্র) রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং পরে পরিত্যক্ত হয়েছে।

৩. মাহসা আমিনি ও সাম্প্রতিক গণজাগরণ: ২০২২ সালে কুর্দি বংশোদ্ভূত তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর ইরানে যে "নারী, জীবন, স্বাধীনতা" (Woman, Life, Freedom) আন্দোলন শুরু হয়, তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল কুর্দি অঞ্চলগুলো। ইরান সরকার এই বিক্ষোভকে বিদেশের মদদপুষ্ট 'বিচ্ছিন্নতাবাদী' আন্দোলন হিসেবে আখ্যা দেয় এবং কুর্দি অঞ্চলগুলোতে কঠোর সামরিক অভিযান চালায়।

বর্তমান পরিস্থিতি সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, সিআইএ এখন ইরানের ভেতরে একটি ছায়া যুদ্ধ বা প্রক্সি ওয়ার শুরু করতে চাচ্ছে। কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে তারা ইরানের পশ্চিম সীমান্তে একটি 'বাফার জোন' তৈরি করতে চায়, যা ইরান সরকারকে চাপে ফেলবে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও বড় যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

তথ্যসূত্র: নাতাশা বারট্রান্ড (Natasha Bertrand), অ্যালাইনা ট্রিন (Alayna Treene), এবং ক্লারিসা ওয়ার্ড (Clarissa Ward) [সিএনএন-এর মূল রিপোর্ট থেকে সংগৃহীত]।